- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পাউবোর চুক্তিপত্র ও সাইনবোর্ড বাণিজ্য

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে (পিআইসি) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাথে চুক্তিপত্র করতে হয়। আর এ কাজে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি স্ট্যাম্পের প্রয়োজন হয়। স্ট্যাম্প ও প্রিন্ট খরচসহ সব মিলিয়ে একটি চুক্তিপত্র করতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হওয়ার কথা। কিন্তু একটি চুক্তিপত্রের জন্য পিআইসির কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন বলে অভিযোগ ধর্মপাশা কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। এছাড়াও আব্দুর রহিম প্রকল্পের প্রথম ধাপের অর্থের চেক বিতরণ করতে গিয়ে আরও ১ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন কয়েকজন পিআইসি সদস্য। যদিও এ কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন জানিয়েছেন এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তবে বাঁধে প্রকল্পের বিপরীতে সম্ভাব্য বরাদ্দের অর্থের পরিমাণ উল্লেখসহ পিআইসির নাম সম¦লিত সাইনবোর্ড নিয়েও বাণিজ্যে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে। যদিও সাইনবোর্ড পিআইসি সদস্যদের নিজ অর্থায়নে যে কোনো জায়গা থেকে প্রস্তুত করে বাঁধে প্রদর্শনের কথা রয়েছে। মো. ইমরান হোসেন সুনামগঞ্জ পিনাক আর্ট নামের একটি প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠানে ধর্মপাশা উপজেলার ১৬৯টি প্রকল্পের সাইনবোর্ড তৈরির অর্ডার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে পিনাক আর্ট কর্তৃপক্ষ। পিআইসি সদস্যরা হাজার ১২শ টাকার মধ্যে একটি সাইনবোর্ড তৈরি করতে পারলেও এবার অনেকেই (পিআইসি) দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে মো. ইমরান হোসেনের তৈরি করা সাইনবোর্ড সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ আবার নিজ নিজ উদ্যোগে সাইনবোর্ড তৈরি করছেন।
এবার ধর্মপাশা উপজেলার ৮টি হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য ১৬৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের বিপরীতে পাউবো কার্যালয়ে চুক্তিপত্র (স্ট্যাম্প ও প্রিন্ট খরচ ব্যতিত) অতিরিক্ত আড়াই হাজার ও চেক সরবরাহ বাবদ ১ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আর সাইনবোর্ড বাবদ অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। যা নিয়ে পিআইসি সদস্যদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ থেকে সাইনবোর্ডগুলো এনে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মুক্তারপুর ফেরীঘাটে ফেলে রাখা হয় এবং সেখান থেকে সাইনবোর্ড সংগ্রহ করার জন্য পিআইসিদের বলা হয়। কিন্তু দূরদূরান্তে থাকা পিআইসি সদস্যরা তা সংগ্রহ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে বুধবার মুক্তারপুর গ্রামের হেলিম মিয়া নামের মাছ ব্যবসায়ী ট্রলারে করে সাইনবোর্ড সরবরাহ করতে বেরিয়ে পড়েন।
হেলিম মিয়া জানান, হাফিজ মেম্বার নামের একজন তাকে এসব সরবরাহের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ জন্য তাঁকে ৫০০ টাকা করে দিতে একেকজন পিআইসিকে। তবে এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন (হাফিজ মেম্বার) মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিআইসির একাধিক সদস্য বলেন, একটি সাইনবোর্ড তৈরি করতে যেখানে হাজার ১২শ টাকা লাগে সেখানে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। চুক্তিপত্রের জন্য ৩ হাজার ও চেক সংগ্রহ করতে সার্ভেয়ার আব্দুর রহিমকে ১ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের কিছু বলার সুযোগ নেই।
সার্ভেয়ার আব্দুর রহিম বলেন, ‘এসওর (উপ-সহকারী প্রকৌশলী) নির্দেশে আমি চুক্তিপত্রের কাজ করেছি। চুক্তিপত্রের জন্য কোনো টাকা আদায় করা হয়নি। অনেকেই আছে তিনটি স্ট্যাম্পের জন্য একটি টাকাও দেয়নি। আমি শুধু আজকে (বুধবার) একটি চেক দিয়েছি। যেখানে অন্য চেকের বিষয়ে কিছুই জানিনা সেখানে টাকা রাখার বিষয়টি গুজব ছাড়া কিছুই নয়।’
চুক্তিপত্রের জন্য কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই জানিয়ে সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন জানান, সার্ভেয়ার আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। আর তিনি সাইনবোর্ড অর্ডার করেননি। প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠানে সবগুলো তথ্য তিনি দিয়েছেন যাতে সাইনবোর্ডে কোনো ভুলভ্রান্তি না হয়।

  • [১]