এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত শহীদ সিরাজ লেক। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে শহীদ সিরাজ লেকে পর্যটকদের যেন মহামিলন ঘটেছে। এই লেকের আশপাশে কয়েক হাজার পর্যটক এখন আনন্দে উল্লাসে মেতে উঠেছে। এখানে কেউ তবলা, হারমনি, মাইক বাজিয়ে নেচে গেয়ে নৃত্য পরিবেশন করছেন। আবার কেউ ইঞ্জিন নৌকার মধ্যে মাইক বাজিয়ে নিজ কন্ঠে বিভিন্ন বাউল গান গাইছেন।
বিসিআইসি চুনাপাথর খনি প্রকল্পের পাথর কোয়ারি কে এক সময় সবাই চিনত ‘নীলাদ্রি লেক’ নামে। এক পর্যায়ে এ স্থানটি সংলগ্ন সমাহিত একজন বীর মুক্তিযুদ্ধার নামে নামকরণ করে এখন নাম রাখা হয়েছে শহীদ সিরাজ লেক। তাহিরপুর উপজেলার ট্যাকেরঘাট মেঘালয় সীমান্তবর্তী শহীদ সিরাজী লেকের অবস্থান। ঈদ উপলক্ষে ঢাকা, সিলেট, মহমনসিংহ, নেত্রকোনা,
মহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, ছাতক, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর, সিলেট, সুনামঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে কয়েক হাজার পর্যটক ভিড় করেছেন এই লেকটি ও আশপশের ছোট ছোট টিলার সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে।
ঢাকা গাজীপুর থেকে একদল তরুণ এসেছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তাদের দলপতি রবিন, রিয়া ও কাকলী জানান, শহীদ সিরাজ লেক খুবই সুন্দর। তারা বলেন এখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে দিন দিন আরও পর্যটক বাড়বে।’
এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ট্যাকেরঘাট পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই ইমাম হোসেন জানান, ‘ঈদের ছুটিতে এখন পর্যন্ত শহীদ সিরাজ লেক এলাকায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে কোন পর্যটকের অসুবিধা না ঘটে। ’
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৪০ সালে সুনামগঞ্জের ছাতকে নির্মাণ করা হয় আসাম বাংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে চুনাপাথর সংগ্রহ করে এর চাহিদা মেটানো হতো। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভারত থেকে চুনাপাথর পাথর সংগ্রহ বন্ধ হয়ে পরে। বন্ধের পর সিমেন্ট ফ্যাক্টরিটি চালু রাখতে তাহিরপুর সীমান্তের ট্যাকেরঘাটে এলাকার ৩২৭ একর ভূমির উপর জরিপ চালিয়ে ১৯৬০ সালে চুনাপাথরের সন্ধান পায় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ। সন্ধানের পর ১৯৬৬ সালে থেকে খনিজ প্রকল্প চালু করে মাইনিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পাথর উত্তোলন করা হয় এই লেক থেকে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে প্রকল্পটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
তাহিরপুর সীমান্তে দৃষ্টিনন্দন এ পাথর কোয়ারির অবস্থান হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় পর্যটকদের কাছে অধরাই ছিল এর সৌন্দর্য্য। তবে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ লেকটির ছবি ভাইরাল হলে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে শহীদ সিরাজ লেক।
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, ‘আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শহীদ সিরাজ লেক ও টাঙ্গুয়া হাওরে দিনরাত পুলিশিং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান জানান, ‘ঈদ ছাড়াও এখানে প্রতিদিন শত শত পর্যটক আসেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে পর্যটন এরিয়া বাস্তবায়ন হলে সরকার এ স্পট থেকে কোটি টাকা রাজস্ব পাবে।’
সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল নাসির উদ্দন আহমদ পিএসসি বলেন, ‘পর্যটন স্পটটি সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে বিজিবি তৎপর রয়েছে যাতে কোন পর্যটক সীমান্ত রেখা অতিক্রম করতে না পারে।’