ইয়াকুব শাহরিয়ার
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের উপ -নির্বাচন চলতি মাসের ১৬ তারিখ। তাই এখন থেকেই নিজেদের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চার নারী প্রার্থী। গত নির্বাচনে পরাজিত লাকী বেগম (তালগাছ) ও চ¤পা দেবনাথ (পদ্মফুল) সহ প্রার্থীতায় নতুন করে নাম লেখিয়েছেন আরো দুজন। তারা হলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য প্রয়াত মহিলা সদস্য হাসি রানী দে (মায়ার মা)’র মেয়ে মায়া রানী দাশ (হেলিকপ্টার) ও সাবেক সদস্য রহিমুন নেছা (মাইক)। তারা ভোটের আগে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরতে সকাল-সন্ধ্যা ছুটছেন সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। চাইছেন ভোট, দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। তবে সাধারণ ভোটাররা বরাবরের মতো এবারের উপ নির্বাচনেও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার চিন্তা করছেন। তারা বলছেন ‘বার বারই আমরা যোগ্য মানুষকে ভোট দেওয়ার কথা বলে অযোগ্যদেরই ক্ষমতায় আনি। চেষ্টা করবো স্বল্প পরিসরের এ উপ নির্বাচনে যেনো যোগ্য প্রার্থীকে ভোটটা দিতে পারি।’
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের প্রতিটি গ্রামে পাড়ায়
মহল্লায় চষে বেড়াচ্ছেন চার মহিলা প্রার্থী। তারা ছেলে বুড়ো প্রত্যেকের কাছেই ভোট চাইছেন। নারীদের কাছে আলাদা রকমের দাবি করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। কেউ আত্মীয়তার বন্ধন, কেউ প্রতিশ্রুতি আবার কেউ পূর্ব অভিজ্ঞতা দেখিয়ে নিজের পক্ষে ভোট টানার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রত্যেকেই অতি নীরবে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণার কাজ। ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেকটি বাড়ি বাড়ি সাঁটানো হয়েছে নির্বাচনী পোস্টার। সাধারণ নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনে উঠান বৈঠক, মিছিল মিটিং না হলেও কোনো ভাবেই নির্বাচনকে গুরুত্বহীন মনে করছেন না প্রার্থীরা। তাদের প্রচারণায় তারা জনগণের সেবা করার কথাই বলছেন। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে বেশি কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
নির্বাচনে প্রার্থী প্রয়াত হাসি রানী দে (মায়ার মা)’র মেয়ে মায়া রানী দাশ বলেন- ‘আমার মা ছিলেন স¤পূর্ণ ইউনিয়নবাসীর ভালবাসার মানুষ। গত নির্বাচনে আমার মাকে তিন ওয়ার্ডের ভোটাররা সংরক্ষিত এ আসনে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করছিলেন। আজ মা’র অনুপস্থিতিতে মায়ের অস¤পূর্ণ কাজ স¤পন্ন করার সুযোগ ওয়ার্ডবাসীর কাছে চাই। আশা করি তারা আমাকে এ সুযোগ দিবেন।’
লাকী আক্তার বলেন ‘আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষেরাই সাধারণ মানুষের কষ্ট বুঝে। আমি আশা করছি সাধারণ মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দিবেন।’
রহিমুন নেছা বলেন ‘আমি পাঁচ বছর মানুষের সাথে কাটিয়েছি। মানুষের সেবা করেছি। এবারও মানুষের সেবায় কাটাতে চাই, আশা করছি সাধারণ মানুষ আমাকে পুনরায় সে সুযোগ করে দিবেন।’
চ¤পা দেবনাথ বলেন ‘আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে নির্বাচনে এসেছি। এ নিয়ে তিনবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এসেছি। সবার সেবা করার উদ্দেশ্যেই কাজ করতে চাই। আশা করি সাধারণ মানুষ আমাকে সে সুযোগ দিবেন।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাতে হাসি রানী দে (মায়ার মা) আকস্মিক মৃত্যু বরণ করলে এ আসনটি শূন্য হয়।