- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পাগলায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর সমস্যা অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিং-যানজট

ইয়াকুব শাহরিয়ার, পাগলাবাজার
যানজট দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলাবাজারের এখন আর নতুন কোনো বিষয় নয়। সিলেট-সুনামগঞ্জ মহা সড়কের পাশের এ বাজারে যানজট তৈরি হচ্ছে অনেক আগে থেকেই। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সমস্যার সমাধানে বিন্দুমাত্র আশ্বাসও পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। দু’একবার রাস্তা সংস্কারের কথা বলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও যানজট কমেনি এ বাজারের।
স্থানীয়রা মনে করেন, এ বাজারে যানজটের মূল কারণ হচ্ছে সিলেট-সুনামগঞ্জগামী বাস, সুনামগঞ্জ-ছয়হাড়া, জগন্নাথপুর ও জাউয়াগামী লেগুনা এবং সিএনজির অপরিকল্পিত পার্কিং। এছাড়াও পাগলায় সিলেট থেকে প্রবেশমুখ ব্রীজের র‌্যালিং এর উপর একপাশে মাছের বাজার অপর পাশে রিক্সা-ভ্যানের পার্কিংও যানজটের জন্য অনেকাংশে দায়ী। তাই প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এ বাজারে আসা হাজার হাজার সাধারণ মানুষসহ প্রায় ৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর।
পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামি’আ ইসলামিয়া পাগলা মাদরাসা, রাইজিং সান কিন্ডার গার্টেন, পাগলা হাইস্কুল এন্ড কলেজ, ইক্বরা ক্যাডেট মাদরাসা ও মর্নিং বার্ড  কিন্ডার গার্টেনে আসা প্রায় ৩ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে যানজটের কবলে পড়তে হয় প্রতিদিন। ২ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে প্রভাতী-দিবা ২ শাখায় ক্লাস হয় পাগলা হাইস্কুল এন্ড কলেজে। স্কুলে আসার সময় ও ছুটির সময় দুই বেলায়ই এ সমস্যায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। লেগুনা-সিএনজি-বাসের অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিং এর কারণে এমন সমস্যার তৈরি হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ছাত্রছাত্রী আসা-যাওয়ার সময় লেগুনাগুলো এমনভাবে দাঁড়ায় যেনো তাদের উদ্দেশ্যই ছাত্রছাত্রীদের আটকানো। পাশের দোকানীদের সাহায্যে অনেক সময় যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীদের। মাধ্যমিকে প্রায় ১৯ শত, প্রাথমিকে ৮শত, কিন্ডার গার্টেন ও মাদরাসা মিলে প্রায় সাড়ে ৪শত সহ ৩হাজার ১শত ৫০জন ছাত্রছাত্রীর যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা পাগলাবাজার বাসস্ট্যান্ড রোড। ঐতিহ্যবাহী এ বাজারে বাস, লেগুনা, সিএনজির স্টপেজ থাকায় বিভিন্ন যায়গা থেকে যানবাহন এসে এখানেই দাঁড়াতে হয়। স্টপেজের শাখা অনুযায়ী যানজট নিরসনে একজন করে কর্মী নিয়োগ থাকলেও তা যানবাহনের তুলনায় অনেক কম। লোকবল আরো বাড়ানো দরকার। দরকার একজন ট্রাফিক পুলিশেরও।
এ ব্যপারে পাগলা হাইস্কুল কলেজের প্রভাতী  শাখার নবম শ্রেণির খ শাখার ছাত্রী রিপ্তা আক্তার ও দিবা শাখার দশম শ্রেণির ক শাখার ছাত্র নূর আলম এবং কলেজ শাখার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী মৌসুমী বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, যানজটের কারণে আমাদের স্কুল কলেজে আসা যাওয়া করতে অনেক সমস্যা হয়। ছুটির সময় গাড়ির অপরিকল্পিত পার্কিংয়ের কারণে আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। তাই ঝামেলায় পড়তে হয়
রাইজিং সান কিন্ডার গার্টেনের সহকারী শিক্ষিকা মৌসুমী দাশ বলেন, প্রতিদন স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় বাসস্ট্যান্ডে যে যানজট লাগে তাতে চলাচল প্রায় অসম্ভব। এর নিরসন হওয়া দরকার।
স্থানীয় চা ব্যবসায়ী আবদুল মছব্বির বলেন, ছাত্রছাত্রীরা একসাথে আসা যাওয়া করে। গাড়িগুলো অপরিকল্পিত দাঁড়ানোর কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। সবসময় একজন ট্রাফিক পুলিশ দেওয়া দরকার।
ট্রাক, বাস, লেগুনা ও সিএনজির দায়িত্বরত কর্মী যথাক্রমে মোবাস্বির হোসেন  ফরিদ, শামীম মিয়া (ভারপ্রাপ্ত), নূর উদ্দিন (ভারপ্রাপ্ত) ও তারা মিয়া বলেন, যানজট নিরসনে আমরা সব সময় তৎপর। শিক্ষার্থীদের যাওয়ার সময় আমরা প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের পাস করে দেই। এখানে কোনো যানজট হয় না।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিবহন শ্রমিক সমিতির সাধারণ স¤পাদক ও পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুরুল হক বলেন, অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিং এর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যানজট নিরসনে অবশ্যই কাজ করবো।

  • [১]