- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

প্রতিরোধে প্রয়োজন সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা

সজীব নন্দন দেব
গ্রামের সামনে মরা সুরমা নদী এবং পেছনে রয়েছে সাংহাই হাওর। আছে পুকুর ডোবাও। গ্রামের বেশিরভাগ পরিবারই বর্ষায় মাছ ধরে ও শুকনো মৌসুমে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রত্যেকটি পরিবারে সর্বনিম্ন ৩ জন থেকে সর্বোচ্চ ১৩ জন পর্যন্ত সন্তান রয়েছে। এতে গ্রামের অধিকাংশ শিশু ভুগছে পুষ্টিহীনতায়। শারীরিকভাবে দুর্বল শিশুরা। বছরে এই সময়টাতে প্রায় প্রতিটি পরিবারের মা ও বাবা জীবিকার তাগিদে সকালে কাজের খোঁজে বের হন। সন্তানদের দেখাশোনার কেউ থাকে না বাড়িতে। খেলাধুলা করেই সময় পার করে শিশুরা। গত ৭ অক্টোবর শুক্রবার সকালে হাওরে খেলাধুলা করতে গিয়ে খাড়া (বড় গর্ত) পড়ে মারা যায় ফাহিমা বেগম (১১) ও ফাইজা বেগম (৯)। সম্পর্কে তারা ফুফু-ভাইজি।
ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের হাসারচর গ্রামের পাশে সাংহাই হাওরে। শান্তিগঞ্জের হাসারচর সহ জেলার ৫ উপজেলায় চলতি বছর এরকম জোড়ায় জোড়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৫টি। এক সাথে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে দিরাই উপজেলায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৪৬ জন। এরমধ্যে নৌ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৯ জন।

শিশু ফাইজার খেলার সামগ্রী মাটির ডেগ, সরা, প্লাস্টিকের গাড়ি, বল সহ অন্যান্য জিনিস এখনও সযত্নে রেখেছেন তার মা-বাবা

