আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জের বাজারে রবিবার পশুর হাট জমে উঠেছে। শনিবার থেকে শহরের সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই পশুর হাট বসলেও ওইদিন তেমন পশু আসেনি। রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে পশু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা। আগামী মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এই পশুর হাটে গরু ছাগল বেচাকেনা চলবে।
রবিবার দুপুর ৩ টায় পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানের পাইকারগণ গরু নিয়ে এসেছেন। দুই শতাধিক গরু হাটে উঠেছে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার হাছননগর, বনানীপাড়া, নবীনগর, পিরোজপুর প্রভৃতি এলাকা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন পাইকারগণ। এছাড়াও সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বেতগঞ্জ বাজার ও আলমপুরের, সুরমা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের, ভৈষারপাড় গ্রামের, বেরীগাঁও গ্রামের, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঝরঝরিয়া গ্রামের, মঙ্গলকাটা গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানের পাইকারগণ তাদের পালিত গরু নিয়ে এসেছেন পশুর হাটে।
একাধিক পাইকার জানান, এবার হাটে নিয়ে আসা গরু বেশিরভাগ মোটা তাজা ও আকারে বড়। এতে দামও অনেকটা বেশি। এ পর্যন্ত গরুর যেভাবে দাম দর হয়েছে, এসব দামে গরু বিক্রি করা সম্ভব নয়। ভাল দাম পাওয়ার আশায় তারা আগামী মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত গরু নিয়ে হাটে অবস্থান করবেন। শনিবার হাটের প্রথম দিনে তেমন গরু আসে নি। তবুও একটি গরু বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। রবিবার বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ গরু হাটে এসেছে।
পিরোজপুর গ্রামের গরু পাইকার জালাল উদ্দিন ৪টি গরু নিয়ে এসেছেন হাটে। প্রতিটি গরুর দাম হেঁকেছেন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। ক্রেতারা দাম বলেছেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
ভৈষারপাড় গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়া নিয়ে এসেছেন ৩ টি গরু। এসব গরু ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করে প্রতিটির দাম হাঁকলেও ক্রেতারা ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বেশি বলেন নি।
নবীনগরের মোহাম্মদ হোসেন নিয়ে আসেন ১টি বড় আকারের গরু। তিনি দাম হেঁকেছেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই গরু কেনার জন্য বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো ক্রেতা আসেনি বলে জানান।
ঝরঝরিয়া গ্রামের শাহ আলম নিয়ে এসেছেন ৩টি বড় আকারের গরু। একটির দাম হেঁকেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ক্রেতারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি দাম বলেননি কেউ।
বেরীগাঁওয়ের হাবিবুল্লাহ নিয়ে এসেছেন ৩টি গরু। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাঁকানো গরুগুলো ক্রেতারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন।
মঙ্গলকাটা গ্রামের মধু মিয়া ৪টি বড় আকারের গরু নিয়ে এসেছেন হাটে। তম্মধ্যে ছোট গরু ১টি বিক্রি করেছেন ১ লাখ টাকা। অন্যান্য গরুর দাম হেঁকেছেন দেড় থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।
বেতগঞ্জ বাজারের পাইকার আলী হায়দার নিয়ে এসেছেন ৬টি গরু। ১টির দাম হেঁকেছেন দেড় লাখ টাকা।
কৃষ্ণনগর গ্রামের নুরুজ্জামান নিয়ে এসেছেন ৩টি গরু। ১টির দাম হেঁকেছেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ক্রেতা দাম করেছেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বেরীগাঁও গ্রামের আনোয়ার হোসেন নিয়ে এসেছেন ১টি গরু। দাম বলেছেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ক্রেতা ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম করেছেন। তবে দেড় লাখ হলে বিক্রি করবেন বলে জানান গরুর মালিক।
ইজারাদার মুজিবুর রহমানের পক্ষে ফরিদ মিয়া জানান, আগামী মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত হাটে পশু বেচাকেনা হবে। প্রতি হাজারে সরকারীভাবে ৭০ টাকা আসিল হলেও আমরা আদায় করছি ৫০ টাকা করে। কারণ কম হাসিল আদায় করলে পশু বেচাকেনা বাড়বে। এবার অনেকটা বড় আকারের গরু হাটে এসেছে। বড় গরুর দামও বেশি।
গরুর হাটের প্রবেশ পথে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটাইজার ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশে রয়েছে একাধিক খর ও ঘাসের দোকান। হাটের ভেতরে রয়েছে জাল টাকা পরীক্ষার বুথ। দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।