স্টাফ রিপোর্টার
আজ রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পালিত হবে। এই রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে ‘কদর’ নামে একটি সুরাও নাজিল হয়। তাই, মুসলমানদের কাছে শবে কদর অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। কদরের রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ।
শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর বা সম্মানিত রাত। যে রাতে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে, সে রাতই লাইলাতুল কদর। এই রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয়। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে তাই এই রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শই আমাদের পাথেয়। আজ ১৮ এপ্রিল পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষ্যে সোমবার দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ নিয়ে বরকতময় পবিত্র শবে কদর আমাদের মাঝে সমাগত। মহিমান্বিত এই রজনিতে আমি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মার জন্য মাগফেরাত ও কল্যাণ কামনা করছি।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, পবিত্র লাইলাতুল কদর মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকত ও পুণ্যময় রজনি। অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ্ এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনে হাজার মাসের চেয়েও বেশি ইবাদতের নেকি লাভের সুযোগ এনে দেয় এই রাত। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কুরআন লাইলাতুল কদরে নাযিল হয়। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘আমি শবে কদর রাতে কুরআন নাযিল করেছি’। তাই মুসলিম উম্মার নিকট শবে কদরের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত অত্যধিক। এই মহিমান্বিত রজনি সকলের জন্য ক্ষমা, বরকত, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক- মহান আল্লাহর দরবারে এ প্রার্থনা করি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে করোনা মহামারি, সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ, অভাব-অনটনসহ বিভিন্ন কারণে হাজার হাজার মানুষ অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। আসুন, শবে কদরের এই পবিত্র রজনিতে আমরা এ সকল সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি। আমি পরম করুণাময় আল্লাহর নিকট অশেষ রহমত ও বরকত কামনার পাশাপাশি দেশের অব্যাহত অগ্রগতি ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা জানাই। সমগ্র বিশ্ব যেন মানবজাতির জন্য শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়ে উঠে। মহান আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন। আমীন।’
এদিকে পবিত্র লাইলাতুল কদরের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল ১৮ এপ্রিল পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘আসুন, সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।’ পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, লাইলাতুল কদর এক মহিমান্বিত রজনি। সিয়াম সাধনার মাসের এই রাতে মানবজাতির পথ নির্দেশক পবিত্র আল-কুরআন পৃথিবীতে নাযিল হয়। পবিত্র কুরআনের শিক্ষা আমাদের পার্থিব সুখ-শান্তির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির পথ দেখায়। তিনি বলেন, মহান আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, নাজাত, বরকত ও মাগফেরাত। পবিত্র এই রজনিতে তিনি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।