- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পাথারিয়া-ভাটিপাড়া-বাংলাবাজার সড়ক যেনো মৃত্যুকূপ

দিরাই সংবাদদাতা
জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজার থেকে দিরাই উপজেলার বাংলাবাজার পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়ক গেল ৮ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় আছে। প্রতি বছর বর্ষায় পানিতে ডুবে সড়কে গর্ত ও অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়কটি এখন যান ও জন চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পাথারিয়া বাজার থেকে বাংলাবাজার সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কে অসংখ্য ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের অনেক অংশ ভেঙে পড়েছে, বের হয়েছে লোহার রড। ভাটি অঞ্চলের সাথে যোগাযোগের একমাত্র এই সড়ক দিয়ে মিনিট্রাক, পিকআপ, সিএনজি, আটোরিক্সা, মোটারসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ছোট—বড় এসব যানবাহন প্রতিদিন গর্তের মধ্যে আটকা পড়ছে। কখনো যাত্রীবাহী যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় যাত্রীরা ভয়ে গাড়ী থেকে নেমে হেঁটে যান।
স্থানীয়রা জানান, দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া, রফিনগর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন সড়কে চলাচল করেন। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল—কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষকে উপজেলা ও জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এই পথ দিয়ে।
ভাটিপাড়া নিবাসী ইমন আমজাদ চৌধুরী বলেন, ৩ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের দুঃখের কারণ মাত্র ১৪ কিলোমিটার সড়ক। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের দ্রুত সংষ্কার এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।


মোটরসাইকেল চালক প্রভাকর দাস বলেন, স্থানে স্থানে সড়ক ভেঙে আধা মাটি আধা পাকা সড়কে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। সড়কটি মেরামতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
জানা যায়, জেলার দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক, ভাটিপাড়া, রফিনগর ইউনিয়নবাসী চলাচলের একমাত্র সড়কের পুন:নির্মাণের দাবিতে ইতিমধ্যে মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী। কিন্তু বেহাল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় নি। সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি শান্তিগঞ্জ ও দিরাই ভাটিপাড়া বাংলাবাজার সড়ক বারো মাস চলাচল উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রদান করেছেন।
রফিনগর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শৈলেন্দ্র কুমার তালুকদার বলেন, এই সড়ক দিয়ে তিন উপজেলার মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে অসুস্থ, গর্ভবতী মহিলারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে চলাচল করে। সড়কটি নির্মাণের দাবি আমাদের বহুদিনের। আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত চেয়েছিলেন সড়কটির যেন নির্মাণ কাজ শুরু হয়, কিন্তু হচ্ছে হচ্ছে বলে এখন তা শুরু হয় নি। আমরা আশা রাখব মুজিববর্ষের ব্যাপক উন্নয়নের একটি অংশ হিসেবে যেন এই সড়কের কাজ করা হয়।
শিমুলবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু মুঠোফোনে জানান, পাথারিয়া—বাংলাবাজার—ভাটিপাড়া সড়কটি আমাদের জন্যে আক্ষেপে পরিণত হয়েছে। সড়কের প্রতিটি বাঁক পরিণত হয়েছে একেকটি মৃত্যুকূপে। আমরা বারবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো ভালো ফল পাই নি।


স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর’র (এলজিইডি) দিরাই উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইফতেখার হোসেন বললেন, এই সড়কের টেন্ডার হয়েছে। ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি পুরু করে ১৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ করা হবে।

  • [১]