- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পরিবেশদূষণ ও সচেতনতা

মিহির রঞ্জন তালুকদার
আজ ৬ জুন বিশ্ব পরিবশে দিবস। পরিবেশ সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ১৯৭২ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত করেছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এরপর ১৯৭৪ সালে ‘একমাত্র পৃথিবী’ (Only One Earth) এই থিম নিয়ে প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
যে কোনো প্রাণিকুলের বেঁচে থাকার জন্য তার নিজস্ব পরিবেশ সুরক্ষিত থাকা জরুরি। গত শনিবারে সিলেটে পর পর কয়েকদফা মৃদু ভূমিকম্প হয়ে গেলো। এর আগে যতবারই ভূমিকম্প হয়েছে প্রতিবারই উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতে কিন্তু আতঙ্কের বিষয় শনিবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটেই। কোথায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও কয়েকটি ভবন হেলে পরার খবর পাওয়া গেছে। ফলে বড় বড় ভবনে বসবাসকারীদের মনেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের একটি থিম দেওয়া হয়েছে ‘বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্বার করা’ (Ecosystem Restoration) । বর্তমানে আমরা যে ধ্বংশাতœক পরিস্থিতিতে রয়েছি আমরা কি পারবো পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে। যেখানে একটি ছোট বাগানের চিন্তা করলেও আশে পাশের পাঁচজন এসে সাপের ভয় দেখিয়ে পিছু হটিয়ে দেয়। তারপরও সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে। হাওরে বাগান করবো বলে মনস্থির করেছিলাম কিন্তু কারো পজিটিভ ধারনা পেলাম না। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাবো। পাগল উপাদি নাহয় পেলামী। তাতে কী! নিন্দুকেরা কত কথাইতো বলে!
দেশে পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিবছর শতশত গাছ লাগানো হয়। দিবসটিকে ঘিরেই আমাদের কার্যক্রম থাকে। পরবর্তিতে আর এগুলোর খোঁজ খবর নেয়া হয় না। ফলে প্রতিবছর একই জায়গায় আমরা গাছ লাগাতেই থাকি বনায়ন আর হয় না। আমরা জানি গাছ শুধু লাগালেই হয় না এর সঠিক পরিচর্যারও প্রয়োজন। দিবসটি উপলক্ষ্যে কোনো পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান লক্ষ্য করা যায় না। আমাদের উচিৎ নিজেরা নিজেদের চারপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
বর্তমানে পলিথিন এবং প্লাস্টিকের এই যুগে পরিবেশ রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গত একবছরযাবত করোনা পরিস্থতি আমাদের এতটুকু বুঝিয়েছে যে, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কতটুকু প্রয়োজন। প্রকৃতি আমাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমাদের পানি দূষিত, বাতাস দূষিত, চারপাশ দূষিত রাস্তায় হাটা যায় না দুর্গন্ধের জন্য। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় পাওয়া মিথেন গ্যাস আমাদের পরিবেশ বিপর্যয়ের বার্তাই বহন করে। একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্যাটেলাইট থেকে তোলা ঢাকার আকাশে মিথেন গ্যাসের ছবি আমাদেরকে আরো শঙ্কিত করে তুলেছে। এ বছর বুলমবার্গ মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে যেসব দেশ রয়েছে তার একটি বাংলাদেশ। যেখানে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে।
এই গ্যাসের উৎস সম্পর্কে যে যে বিষয়গুলোর কথা বলা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ধান ক্ষেত, ময়লা আবর্জনার ভাগাড়, কয়লার মজুদ, পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস বের হয়ে আসা।
জলবায়ুর এই পরিবর্তন ঠেকাতে মিথেন গ্যাসের নির্গমন কমানো খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন নদী পলিথিনমুক্ত রাখতে নদীর সংযোগে থাকা খালগুলোর মুখে নেট বসানোর পরামর্শ দিলেও মানা হচ্ছে না।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু দুর্যোগ সৃষ্টির কারন যাতে না হই সে বিষয়ে সকলেই একমত হবেন। সিলেট একসময় পাহাড়/টিলার রাজধানী ছিল এখন ইতিহাস। ভূমিখেকোরা রাতের আধারে পাহাড় কেটে সমতলভূমি বানিয়ে নিয়েছে। যদিও পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা সরকার করে যাচ্ছে নিয়মিতভাবে।
জাতিসংঘ পরিবেশ (UN Environment) কর্তৃক এবছর বিশ্ব পরিবশে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ইকোসিস্টেম রেস্টোরেশন এবং শ্লোগান হচ্ছে Join#GenerationRestoration.
এতবছর যাবত শুধু পালন করে আসছি কিন্তু পরিবেশ বিপর্যয় কমবে বইকি আসঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের দিকে চেয়ে না থেকে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এলাকা ভিত্তিক কার্যক্রম চালানো যায়। প্রতিটি এলাকার পরিবেশ দুষণমুক্ত থাকলে সারা দেশ দূষণমুক্ত থাকবে।
একটি বাড়ি একটি খামারের মতো একটি বাড়ি একটি বাগানে পরিনত করতে পারি। আমরা আমাদের চারপাশ পরিস্কার রাখতে পারি, বৃক্ষায়ণ করতে পারি তবেই প্রকৃতির শান্তি বজায় থাকবে। প্রতিটি মানুষ সবুজানয়েনের ক্ষেত্রে নিজের নিজের দায়িত্ব পালন করি তাহলে আমাদের দেশও থাকবে সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা।
লেখক: কলামিস্ট ও শিক্ষক-বালাগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট।

  • [১]