স্টাফ রিপোর্টার
বিশম্ভরপুর উপজেলা থেকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাঁধনপাড়ায় থাকা কলেজ পড়–য়া মেয়েকে দেখতে এসেছেন এক বাবা। গ্রামের কাঁচা কর্দমাক্ত সড়কের মতো শহরের পাকা সড়কের অবস্থা দেখে জুতা হাতে নিয়ে তিনি ঢুকেছেন মেয়ের বাসায়। লাগাতার কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে বৃষ্টির পানি জমে বাঁধনপাড়া পয়েন্ট থেকে আবুল হোসেন সড়কের সংযোগ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের কোথাও কোথাও গর্তে জমে আছে পানি।
বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো উপায় না থাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পড়েন এই সড়কের ১৫ বাড়ির বাসিন্দা। শুধু চলাচলে নয় একটু বেশি বৃষ্টি হলে অনেকের বাসায়ও পানি ঢুকে যায়। পানি জমে থাকায় পথচারীদের জুতা হাতে নিয়েই পার হতে হয় সড়ক।
এছাড়াও শহরের নতুনপাড়া, পূর্ব নতুনপাড়া এলাকার স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের এই বেহাল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হয়। এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় বিদ্যালয়ের পোষাক নোংরা হয়ে যায়। বৃষ্টির মৌসুমে শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয় ও উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীদের দুভোর্গ সঙ্গী করেই চলাচল করতে হয় এই সংযোগ সড়কে। বাঁধনপাড়া ছাড়াও নতুন পাড়ার শিক্ষার্থীরাও কম সময়ে স্কুল ও কলেজে যেতে এই সংযোগ সড়ক হয়ে আবুল হোসেন রোড ব্যবহার করেন।
এলাকাবাসী জানান, আগে সড়কের পাশে একটা নিচু ভিটা ছিলো। বৃষ্টির পানি গিয়ে সেই ভিটায় গড়িয়ে পড়তো। এখন ওই অংশটুকু ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি যাওয়ার ব্যবস্থা নেই। এখন এই সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করাই একমাত্র সমাধান।
উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী শর্মি রাণী বললেন, ‘প্রত্যেকদিন স্কুলে যাওয়া আসা করতে হয় এই রাস্তা দিয়ে। ঠারে ঠারে সড়ক পাড় হতে হয়। কখন জানি পড়ে যাই।’
আরেক বাসিন্দা রবিন্দ্রকুমার দাস বলেন, আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। বের হবার মতো পরিবেশও নেই। আমিসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের ভোগান্তির শেষ নেই। পৌরসভার কাছে অনুরোধ একটা ড্রেন তৈরি করে আমাদের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম সাবেরীন সাবু বলেন, এই সড়কের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে নতুন ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছে। দরপত্রও হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে আসলেই কাজ শুরু হবে।