- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পাউবো’র ৪ কোটি টাকা পানিতে

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ শহরতলীর ইব্রাহীমপুর গ্রামের একটি অংশকে সুরমা নদীর ভাঙন থেকে রোধ করা গেলো না। পাউবো’র নদী সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলমান অবস্থায়ই সোমবার ওই অংশে ধস নেমেছে। এর আগেও ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ওখানে নদী সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ হয়েছিল। গ্রামবাসী বললেন, অপরিকল্পিত এবং ত্রুটিপূর্ণ কাজ হওয়ায় সরকারের প্রায় ৪ কোটি টাকা পানিতে গেছে। এর আগেও প্রায় ২ কোটি টাকা পানিতে।
সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের গ্রাম ইব্রাহিমপুরকে সুরমা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে প্রায় চার কোটি টাকার অস্থায়ী নদী সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলছে। গেল বছর এই প্রকল্পে কাজ হয়েছে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার। এবার এক কোটি ৯৭ লাখ ৯৩ হাজার ৭১৫ টাকার কাজ হচ্ছে। এবারের কাজের মধ্যে বালি-সিমেন্টের মিশ্রিত ৪৬ হাজার ৮৭৩ টি বস্তা ভাঙন এলাকায় ফেলার কথা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি এই পর্যন্ত বস্তা ফেলা হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার। এই বস্তা ফেলার কাজ চলা অবস্থায়ই রোববার এই অংশে বড় আকারের ধস দেখা দিয়েছে। ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ.আর.কে গ্রুপ এই কাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদী ভাঙন প্রতিরোধে সংস্কার কাজ করতে সঠিক পরিকল্পনা হয় নি। ভাঙনে পর্যাপ্ত বালুর বস্তা ফেলা হয় নি। বন্যার সময় নদীর তীরে ভাঙনের উপরিভাগে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। কিন্তু নদী ভাঙনের গভীর স্থানে বস্তা ফেলা হয় নি। শহর থেকে দেখা যায় এমন স্থানে বার বার বস্তা ফেলা হয়েছে। অন্য স্থানে সঠিকভাবে বস্তা ফেলা হয় নি। গত সোমবার নদীরপাড়ে ড্রেজারের মাটি স্তুপ করে রাখায় মাটির চাপে নদীর তীরে ধস নেমেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা গাজী রহমান জানান, ২ বছর কাজ করায় আশার সঞ্চার হয়েছিল, সোমবার আবার নদীতে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সকলের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়।


গ্রামের জগলুল মিয়া জানান, পুরাতন ভাঙন এলাকায় কিছু সংস্কার কাজের পর নতুনভাবে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় আমরা মারাত্মক ঝুঁকিতে আছি। যে কোনো সময় বড় আকারের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও জানান, এই ভাঙনে বালুর বস্তা কম ফেলে শহরের ভাঙনে নিয়ে বস্তা ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ঘর বাড়ি আবার ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়লো। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা না নিলে বৃষ্টির দিনে আরও বেশি ভেঙে যেতে পারে।
ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ.আর.কে গ্রুপ’র কাজ দেখভালকারী আতাউর রহমান খান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নক্সা অনুযায়ী শহরতলীর ইব্রাহীমপুর গ্রামের নদী ভাঙন রোধের কাজ করছি। কাজ চলাকালীন সময়ে ধস নামায় আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
নদী সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল সিদ্দিকী বলেন, ইব্রাহিমপুরের এই ভাঙন স্থানে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে এক কোটি ৭০ লাখ টাকার কাজ হয়েছে। গেল বছর দুই কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং এবার কাজ হচ্ছে এক কোটি ৯৭ লাখ ৯৩ হাজার ৭১৫ টাকার। সোমবার এই সংরক্ষণ প্রকল্পের একটি অংশ ধসে পড়েছে। পরে আমরা দেখতে পেয়েছি ওখানে বস্তা চুয়ে কোথা থেকে পানি আসতেছে। কিন্তু আশপাশে কোন ডুবা বা পুকুরও নেই। কেন এমন হলো বুঝা যাচ্ছে না। ওখানে বস্তা ফেলতে বা কাজে কোন অনিয়মের সুযোগ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী কাজ তত্বাবধান করেছেন। তবে ১৮ মিটারের নদী ভাঙনে আরো বেশি বস্তা ফেললে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন এই প্রকৌশলী।
সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বললেন, শহরতলীর ইব্রাহীমপুর গ্রামে নদী ভাঙনের কাজ চলাকালীন সময়ে কেন ধস নেমেছে এই বিষয়টি যাচাই করতে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র পাঠিয়েছি আমরা। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এসে বিষয়টি দেখবেন। ভাঙন সংস্কারের কাজ চলছে। এই কাজটি অস্থায়ীভাবে করা হচ্ছে। ওখানকার ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ীভাবে কাজ করতে হবে।

  • [১]