- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পাউবোর তথ্য লুকানো ও ঔদ্বত্যপূর্ণ আচরণের উৎস কী?

গত রবিবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে ভয়াবহ ফসলহানির প্রেক্ষিতে আয়োজিত বিশেষ সভায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীসহ জেলার সংসদ সদস্যগণ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রগণ, পাউবো কর্মকর্তাগণসহ সাংবাদিকবৃন্দ ও অপরাপর স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ব্যাপক তোপের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে এক পর্যায়ে জনৈক সংসদ সদস্যের সাথে ঔদ্বত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন বলেও সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী কথিত বিশাল হাওর দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে দুইটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি গঠন ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি হতভাগ্য কৃষক কূলের জন্য স্বস্তির বিষয় বটে। ওই সভায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জয়া সেন গুপ্তা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জনসমক্ষে তোলে ধরার দাবি করেছেন। গত বছরের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত না হওয়ার প্রেক্ষিতে জয়া সেন গুপ্তার বক্তব্যটি বিশেষ গুরুত্ববহ। কারণ তদন্ত কমিটি যদি আরোপিত দায়িত্ব পালন না করে কিংবা করলেও তদ্প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গৃহিত না হয় তাহলে ওই ধরনের তদন্ত কমিটি গঠন করে আসলে কোন লাভ নেই। আমরা আশা করব এবার যখন হাওর দুর্নীতির বিশাল বিস্তৃতি নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে তখন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশিত হবে।
পিআইসি’র মাধ্যমে বাঁধ মেরামত/সংস্কার কাজে এবারের সরকারি বরাদ্দ নিয়ে পাউবোর তথ্য গোপনের বিষয়টি ধরা পড়েছে ওই সভায়। মন্ত্রী মহোদয়ের প্রশ্নের জবাবে পাউবোর পক্ষ থেকে এ খাতে সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলা হয়। অথচ মৌসুম শুরুর পর থেকে এ যাবৎ এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলে আসা হচ্ছিল পাউবো কর্তৃক। সরকারি অর্থ বরাদ্দের প্রকৃত তথ্য নিয়ে পাউবোর এই লুকোচুরি তাদের দুর্নীতিমুখী তৎপরতার বড় প্রমাণ। এর মধ্য দিয়ে তাদের দুর্নীতিপরায়ণ মানসিকতার পরিচয় মিলে। হঠাৎ করে ১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত তথ্য পাওয়ায় এবার বাঁধ নির্মাণে মোট বরাদ্দের পরিমাণ পূর্বোক্ত ৫৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অভিযোগÑ ঠিকাদার ও পিআইসির সহায়তায় পাউবো এই বরাদ্দের সিংহভাগ  উদরস্ত করার চেষ্টায় নিয়োজিত। এছাড়াও ওই সভায় সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি বাঁধে কাজ কম হওয়ার বিষয়টি পাউবোর প্রকৌশলী নিজ মুখে স্বীকার করে নিয়েছেন। এই বিশাল হাওর দুর্নীতি এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ দাবি করেছেন সভায় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি। জেলা প্রশাসনের বিশেষ সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের সকলেই বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এটি যে পাউবোর বহুল চর্চিত অভ্যাস সেই কথাটিও উঠে এসেছে। আমরা মনে করতে পারি রবিবারের এই সভায় সুনামগঞ্জের প্রতিনিধিত্বশীল সকল নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যখন সমস্বরে দুর্নীতির বিষয়টিকে সামনে আনলেন তখন এর বিচার করার বিষয়টি অপরিহার্য হয়ে উঠে। এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সরকারের অপরাপর সংস্থাগুলো কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন সকলে। দুর্নীতির বিচারের অর্থ হলো দুর্নীতিবাজের শাস্তি নিশ্চিত করা অপরদিকে এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন অনৈতিক পথে না হাঁটেন সেজন্য সতর্কীকরণ হিসেবেও এটি টনিকের মতো কাজ করে। এত বড় দুুর্নীতির দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে দুর্নীতিবিরোধী  গালভরা বুলির অসাড়ত্ব প্রমাণ হবে। যা কারোরই কাম্য নয়।     

  • [১]