গত ১ এপ্রিল দিরাই উপজেলায় করিমপুর ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামে ডোবা পড়ে এক সাথে প্রতিবেশী ৩ শিশু রক্তিম দাস (৭), প্রমিত দাস (৬) ও বৃন্দা দাস (৬), ৭ মার্চ ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে পানিতে ডুবে দুই বোন সুমাইয়া বেগম (৯) ও নাহিদা বেগম (৫), ১ আগস্ট বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের তরঙ্গিয়া গ্রামে দুই মামাতো ফুফাতো বোন মারিয়া (৫) ও ঝুমা (৮), ১৩ আগস্ট তাহিরপুর উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের চতুর্ভূজ গ্রামে হাওরের পানিতে ডুবে মুবারক (২) ও তুফাজ্জল (৩), ৩ নভেম্বর শাল্লার আটগাঁও ইউনিয়নের সরমা গ্রামে নদীর পানিতে ডুবে খালাতো ভাই দিয়ামিন মিয়া (৭) ও ইউসুফ আলী (৫) মৃত্যু হয়।
এছাড়াও ৯ জানুয়ারি জগন্নাথপুর পৌরসভার পশ্চিম ভবানীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে জাকারিয়া (৬), ২৭ জুন বন্যার পানিতে ডুবে হরিহরপুরের আরিয়ান (৭) ও ২৯ মে আশারকান্দি ইউনিয়নের জামালপুর রৌডর গ্রামের প্রতিবন্ধী ছাবিনা বেগম (২১) মৃত্যু হয়। ছাতক উপজেলায় ১৮ জুন থেকে ২২ জুনের মধ্যে পানিতে ডুবে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তিরগাঁও গ্রামের প্রতিবন্ধী তমাল (১৮). ছাতক শহরের বাগবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী পীযুষ দে (৪৮). উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা খালেদ মিয়া, জাউয়াবাজার ইউনিয়নের চৌকা গ্রামের বাসিন্দা অশোক দাস (১৮), উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামের বাসিন্দা মখলিছুর রহমান (৪৫), গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের দিঘলী গ্রামের বাসিন্দা অজিত রায় (২২), সিংচাপইড় ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের কন্যা হানিফা বেগম (৯) এবং নৌকা চালিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা হাফিজ আলী (৩২) মারা যান। ৬ জুন মধ্যনগরের চামরদানি ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে ডোবার পানিতে ডুবে মাহাদী (৫), ২০ জুন ধর্মপাশায় সদর ইউনিয়নের লংকাপাথারিয়া গ্রামে মানসিক প্রতিবন্ধী ফসর বানু (৪০), ২৯ জুলাই দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর (উমরপুর) গ্রামের মরা সুরমা নদীতে ডুবে রিহান (৪), ২৫ জুলাই ছাতক শহরের সওজ’র উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ের পাশের ডোবার পানিতে ডুবে রহিম মিয়া (৪), ২৩ জুলাই দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের পলিরচর গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে মাকসুদুর রহমান জিমাম (২০), ২৩ জুলাই জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নের সাদিপুর পূর্বপাড়া গ্রামে পুকুরে ডুবে ২২ মাস বয়সী সিয়াম আহমেদ, ৬ আগস্ট ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের চাকিয়ারচাপুর গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে সাব্বির মিয়া (২৪) ও ৭ আগস্ট হাওরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে সোহাগ মনি (৯), ২৮ আগস্ট মধ্যনগরের বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বুড়িপত্তন গ্রামে নদীর পানিতে ডুবে মেহেদী হাসান (৭), ৩০ আগস্ট দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের সিদ্দিকনগর পাড়ার দলার হোসেন (৫), ১৯ সেপ্টেম্বর ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে শাম্মী আক্তার (৫), ২ অক্টোবর ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামে ডোবার পানিতে ডুবে বায়োজিদ (৭), ৫ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলার মক্রমপুর গ্রামে পানিতে ডুবে সুজন মিয়া (১৯) মৃত্যু হয়।

