স্টাফ রিপোর্টার
পণতীর্থ বারুণী মেলা ও শাহ আরেফিন (রহ:) মোকামে আসা পুণ্যার্থীরা পথে পথে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। চালকেরা গাড়ি ভাড়া আগেই হাতিয়ে নিয়ে যেখানে সেখানে নামিয়ে দেয় পুণ্যার্থীদের। গাড়ি ভাড়া দিয়েও হেঁটে হেঁটে শহরে এসেছেন অনেক পুণ্যার্থীরা।
একাধিক দর্শনার্থী জানান, তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীরে স্নান শেষে শহরে ফিরে আসতে যানবাহন সংকটে পড়েন তারা। পর্যাপ্ত যানবাহন না পাওয়ায় মটরবাইক, সিএনজি, ট্রলি, পিকআপ দিয়ে গাদাগাদি করে আসতে হয়েছে। এভাবে ঝঁুকি নিয়ে আসতে নানা সমস্যার শিকার হন তীর্থযাত্রীরা। যাত্রাপথে যানবাহন চড়ে দিতে হয়েছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া। এসব যানবাহনের চালকেরা বিশ্বম্ভরপুর, পলাশ, ধনপুর প্রভৃতি স্থানে এসে গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। তখন যাত্রীরা পড়েন বিপদে। গাড়ি না পেয়ে কেউ কেউ যাদুকাটা নদীর তীর থেকে হেঁটে এসেছেন শহরে। কেউ বিশ্বম্ভরপুর থেকে, কেউ ধনপুর থেকে, কেউ আবার পলাশ বাজার থেকে হেঁটে হেঁটে আসতে হয়েছে সুনামগঞ্জ শহরের আব্দুজ জহুর সেতু এলাকায়।
একাধিক গাড়ি চালক জানান, শহরের আব্দুজ জহুর সেতু থেকে বিশ্বম্ভরপুর সড়কে অথবা ধনপুর সড়ক হয়ে পণতীর্থ বারুণী মেলা ও শাহ আরেফিন (রহ:) মোকামে আসা—যাওয়ার সড়ক, এসব সড়কের উপর স্থাপিত পুরাতন কালভার্ট সেতু সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় যান চলাচলে গতি কমাতে হয়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয় বিভিন্ন স্থানে। এই যানজট এড়িয়ে চলতে যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে নামিয়ে দিতে হয়েছে। এতে যাত্রীদের সময় কম অপচয় হয়েছে।
একাধিক যাত্রী জানান, আলোচনা সাপেক্ষে যাদুকাটা নদীর তীর থেকে সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত পেঁৗছে দেয়ার ভাড়া দেয়া হয়েছে। কিন্তু চালক তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে নামিয়ে দেন। ভাড়াও ফেরত দেন না। অবশ্য যানজট ছিল কিছু কিছু সড়কে। এই যানজটে যাত্রী নামিয়ে দেয়ার প্রয়োজন ছিল না। এটা ছিল চালকদের চালাকি।
ময়মনসিংহ জেলার ছায়া রাণী দাস বলেন, আমি স্বামী ও দুই মেয়েকে নিয়ে এবার পণতীর্থে স্নান করতে এসেছি। আসা—যাওয়ায় গাড়ি খরচ বেশি হয়েছে। ভোগান্তিও হয়েছে বেশি। আসার সময় যাদুকাটা নদীর তীর থেকে সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত ভাড়া আগেই নিয়েছে চালক। কিন্তু গাড়ি থেকে আমাদেরকে নামিয়ে দিয়েছে পলাশ বাজারে। পরে ওই জায়গা থেকে হেঁটে এসেছি শহরে। চালক টাকা ফেরত দেয়নি। একই কথা বলেন, শহরের নবীনগরের মায়া রাণী দে।
দিরাইয়ের বিকাশ দাস বলেন, পণতীর্থে যাবার বেলায় মটরবাইকে ভাড়া দিয়েছি একজনে ৪ শত টাকা। আসার বেলায় ৩ শত টাকা। কিন্তু চালক গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বাজারে। ওই জায়গা থেকে হেঁটে এসেছি শহরে।
ময়না রাণী দাস ও সুপ্রীতি রাণী দাস বলেন, পথে পথে যানজট আছে। কিন্তু চালক ইচ্ছে করলে অন্য পথে নিয়ে আসতে পারতো। তা না করে নিয়ে এসেছে চালকের সুবিধা মতো সড়ক দিয়ে। এসেই ধনপুরে সড়কের কালভার্ট সেতুর আগে নামিয়ে দেয় আমাদের। সেতু সংকীর্ণ ও ঝঁুকিপূর্ণ বলে আমাদেরকে নামিয়ে দেয়।
ঢাকা থেকে আগত তুরাগ চন্দ্র দাস বলেন, আমি এসেছি পরিবার নিয়ে। সকাল বেলা আমার গাড়ি (কার) শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আটকে দেয় কয়েকজন। বলেন স্যার সামনে জ্যাম, গাড়ি ঢুকবে না। আমাদের গাড়ি আছে, নিরাপদে নিয়ে যাবে পণতীর্থে। পরে ২ হাজার টাকা গাড়ি রিজার্ভ ভাড়া দিয়ে চলে যাই যাদুকাটায়। কিন্তু কোনো জ্যাম পাইনি সড়কে। আসার সময় ভাড়া দিয়েছি ১ হাজার টাকা।
শহরের মাইজবাড়ি এলাকার সবুজ মিয়া বলেন, চালকেরা যদি বুঝতে পারেন যাত্রী বাইরের লোক তখন গাড়ি ভাড়া আগেই নিয়ে যায়। পরে তার সুবিধা মত জায়গায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে আরও ট্রিপ মারে। আমার বেলায় আগে দিইনি ভাড়া। ঝগড়া করেছি চালকের সাথে বিভিন্ন স্থানে।