- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পরিবহন ধর্মঘট সমস্যার সমাধান ঘটুক দ্রুত

কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া এরূপ ধর্মঘট বুঝি বাংলাদেশেই সম্ভব। দর কষাকষি সংগঠনগুলোর জন্য (সিবিএ) ধর্মঘট ঘোষণার আগে বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দাবিনামা পেশ করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানের জন্য নেটিশ প্রদান, দাবি মানা না হলে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে ধর্মঘটের ঘোষণা; এর অন্যতম। কিন্তু বাংলাদেশে রাতে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে সকাল থেকেই ধর্মঘট শুরু করে দেয়া যায়। এতে কত মানুষের কত ক্ষতি হয়ে গেলো তার তোয়াক্কা করে না কেউ। ধর্মঘটের কারণে মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষতিগুলোর জন্য আইনি প্রতিকার পাওয়ার কোনো কাঠামোও নেই, ফলে অসংগঠিত জনসাধারণকে নিরবে মেনে নিতে হয় এইসব ক্ষতি। বৃহষ্পতিবার পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ঘোষণা দিলেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে শুক্রবার ভোর থেকে যানবাহন ও পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে। মানুষ জানতেই পারল না সেই কথা। সকালবেলা স্টেশনে এসে দেখে গাড়ি নেই। কারও কর্মস্থলে না গেলে চাকুরি খোয়ানোর শঙ্কা, কারো ডাক্তার দেখানোর শিডিউল করা তারিখ, কারও চলমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, কারও জরুরি ব্যবসায়িক প্রয়োজন; অথচ কেউই গন্তব্যে যেতে পারলেন না কিছু ক্ষমতাবান ব্যক্তি-সংগঠনের অবিমৃষ্যকারিতার কারণে। এই যে লোকগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হলো তাদের স্বার্থ দেখার কেউ নেই। অদ্ভুত এক অবস্থা। সরকারকেও বলিহারি। ডিজেলের দাম এক লাফে বাড়িয়ে দেয়া হলো প্রতি লিটারে ১৫ টাকা। অথচ দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি জানানো হলো নাকের আগায় দম আসার সময়। কেন সময় নিয়ে জানানো যেতো না? জানা কথা, এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম এতো বাড়ালে পরিবহনের ভাড়ায় এর প্রভাব পড়তে বাধ্য। তাহলে কেন দাম বাড়ানোর আগে সরকার পরিবহনের ভাড়া পুনঃনির্ধারণের বিষয়টি সুরাহা করলেন না? নাকি সরকার ভেবেছিলেন, পরিবহন ব্যবসায়ীরা দাতা কর্ণ হয়ে বাড়তি দামে তেল কিনে আগের ভাড়ায়ই যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করার বদান্যতা দেখাবেন?
গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তির যে খবরাদি প্রকাশ হয়েছে সেখানে জনৈক দিগ্বিজয় রায় শাওনের কথাও আছে। শাওন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। শুক্রবারই তার কর্মস্থলে যোগদান করার কথা। যোগদান করতে না পারলে তাকে চাকুরিচ্যুত করার কথা বলা হয়েছে। শাওন যেতে পারেননি। আরও অনেকেই গিয়েছেন গাঁটের অতিরিক্ত কড়ি খরচ করে ভেঙে ভেঙে। ১০০ টাকার ভাড়ার গন্তব্যে গিয়ে পৌঁছেছেন ১ হাজার টাকায়। দুই ঘণ্টার যাতায়াত শেষ করেছেন আট ঘণ্টায়। ধর্মঘট যতদিন চলবে ততদিনই ক্ষমতাহীন জনগণের এই দুরবস্থা চলতে থাকবে। প্রতিকারহীনভাবে অতীতেও চলেছে, ভবিষ্যতেও চলবে।
পরিবহন ধর্মঘটের যৌক্তিকতা নিয়ে আমরা কোনো প্রশ্ন তুলছি না। তুলছি এর প্রক্রিয়া নিয়ে। ভাড়া বাড়ানোর জন্য মানুষকে জিম্মি করার অমানবিক কর্মকাণ্ডে কেন নিয়োজিত হতে হবে? এক বা দুই দিন সময় নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করলে কত টাকা ক্ষতি হয়ে যেত? সমস্যার সমাধান তো হবেই। ভাড়া ঠিকই বাড়বে। জ্বালানির মূল্য ২৩% বাড়ানোর সুযোগে ভাড়া হয়তো ৫০ থেকে ৭০ বা ৮০ ভাগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। হয়তোবা চেষ্টা থাকবে ভাড়া দ্বিগুণ করার। চাপের কাছে নতজানু হয়ে এটা মানাও হবে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর মটকা ভাঙা হবে সুদাসলে নিরিহ জনসাধারণের ঘাড়ে। লাভের ঘরে বসতি বাড়বে নগদ লক্ষীর। প্যাঁচে আছে মানুষ। তারা কিছু করতে পারে না। তাদের পক্ষে নেই কেউ। অসহায়ভাবে মার খাওয়া ছাড়া তাদের কপালে বুঝি উপরওয়ালা আর কিছু লিখেননি।
যাহোক আমরা চাই দ্রুত পরিবহন ধর্মঘট সমস্যার সমাধান ঘটুক। মানুষ মুক্তি পাক পথের বিড়ম্বনা থেকে।

  • [১]