- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না

স্টাফ রিপোর্টার
মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গণপরিবহনে শারীরিক দূরত্ব ও নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু জেলার অভ্যন্তরে ও সিলেটগামী যাত্রী সেবায় চালিত লেগুনা, সিএনজি, অটোরিকশার ও বাসের স্বাস্থ্যবিধি পালিত হচ্ছে না। যাত্রীদের ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলো পরিষ্কার করা, সিট কাভারগুলোকে জীবাণুমুক্ত করার সরকারি নির্দেশনাও পালিত হচ্ছে না। যাত্রীদের মাঝে মাস্ক ব্যবহার থাকলেও জেলা শহরের চলাচলকৃত বেশিরভাগ যানগুলোর চালক মাস্ক ব্যবহার করেন না। এতে সাধারণ যাত্রীদের করোনা ভাইরাসে সংক্রামণের সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরজমিনে দেখা যায়, পুরাতন বাস স্ট্যান্ডে যাত্রীদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মল্লিকপুর এলাকার নতুন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা দেখা যায় নি। নতুন বাসস্ট্যান্ডের সংশিষ্ট চালক- হেলপার ও কাউন্টারের কাউকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায় নি। জেলা শহরে অভ্যন্তরে যাত্রী সেবায় নিয়োজিত লেগুনা, সি.এনজি, অটোরিকশার চালকরাও মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এমনকি এই যানগুলো যাত্রী পরিবহন শেষে জীবাণুমুক্ত করছেন না। কিছু চালক মহামারি করোনা সচেতনতা সম্পর্কে জানলেও অনেক চালক সে বিষয়ে নেই কোনো সচেতনতা।
তাহিরপুরের বাসিন্দা মো. মাসুক মিয়া বলেন, আমার ছোট বোনকে নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আছি। সিএনজি /অটো দিয়ে শহরের ভেতর প্রতিদিনই চলাচল করি। কোনো সিএনজি /অটো চালককে দেখিনি মাস্ক পড়তে। জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে কিনা সেটা জানি না।
নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিলেটগামী যাত্রী মাজিদুল ইসলাম বলেন, ৫ দিনের ছুটি কাটাতে বাড়ি আসছিলাম। আসার সময় দেখেছি বাসে সবকিছু আগের মত। চালক- হেলপার মাস্ক ব্যবহার করেন না। নিয়মিত গাড়ি জীবাণুমুক্ত করেন বলে মনে হয় নি।
সিএনজি চালক শক্কুর আলী বলেন, সব সময় আমরা মাস্ক ছাড়া সিএনজি চালাই। পরিষ্কারও করিনা। রাস্তায় পুলিশ দেখলেই মাস্ক ব্যবহার করি। আল্লাহ’র রহমতে এপর্যন্ত কোনো রোগে পাইনি আমায়।
বাস চালক বাপ্পি তালুকদার বলেন, আমরা প্রথমে স্বাস্থ্যবিধি মেনেছি। এখন দেখি কেউই এসব মানেন না। তাই আমরা এখন আর বাস জীবাণুমুক্ত করা ও মাস্ক ব্যবহার করি না।
দিরাই উপজেলার বাসিন্দা নিরঞ্জন দাস খোকন বলেন, আমি দিরাই থেকে এসেছি। আমার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়েছে। কোনো যানবাহনের চালকই স্বাস্থ্যবিধি মানেন না, অতিরিক্ত ভাড়াও নিচ্ছেন। এতে করে আমাদের মতো যাত্রীরা কিন্তু ঝুঁকিতে রয়েছি।
জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মছম মিয়া বলেন, প্রায় ৩ মাস গাড়ি বন্ধ ছিলো। সরকারের নির্দেশনা মেনে আমরা রাস্তায় বের হইনি। সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার পর চালকদের বলেছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালানো জন্য। কিছু দিন মেনেছে। কিন্তু এখন কেউ সেসব আর মানেন না। তাই আমরা গতকাল মালিক- শ্রমিক ইউনিয়ন সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যারা স্বাস্থ্যবিধি মানবেন না তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবো।
সুনামগঞ্জ সদর থানার কর্মকর্তা শহিদুর রহমান বলেন, যারা স্বাস্থ্যবিধি মানেন না তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন সিভিল প্রশাসন। সেক্ষেত্রে সিভিল প্রশাসন আমাদের জানালে আমরা সহযোগিতা করবো।

  • [১]