- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পাউবোর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হোক

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ/সংস্কারসহ নদী খনন কাজের সুবিধার্থে সুনামগঞ্জ জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা কার্যালয়কে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। পওর-১ ও ২ এই দুই নামে বিভক্ত করে দুই নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পওর-১ এর আওতায় সদর, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও ধর্মপাশা এবং পওর-২ এর আওতায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। নবসৃষ্ট পওর-২ বিভাগে সম্প্রতি নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হলেও অন্যান্য অনেকগুলো পদ এখন পর্যন্ত শূন্য রয়েছে বলে গত ২৬ অক্টোবর তারিখের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। ওই সংবাদসূত্রে জানা যায়, পওর-২ বিভাগে ৩ উপ বিভাগীয় প্রকৌশলীর বিপরীতে ২ জন, ৭ সেকশন অফিসারের বিপরীতে ১জন, ১৪ কার্যসহকারীর স্থলে ৭জন, এস্টিমেটর, উপ সহকারী প্রকৌশলী, উচ্চমান সহকারী ও হিসাব সহকারীর একটি করে পদ এখন পর্যন্ত শূন্য আছে। ২৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাঁধ নির্মাণ বিষয়ক এক সভায় নির্বাহী প্রকৌশলী ওই শূন্য পদের বিবরণ দিয়ে অবিলম্বে শূন্য পদে লোক নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। লোকবল সংকট ছাড়াও নবসৃষ্ট পওর-২ বিভাগের আবাসন সংকটের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেছেন।
গতবছর ও এর আগের বছর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য ব্যাপকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করা হয়। পাউবোর অনেক উর্দ্ধতন কর্মকতারা এখন দুর্নীতি মামলার আসামী। সীমাহীন দুর্নীতির কারণে এবার সরকার বাঁধ নির্মাণ/সংস্কার নীতিমালার পরিবর্তন করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। একই সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুরো জেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দুই নির্বাহী প্রকৌশলীর নিয়ন্ত্রণে পৃথক দুইটি বিভাগ সৃজন করেছেন। এতে করে বাঁধ নির্মাণের তদারকী ও দেখভাল আরও জোরদার হবে। পাউবো শক্তিশালীকরণে সরকারের এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে যে উদ্দেশ্যে পাউবোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে তার পরিপূর্ণ সুফল পেতে হলে নবসৃষ্ট বিভাগটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। নতুবা খ-িত শক্তি দিয়ে শতভাগ দায়িত্ব পালন করা সত্যিকার অর্থেই কঠিন হবে।
এবার বাঁধ নির্মাণ/সংস্কারে ঠিকাদারী প্রথা রহিত করে সকল কাজ পিআইসি বা প্রজেক্ট ইমপ্লিমেনটেশন কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই প্রথায় কাজ উদ্ধারে পাউবোকে ব্যাপকভাবে কারিগরি সমর্থন জুগিয়ে যেতে হবে। পিআইসিগুলো এস্টিমেট অনুসারে কাজ করছেন কিনা এই বিষয়টি সার্বক্ষণিক দেখভালের মধ্যে রাখতে হবে। এই তদারকী কাজ প্রয়োজনীয় লোকবল ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই বাঁধ নির্মাণ মৌসুমে যাতে পাউবোর দুই বিভাগে কোন শূন্য পদ না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সাময়িকভাবে পাউবোর অন্য জায়গা থেকে লোক এনে এই জেলায় দায়িত্ব দিতে হবে। বাঁধ নির্মাণের মূল মেয়াদকাল মাত্র চার মাস। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। এই চারটি মাস কোনভাবেই কোন পদ শূন্য রাখা উচিৎ হবে না। নতুবা কাজের অনিয়ম ঢাকতে এটি একটি অজুহাত হিসেবে সামনে আসতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখতে হবে। এবার জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পুরো জেলার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নেতৃত্বে উপজেলার বাঁধের বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাউবোর কারিগরী সমর্থন ছাড়া এই দায়িত্ব পালন কিছুতেই সম্ভব হবে না। তাই পাউবোর যেসব পদ শূন্য আছে সেগুলো অবিলম্বে পূরণের জন্য জেলা প্রশাসককে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। 

  • [১]