ধর্মপাশা প্রতিনিধি
তায়িবা জান্নাত বুশরা প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যেতে একটি বাঁশের সাঁকু পাড়ি দিতে হয়। তাই তার বাবা সেনারুল হক নৌকায় করে প্রতিদিন বুশরাকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন। সেনারুল বুশরাকে নিয়ে সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে পৌঁঁছালেও বিদ্যালয়ের তালা খোলা হয় ঘন্টাখানেক পর। ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি বুশরাকে নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে অপেক্ষায় থাকেন। শুধু বুশরা নয় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরদেরও এভাবে অপেক্ষায় থাকতে হয়। আবার যতক্ষণ পর্যন্ত দূর থেকে বিদ্যালয়ে পতাকা উড়তে দেখা না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আসে না কোনো কোনো শিক্ষার্থী। পতাকা উত্তোলন মানে শিক্ষার্থীদের কাছে বিদ্যালয় খোলা হয়েছে- এমন সংকেত। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলছে ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের জাড়ারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।
শনিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিদ্যালয়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করে সেনারুল হক তার ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেন। ভিডিওতে দেখা যায় রুবি রাণী তালুদার নামের একজন সহকারী শিক্ষক সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে বিদ্যালয়ের প্রবেশ করেন। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন সন্তান সম্ভবা রুবি রাণী তালুকদারের বাড়ি বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী গ্রামে হওয়ায় কিছুটা দেরিতে হলেও নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে প্রায়ই উপজেলা সদরে অবস্থান করেন। ফলে তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে থাকেন না। আরেক সহকারী শিক্ষক শুভ দেবনাথের বাড়ি মধ্যনগর উপজেলার গলহা গ্রামে। তিনি প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। সেনারুল হক জানিয়েছেন, শুভ দেবনাথ দীর্ঘ দিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সিদ্দিকুর রহমান ও শুভ দেবনাথ বিদ্যালয়ে পৌঁছাননি। এ বিদ্যালয়ে ১৫১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
সহকারী শিক্ষক রুবি রাণী তালুকদার বলেন, ‘আগামী মাসে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাবো। তাই আমার বাবা প্রতিদিন আমাকে নিয়ে আসেন। আজ বাবার জরুরি কাজ থাকায় কিছুটা দেরিতে আসতে হয়েছে।’
সহকারী শিক্ষক শুভ দেবনাথ দুপুর ২টা ১৪ মিনিটে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে এসেছি। শুক্রবারে বাড়িতে সংসারের কাজ থাকে। তাই শুক্রবারই বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপায় নেই। (শনিবার) সকাল বেলা মধ্যনগর থেকে জামালগঞ্জের একটা ট্রলার আছে। ওই ট্রলারে গেলেও দেড়টা বেজে যায়। পোস্টিং দূরে হওয়ার কারণে সমস্যা। এমনিতে পুরো সপ্তাহ স্কুলে থাকি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে বলেন, ‘সকালের ট্রলার মিস করেছি। এর মধ্যে দুপুর আড়াইটা ছাড়া কোনো ট্রলার নেই। এখন সেই ট্রলারেই বিদ্যালয়ের দিকে রওনা দিচ্ছি। প্রায়ই দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয়। আর বিষয়টিতে স্থানীয়রা অনুপস্থিত হিসেবে দেখে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘তাঁরা (সিদ্দিকুর রহমান ও শুভ দেবনাথ) জানিয়েছেন সময়মতো ট্রলার ধরতে পারেননি। বিদ্যালয়ে না যাওয়ার ব্যাপারে দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।’