জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জ উপজেলায় এক সময়ের নিষ্ফলা নদীর চরের পতিত জমিতে এখন মরিচ, বেগুন ভূট্টাসহ নানা ধরনের সবজির চাষ হচ্ছে। সুরমা নদীর দুই পাড়ের পলি পড়া জমিতে এবার সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে অনুর্বর বালুময় জমিতে মরিচ চাষ করে উপজেলায় অসংখ্য পরিবার ইতিমধ্যে আর্থিক স্বচ্ছলতা পেয়েছেন। অথচ এসব চরের জমিতে ফসল হবে কোনদিন ভাবেনি কেউ।
উপজেলায় সদর ইউনিয়নের ফেনারবাক ইউনিয়নে জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক মরিচ চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। সুরমা নদী দুই পাড়ের বিভিন্ন চড়ে ৩৩০হেক্টর জমিত মরিচ চাষ হয়েছে। অনেক কৃষক ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছে। প্রচুর ফলন হওয়ায় কৃষকরা আনন্দিত। মৌসুমের শুরুতেই কাচামরিচ বিক্রি করে লাভবানর হয়েছেন তারা।
সরজমিনে জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কামিনীপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয় মরিচ চাষী জাকির হোসেন, ফাজিল মিয়া, মো. ওয়াহিদ গাওছাল আজমের সাথে। তারা জানান প্রত্যেকেই কয়েক বছর ধরে নদীর পাড়ে চরের জমিতে মরিচ চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। এক সময় এসব জমি পতিত ছিল। বর্তমানে পলি পড়ে এসব চরের জমি আমাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। প্রত্যেকেই কেউ খরচের দ্বিগুণ আবার কেউ ৩গুণ লাভবান হয়েছেন।
ভুইয়ার হাটি গ্রামের ফজলূল হক জানান, ৪ বিঘা জমি বর্গা রেখে মরিচ চাষ করেছি। প্রায় দুই লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪লক্ষ টাকার মরিচ বিক্রি হয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে আরও দুই লক্ষ টাকা বিক্রি করার আসা করছি। প্রথম অবস্থায় ৪ হাজার টাকা মন বিক্রি করেছি। বর্তমানে ১৩শত’ টাকা মন মরিচ বিক্রি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, মরিচ একটি মসলা জাতীয় ফসল। নদীর তীরবর্তী স্থানে প্রচুর পরিমানে মরিচ আবাদ হয়েছে। হাইব্রিড মরিচ আবাদের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকরাও আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছেন।