আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এদিন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা পশু কুরবানির মাধ্যমে ভিতরকার পশুপ্রবৃত্তি তথা যাবতীয় অকল্যাণ ও অশুভ প্রবণতাকে নির্মূল করার শপথ গ্রহণ করেন। ইসলামের মহান দর্শন অনুসারে সৃষ্টিকর্তাকে সন্তুষ্ট করতে নিজের সবচাইতে প্রিয় জিনিসটিকে উৎসর্গ করা হয়। ইসলামের ইতিহাস অনুসারে হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিজের পুত্রকে আল্লাহ্র নামে কুরবানি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। সবচাইতে প্রিয় জিনিস উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে মূলত সৃষ্টিকর্তার প্রতি সীমাহীন আনুগত্য প্রকাশ করার বিষয়টি ফুটে উঠে। এমন মহিমাময় পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমরা সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। ঈদ মোবারক। এই সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচাইতে বড় মিলনোৎসব পবিত্র হজ্বব্রত। সারা বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চল থেকে সামর্থবান মুসলমানরা পবিত্র মক্কা শরীফে উপস্থিত হয়েছে মুখে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক-লাব্বাইকা লা শরীকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক লা শরীকা লাক।’ ধ্বনিসহকারে। এর মধ্য দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট আত্মসমর্পনের শর্তহীন ইচ্ছার কথাটি ফুটে উঠে। বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ পবিত্র হজ্বব্রত পালন করতে গেছেন। আমরা তাঁদের ধর্মীয় কর্তব্য পালনের মহান ইচ্ছার পূর্ণতা এবং সুস্থ শরীরে দেশে প্রত্যাবর্তন কামনা করি।
ঠিক আড়াই মাস আগে পবিত্র ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারি ও ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে জঙ্গিবাদী হামলায় পুরো দেশ কেঁপে উঠেছিল। ওই দুইটি ঘটনা সারা বিশ্বে বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গি উপস্থিতির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। এর পর জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে সরকারের পক্ষ থেকে বহুমুখী তৎপরতা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু চিহ্নিত জঙ্গি নেতাকে নির্মূল করা হয়েছে। সরকারের জঙ্গিবিরোধী তৎপরতা এখনও চলছে। সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আজ জঙ্গিবিরোধী অবস্থানে এক কাতারে এসে শামিল হয়েছেন। প্রতিদিনই দেশের নানা স্থানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সভা-সমাবেশ-মানববন্ধন-আলোচনাসভার মধ্য দিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়াস চালানো হচ্ছে। আশার কথা হলো, ইসলাম ধর্মের শ্রদ্ধেয় আলেম-ওলামা সম্প্রদায়ও এই তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন। এরকম প্রেক্ষাপটে এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর সকলেই নির্বিঘœভাবে পালন করতে পারবেন বলে আমরা আশাবাদী।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির পশুর চামড়া বাজারজাতকরণ নিয়ে একটি বড় ব্যবসা হয়ে থাকে। মূলত দেশের চামড়া শিল্পের সিংহভাগ চামড়া এই ঈদেই সংগ্রহ করা হয়। চামড়ার মূল্য ইতোমধ্যে সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবছরই একটি সিন্ডিকেট সরকারি নির্দেশের তোয়াক্কা না করে চামড়ার দাম হ্রাস-বৃদ্ধি করে তৃণমূলের সাধারণ ব্যবসায়ীদের সর্বনাশ করে। এই সিন্ডিকেটচক্রকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে। অন্যদিকে কুরবানির পশুর চামড়া যাতে কোনভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করে পাচার হতে না পারে সে বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানাই। কুরবানির পশুর বাজারে জাল টাকা ছড়িয়ে পড়ার একটি আশংকা কাজ করে। বিভিন্ন ব্যাংকগুলো জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন নিয়ে হাটে হাটে এই তৎপরতা বন্ধ করতে তৎপর রয়েছেন। কিন্তু আসল কাজ হলো জাল টাকার উৎস ধ্বংস করা। এটি আমাদের অর্থনীতিকে মূল থেকে ধ্বংস করে দেয়। জাল টাকার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা দেখানোর অনুরোধ আমাদের। ঈদে প্রিয়জন সান্নিধ্য লাভের আশায় শহর থেকে দলে দলে মানুষ বাড়ি যাওয়া শুরু করেছেন। এই যাত্রা চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। নাড়ির টানে ঘরে ফেরা এইসব মানুষের সুস্থ ও নিরুপদ্রব ভ্রমণ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনা করি আমরা। সর্বোপরি কামনা করি পবিত্র ঈদুল আজহা সকলকে শান্তির পথে ফিরিয়ে আনুক।