স্টাফ রিপোর্টার
‘চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে যাদুকাটায় এসে স্নান করলে সব পাপ মোচন হয়, এজন্য এখানে এসেছি গঙ্গা স্নান করে পুণ্য লাভ করতে।’ কথাগুলো তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর গ্রামের শ্যামল বর্মণ ও উজান জামালগড় গ্রামের দেবরাজ পুরকায়স্থ দেবল এর। তারা একসাথে ৮ জন একত্রিত হয়ে পণতীর্থে গঙ্গাস্নান করতে এসেছেন।
আরেক পুন্যার্থী জনি তালুকদার বলেন, ‘এ তিথিতে গঙ্গাস্নানের পাশাপাশি অনেকে এখানে আসেন মা, বাবা ও আত্মীয় স্বজনের অস্থি বিসর্জন দিতে। আমরাও এসছি মা, বাবার অস্থি বিসর্জন দিতে।’ এভাবে শুধু জনি তালুকদারই নয় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লক্ষাধিক পুণ্যার্থী মঙ্গলবার অদ্বৈত জন্মধাম পণতীর্থে গঙ্গাস্নান করতে এসেছেন।
আজ বুধবার ভোর ৬ টা ৬ মিনিট ৯ সেকেন্ড থেকে বেলা ১১টা ২৩ মিনিট ৫ সেকেন্ড পর্যন্ত মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে (মহাবারুণী) তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর রাজারগাঁও সংলগ্ন স্থানে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হবে। গঙ্গাস্নান করতে আসা নেত্রকোনার শিবব্রত রায় বলেন, ‘কেউ যান লাঙ্গলবন্দে, কেউ কেউ যান ভারতের গয়ায় আর কেউ মনে করেন সব তীর্থের সেরা পণতীর্থ।
মধ্যনগর উপজেলা সদরের বাসিন্দা অমরেশ রায় বললেন, ‘চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে গঙ্গা, যমুনা, স্বরস্বতী সহ সাত পুণ্য নদীর প্রবাহ একসঙ্গে যাদুকাটায় এসে মিলিত হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থীরা এসে এখানে গঙ্গা স্নান করেন’।
অপরদিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সফরসঙ্গী হজরত শাহ আরেফিন (রঃ) এর আস্তানায় শুরু হয়েছে ৩ দিন ব্যাপী ওরস মোবারক। ভক্ত ও আশেকানদের জিকির আসগার, তবারক বিতরণে সরব হয়ে উঠেছে যাদুকাটা নদীর পূর্বতীর। এ দু’অনুষ্ঠানকে ঘিরে হিন্দু মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মহামিলনমেলায় পরিণত হয়েছে যাদুকাটা নদীর উভয়তীর।
উৎসব কমিটি ও আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)’র উদ্যোগে গঙ্গাস্নানকে কেন্দ্র করে মঙ্গল আরতী, ভজন, লীলা, কীর্তন, বৈদিক নাটক, গঙ্গাপূজা এবং ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। অপরদিকে, উপজেলার হযরত শাহ্ আরেফীন (র.)’র আস্তানায় ওরস মোবারক মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে। শেষ হবে শুক্রবার সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কোরআন তেলাওয়াত, হালকা জিকির, মুর্শিদী, ভাটিয়ালী, ভান্ডারী, পল্লীগিতী, বাউল, হাসন রাজার লোক সঙ্গীতে ওরস ও মেলাস্থল মাতিয়ে রেখেছেন শিল্পীরা।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল লতিফ তরফদার জানিয়েছেন, আখড়াবাড়ি, পণতীর্থ ধামে গঙ্গাস্নান, গড়কাটি ইসকন মন্দির, বারুণী মেলা ও ওরস মোবারক আস্তানায় বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি সবাইকে সর্তক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, অদ্বৈত আচার্যের আশ্রম ও শাহ আরেফিন(রঃ) এর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহ¯্রাধিক পুলিশ, বিজিবি ও আনসার ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক ২ জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। যাতায়াতে মানুষের যেনো ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সেজন্য ওয়ান ওয়ে রোড করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ থেকে একদিকে মানুষ আসবে, আরেকদিক দিয়ে বের হয়ে যাবে।