এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী লাউড়ের গড়ের পাশ্ববর্তী রাজারগাও গ্রামে প্রতি বছর চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে পূণ্য স্নানের জন্য কয়েক লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ ঘটে। এখানে ভক্তরা স্নান ও তর্পন করেন।
একই সাথে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৩৬০ আওলিয়ার অন্যতম সফর সঙ্গী হযরত শাহ্ আরেফিন (র.) বৃহৎ ওরস মোবারক অনুষ্ঠিত হয় একই সময়ে। দুই ধর্মের বৃহৎ দুইটি উৎসবকে ঘিরে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে সীমান্ত নদী যাদুকাটায় এবং সীমান্ত ঘেষা জনপদ লাউড়েরগর এলাকায়।
স্থানীয়ভাবে একই সময়ে দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে আসা পূন্যার্থীরা প্রতি বছরই চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া প্রদান, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহনের চালকগণের দ্বারা প্রতারণার শিকার হন। স্নান এবং শাহ্ আরেফিন (র.) ওরস উপলক্ষে উৎসবের ৩ দিন এবং আগে-পরে ৫ দিন সুনামগঞ্জ থেকে যাদুকাটা নদীর পাড় ও লাউড়েরগড় পর্যন্ত, একইভাবে মধ্যনগর থেকে লাউড়েরগড় পর্যন্ত, তাহিরপুর উপজেলার সুলেমানপুরে একই নদীর দুই খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হয়। বাদাঘাটের পাতারগাঁওয়ে সড়কের একটি অংশে চাঁদাবাজি হয়। বীরেন্দ্রনগর থেকে বড়ছড়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা আদায় হয়। কাউকান্দি বাজার এলাকায় কাঁচা রাস্তায় চাঁদা আদায়ের শিকার হন মোটরসাইকেল যাত্রীরা। সীমান্ত সড়ক দিয়ে আসা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনার কমলাকান্দার পুণ্যার্থীরা চাঁদাবাজদের বিভিন্ন জায়গায় বখরা দিয়েই পণাতীর্থ ও শাহ আরেফিন (র.) আস্তনায় ওরস এলাকায় পৌঁছেন।
তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুউল্লাহ বলেন,‘এবার পণতীর্থ উপলক্ষে মেলা ও গঙ্গাস্নান উৎসব এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার জন্য র্যাব মোতায়েন থাকবে। এছাড়া স্থানীয় পুলিশ, বিজিবিসহ মাজার কমিটির সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকবেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন,‘খেয়াঘাট এবং পরিবহন চালকদের হয়রানি রোধে প্রত্যেক এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও বিশেষ বিশেষ এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনীর লোকজন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।’
সুনামগঞ্জ ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন,‘ তাহিরপুর সীমান্ত এলাকায় দুটি বৃহৎ উৎসব এক সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার জন্য লাউড়েরগর সীমান্ত এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ বিজিবি ও চেকপোষ্ট মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে কেউ অবৈধভাবে ভারতে যেতে না পারে এবং ভারতের কেউ যাতে অবৈধভাবে আসতে না পারে সে জন্য বিজিবি সতর্ক থাকবে।’
পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন,‘পুলিশ সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখবে। কোথাও কোন ধরনের বিশৃংখলা ও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা করতে দেয়া যাবে না। কোথাও এধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’