- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পাঠকের নতুন চাহিদাকে গুরত্ব দিতে হবে

স্টাফ রিপোর্টর
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে আরও পাঠকপ্রিয় করতে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে সশরীরে ও জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে আয়োজিত প্রতিনিধি সভা সঞ্চালনা করেন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক পঙ্কজ কান্তি দে। সভায় বক্তারা বলেন, কাগজে ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ প্রচারের ক্ষেত্রে পাঠকের নতুন চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় অতিথির বক্তব্য রাখেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার দাশ রায়, কবি ও লেখক সৌরভ ভূষণ দেব, সাংবাদিক উজ্জ্বল মেহেদী ও সাংবাদিক খলিল রহমান। এছাড়া দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাসান শাহীন, জাহাঙ্গীর আলম, বার্তা সম্পাদক সজীব দে, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আকরাম উদ্দিন, শান্তিগঞ্জ অফিস প্রধান কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি স্বপন কুমার বর্মণ, স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম, গোলাম সারোয়ার লিটন, সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার আশিষ দে, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ রায়, শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি ইয়াকুব শাহরিয়ার, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের স্টাফ রিপোর্টার লিপসন আহমদ ভক্তব্য দেন। ভার্চুয়াল সভা সমন্বয় করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের স্টাফ রিপোর্টার সাইদুর রহমান আসাদ।
সভায় সংযুক্ত ছিলেন ছাতক প্রতিনিধি বিজয় রায়, বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি সালেহ আহমদ, স্টাফ রিপোর্টার সোহেল তালুকদার, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি আলী আহমদ, দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি আশিক মিয়া, দিরাই প্রতিনিধি আবু হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার শাহিন আরাফাত।
সভার শুরুতে বার্তা সম্পাদক সজীব দে বলেন, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের জেলা প্রতিনিধিদের সর্বশেষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও খবর পরিবারের সকলকে নিয়ে মিলনমেলা বসেছিল ২০১৯ সালের জুলাই ও আগস্টে। এরপর কেটে গেছে তিন বছরের উপরে। মধ্যে করোনার কারণে আমাদের প্রতিবছরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে ছন্দপতন ঘটে। কিন্তু সেই প্রতিকূল সময়েও দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের উপজেলা অফিস প্রধান, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিগণ প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করে তুলে এনেছেন সব খবর। আঁধার চেরা আলোর ঝলক প্রতিপাদ্য নিয়ে যাত্রা শুরুর পর থেকে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর মানুষের কথা তুলে ধরছে। এখনও সেই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সময় দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে, সেই সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও চলতে হবে। আমাদের প্রিয় সুনামগঞ্জের খবরকে কিভাবে আরো বেশি জনপ্রিয় করতে পারি, সে জন্য কী কী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, সময়ের ঘটনা সময়ে প্রচার করতে কী করতে পারি, সে বিষয়ে পরামর্শ ও আপনাদের মতামত প্রয়োজন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর সম্পাদক ও প্রকাশক পঙ্কজ কান্তি দে বলেন, পাঠকের চাহিদার পরিবর্তন ঘটেছে। নতুন চাহিদার সবকিছুই ভাবতে হবে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অতিথি বক্তা সাংবাদিক উজ্জ্বল মেহেদী বলেন, সাংবাদিকরা পরিবর্তনের সারথী। এক সপ্তাহ পরে কী করতে হবে আমাদের আজ চিন্তা করতে হয়। করোনার জন্য আমরা তথ্য প্রযুক্তির দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে গেছি। আমাদের সময়োপযোগী সাংবাদিকতা করতে হবে। তথ্য প্রযুক্তির জন্য সাংবাদিকতার দায় বেড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে লাইভ সম্প্রচার, প্রতিক্ষণের ঘটনার সংবাদ প্রচার করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রথম চার থেকে পাঁচ বছর কাজ করেছি। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে খবরকে নিয়ে আমাদের নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। সকলে মিলে পত্রিকাকে ডিজিটাল করতে হবে। আজকের আলোচনার প্রেক্ষিতে যে সিদ্ধান্ত আসবে তা আপনাদের সকলকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
কবি ও লেখক সৌরভ ভূষণ দেব বলেন, আজ এই যে আলোচনার সূত্রপাত হলো, এটাই প্রমাণ করে আমরা সচল আছি। যুগের চাহিদার সাথে তাল মেলাতে না পারলে অপমৃত্যু হয়। আগামী দিনে প্রিন্ট পত্রিকার সাথে অনলাইন ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর করে আমাদের এগুতে হবে, নিজেদের অবস্থান সংহত করতে। কর্মীবাহিনীর আন্তরিকতা ও কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে হবে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য আমাদের ঘন ঘন সভা ও কাজের পর্যালোচনা করতে হবে। আমাদের দক্ষ কর্মীবাহিনীর সহযোগিতায় কাক্সিক্ষত লক্ষে আমরা পৌঁছাতে পারবো বলে আমি মনে করছি।
অতিথি বক্তা প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার অ্যাডভোকেট খলিল রহমান বলেন, দীর্ঘদিন জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের সক্রিয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। এটা অত্যন্ত ভালো লাগার বিষয়। নিউজের ভেতরের নিউজ আমাদের বের করতে হবে। যেমন- কোন দুর্ঘটনা ঘটলে অনেকে আহত ও নিহত হন শুধু এমন নয়। একটি পরিবারেরও বিপর্যয় ঘটে। সেসব খবর তুলে আনতে হবে। মানবিক এবং ইতিবাচক খবরকে মানুষ গুরুত্ব দেয়। এগুলোকে আমরা তুলে ধরতে পারি।
জগন্নাথপুর উপজেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অমিত দেব বলেন, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছে। সব মহলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। নতুন অনেক উদ্যোগের কথা আজ উঠে এসেছে। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।
ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি এনামুল হক বলেন, আমার অবস্থান জেলার দুর্গম অঞ্চল ধর্মপাশায়। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ই-পেপার করার চিন্তা খুবই ভালো উদ্যোগ। তিনি বলেন, পত্রিকার কলেবর বাড়াতে হলে প্রত্যেক প্রতিনিধিকে অন্তত মাসে ৫টি করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, দুর্গম অঞ্চলের কারণে অনেক সময় অনেক নিউজ করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

  • [১]