- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পরিযায়ী পাখিতে নষ্ট হচ্ছে বোরো ধানের চারা

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠছে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়া হাওরসহ বিভিন্ন হাওর। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারে হাওরে অতিথি পাখির বিচরণ অনেক বেশি। তবে অতিথি পাখির কারণে এবার সমস্যায় পড়েছেন হাওরের কৃষকরা। রাতের বেলা খাদ্যের সন্ধানে বোরো জমিতে ঝাঁক বেঁধে নেমে পড়ছে অতিথি পাখি। ফলে ধানের চারা বিনষ্ট হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অন্য এলাকা থেকে হালিচারা কিনে এনে আবারও তাদের জমিতে রোপণ করছেন।
কৃষকরা জানান, হাওরের নি¤œাঞ্চলের জমিগুলোতে প্রচুর পরিমাণ শামুক থাকে। সে কারণে অতিথি পাখির ঝাঁক ওই জমিগুলোতে নেমে পড়ে খাদ্যের সন্ধানে। আর এতে নষ্ট হয় বোরো ধানের চারা।
শনির হাওরপারের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ইউনুছ আলী জানান, শনিবার সকালে শনির হাওরে গিয়ে তিনি দেখেন, তার ৫ কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) বোরো জমির ধানের চারা ভেঙে নষ্ট করেছে অতিথি পাখি। এতে তার অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আবারও ধান রোপণ করতে তিনি অন্যের কাছ থেকে ধারদেনা করে হালিচারা কিনে জমিতে রোপণ করেছেন।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের প্রবীণ কৃষক আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, অনেক বছর পর শুনলাম, অতিথি পাখি রোপণ করা বোরো ধান ভাঙছে। দুই যুগ আগে সব হাওরেই কৃষকরা বোরো ধান রোপণ করার পর মাঘ মাস এলে রাত জেগে পাহারা দিত। পাখি তাড়ানোর জন্য কখনও শিঙায় ফুঁ দেওয়া হতো। আবার কখনও ঢাকঢোল বাজানো হতো।
গোবিন্দশ্রী গ্রামের মুশতাক মিয়া বললেন, সম্প্রতি সপ্তাহখানেক ধরে হাওরে রাতের বেলা ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ছে। তিনি জানান, অতিথি পাখি তার রোপিত ২ কিয়ার জমির ধানের চারা রাতে বেলা ভেঙ্গে ফেলেছে।
টাঙ্গুয়া হাওরপারের গ্রাম মন্দিয়াতা। সে গ্রামের শিক্ষক সাঞ্জু মিয়া তিনি বলেন, প্রতি বছরই শীত মৌসুমে পাখি দেখতে টাঙ্গুয়া হাওরে অনেক পর্যটক আসেন। কিন্তু থাকা খাওয়ার কোন সুব্যবস্থা না থাকায় তাদের মারাত্মক বিপাকে পড়তে হয়।
সেন্টার ফর ন্যাচারাল স্টাডিজ (সিএনআরএস) কর্মকর্তা ইয়াহিয়া সাজ্জাদ বলেন, এ বছর শীতের শুরু থেকেই নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি টাঙ্গুয়ার হাওরে ব্যাপক হারে আসছে। সম্প্রতি দু‘চারদিন ধরে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা অতিথির পাখির আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকরা এসে আবাসিকের জন্য আমার কাছে আসে কিন্তু হাওরপারে প্রয়োজনীয় আবাসস্থল না থাকায় পর্যটকদের নানামূখী সমস্যায় পড়তে হয়। টাঙ্গুয়া হাওরপারে একটি পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে একটি ফাইল জমা রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছয় কুড়ি কান্দা ও নয় কুড়ি বিলের বিশাল জলরাশি ও স্থলভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে শীতের শুরু থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো মাইল অতিক্রম করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রামসার সাইট সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়া, শনি, মাটিয়ান, কানামইয়্যাসহ আশপাশের হাওরে অবস্থান নেয়। এদের মধ্যে মৌলভীহাঁস, বালিহাঁস, লেঞ্জা, সরালি, পিয়ারী, কানিবক, পানকৌড়িসহ অসংখ্য প্রজাতির পাখি খাদ্যের সন্ধানে এক হাওর থেকে অন্য হাওরে গলায় স্বর তুলে ডানা ঝাপটিয়ে অবাধে বিচরণ করে। হাওরের মাছ, শামুক এদের প্রধান খাদ্য। তবে এবার তারা কৃষিজমিতেও হানা দিচ্ছে খাদ্যের সন্ধানে।

  • [১]