- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পরপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বাদ জোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহরের তেঘরিয়া গাজী দরগাহ কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
মরহুমের মৃত্যুতে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত শোক প্রকাশ কওে শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মরহুম মতিউর রহমান দীর্ঘদিন যাবত দুরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে ঢাকার বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। রবিবার রাত ৮.২০ মিনিটে বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মরহুমের স্ত্রী রওশন আরা রহমান, বড় ছেলে ব্যবসায়ী মুস্তাফিজুর রহমান, দ্বিতীয় ছেলে ব্যবসায়ী মাহ্ফুজুর রহমান, তৃতীয় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা মাহ্Ÿুবুর রহমান, মেয়ে শারমিন লায়লা তানিয়াসহ অন্যান্য স্বজনরা।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় সুনামগঞ্জের জেলরোড এলাকায় নিজ বাসায় মরহুম মতিউর রহমানের লাশ নিয়ে আসলে শহর ও শহরতলীর শোকার্ত মানুষজন তাঁকে এক নজর দেখতে আসেন। সকাল থেকে তাঁর বাসায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, জেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ অসংখ্য মানুষের ছিল উপচে পড়া ভিড়।
দুপুর ১২টায় মরহুম মতিউর রহমানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সুনামগঞ্জ পৌরসভা চত্ত্বরে। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর দুপুর ১টায় মরহুম মতিউর রহমানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ঈদগাহ ময়দানে। মসজিদে জোহরের ফরজ নামাজ আদায়ান্তে মরহুম মতিউর রহমানের রূহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পেশ করা হয়।
পরে ঈদগাহ ময়দানে মরহুম মতিউর রহমানের মরদেহে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানানো হয় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের পক্ষ থেকেও। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয়।
নামাজে জানাজার আগে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত ও মরহুমের মেজো সন্তান ব্যবসায়ী মাহ্ফুজুর রহমান। মাহ্ফুজুর রহমান পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর পিতার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া চেয়েছেন। পরে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন মাও. মফিজুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লেখক কলামিস্ট অ্যাড. হোসেন তওফিক চৌধুরী, ডা. মুকব্বীর আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খায়রুল কবীর রুমেন, নোমান বখত পলিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হায়দার চৌধুরী লিটন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শাহ আবু নাসের, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ ও জুনেদ আহমদ, দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. নুরে আলম সিদ্দিকী উজ্জল, জেলা আ.লীগ নেতা বেলায়েত হোসেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সামছুল আবেদীন, জেলা ক্রিড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সালেহ আহমদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, পৌর কলেজের অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ, শিক্ষক নোয়াজ উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী স্মরণ, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মজিদ, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. আবুল হোসেন, জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি নাদের আহমদ, আ,ত.ম মিসবাহ, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেন, পৌর কাউন্সিলর গোলাম সাবেরীন সাবু, আহসান জামিল আনাস, ডা: সালেহ আহমদ, কবি ইয়াকুব বখত বহলুল, অ্যাড. আব্দুল খালেক, অ্যাড. শায়েখ আহমদ, অ্যাড. সৈয়দ নেছার আলম, মঙ্গলকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, সহকারী প্রধান শিক্ষক আকবর হোসেন, কমিটির সদস্য আব্দুর রব ও রইছ মিয়া, উস্তার আলী, শিক্ষক আলী হায়দর, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সোহেল মিয়া প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিগার সুলতানা কেয়া, কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ, জাহানারা বেগম, লেখক সুখেন্দু সেন, রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, রাজগোবিন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাছমিন বেগম চৌধুরী, সুবিমল চক্রবর্তী চন্দন, আকরাম উদ্দিন প্রমুখ।
নামাজে জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পৌর এলাকার গাজীর দরগাহ কবরস্থানে। সেখানে দাফন কাজ সম্পন্ন হয় মরহুম মতিউর রহমানের।

  • [১]