শিশু ফাইজার খেলার সামগ্রী মাটির ডেগ, সরা এখনও সযত্নে রেখেছেন তার মা-বাবা

১৯ মে ঝড়ের কবলে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের রাজনাও গ্রামের কৃষক কার্তিক রঞ্জন তালুকদার (৩৫), ১৩ জুন শান্তিগঞ্জ উপজেলার সালদিঘা হাওরে ইট বোঝাই নৌকা ডুবে শ্রমিক ঝন্টু দাস (৫০), ২৯ জুন জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে ঝড়ে নৌকা ডুবে উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামের বিপ্টু মজুমদার (২২), ১৪ জুলাই দিরাইয়ে চাপতির হাওরে ঝড়ে নৌকাডুবিতে পৌর শহরের চন্ডিপুর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৫০) ও আনহার মিয়া (২০), ১৪ জুলাই জগন্নাথপুরে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবে উপজেলার পাটলী ইউনিয়নে চানপুর চকবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং পাটলী দারুল ঊমূল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মুফতি মাওলানা বদরুল ইসলাম (৪৪), ৮ আগস্ট জামালগঞ্জে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবিতে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের জেলে শরিফ উদ্দিন (৪০), ২২ সেপ্টেম্বর সেপ্টেম্বর জামালগঞ্জে দুটি নৌযানের মধ্যে সংঘর্ষে এসময় বালুভর্তি ট্রলার উল্টে শান্তিগঞ্জ উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের হেলাল মিয়া (৩২) ও জামালগঞ্জের সাচনাবাজার ইউনিয়নের নাজাতপুর গ্রামের তুলা মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়।
এদিকে গত মঙ্গলবার বেসরকারি সংগঠন somashte (society for media and suitable human-communication techniques)   আয়োজিত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশিক্ষণে প্রকাশিত এক মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৩ বছরে পানিতে ডুবে মারা জেলায় মারা গেছে গেছে ৮৯ জন। এরমধ্যে ৪ বছরের নিচে ২৭ জন, ৫-৯ বছরের শিশু ৪৭ জন, ১০ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে ৫ জন এবং ১৮ বছরে উর্ধ্বে ১০ জন। ২০২০ সালে ২১ জন, ২০২১ সালে ৩৪ জন এবং ২০২২ সালের এ পর্যন্ত ৩৪ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরেজমিনে বুধবার হাসারচর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ফাহিমার বাবা বোরহান উদ্দিন ও মা খালেদা বেগম এবং ফাইজার বাবা লাল মিয়া ও মা আফসিয়া কাজে বেরিয়ে গেছেন। দুটি পরিবারই হতদরিদ্র। গত বন্যা তাদের আরও নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে। ফাইজাদের বসতভিটা থকলেও ফাহিমাদের নিজের বসত ভিটাও নেই। তারা থাকতো মামা জব্বার মিয়ার বাড়িতে। প্রতিবেশীরা জানান, ঐদিন গোবর আনার জন্য ফাহিমাকে হাওরে পাঠায় তার মা খালেদা বেগম।
ফাইজার চাচাতো ভাই জাবেদ মিয়া জানান, ঐ দিন ফাইজা, ফাহিমা, মাহিদা (৮) সকালে বাড়ির পাশের সাংহাই হাওরে খেলাধুলা করতে যায়। সকাল ১০টার দিকে মাহিদা এসে জানায় ফাইজা পানিতে পড়ে গেছে। দৌঁড়ে সকলে গিয়ে দেখেন ফাইজা পানিতে ভাসছে। দ্রুত তাকে নোয়াখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় সকলে ফাহিমার (১১) কথা ভুলে গেছিলেন। কিছুক্ষণ পর তাকে খোঁজাখুঁজি করে সেই খাড়ায় (গর্তে) পানির নিচে তাকে পাওয়া যায়।
ঘটনার সময় ফাহিমা ও ফাইজার সঙ্গে থাকা মাহিদা (৮) চোখে মুখে এখনও ভীতি বিরাজ করছে। ঘটনার দুই মাস পরেও স্বাভাবিক হতে পারেনি সে। প্রতিবেশীরা বললেন, এখন আর তার মধ্যে আগের মতো উচ্ছাস নেই।
ফাইজার চাচাতো বোন নাসিমা (৩৫) বললেন, ফাইজার খেলাধুলার ঘটি-বাটি সযতেœ রেখেছেন তার মা-বাবা। ঘটনার পর গ্রামের অন্য ছেলে মেয়েরাও আর হাওরে খেলতে যায় না। অজানা ভয় ভর করেছে তার মনে।
গ্রামের আছিয়া বেগম ও ফয়জুল ইসলাম বললেন, প্রতিটি পরিবারই দিন আনে দিন খায়। তাই কাজের সন্ধানে বড়দের বাইরে যেতেই হয়। ঐদিন সকালে হাওরে গোবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই জন খাড়ায় (গর্ত) পড়ে। ফাইজা লাফ দিয়ে খাড়া (গর্ত) পার হতে পারবে মনে করেছিলো। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ফাহিমাও গর্তে পড়ে কাদায় আটকে মারা যায়। গরু চরাতে গিয়ে অন্যরা লাশ ভাসতে দেখে আমাদের খবর জানায়।

পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশু ফাইজা বেগমের বাড়ি

প্রাক্তন মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা নূর উদ্দিন বললেন, গ্রামের বেশিরভাগ পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। সাত সকালে অনেক বাবা-মা কাজের খোঁজে বাইরে যান। সেই সময়ে ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনার কেউ থাকে না। আবার অনেক মা-বাবা সন্তানদের বিষয়ে সচেতন নয়, ছেলে বা মেয়ে কোথায় যাচ্ছে কি করছে সেই খবর রাখে না। তিনি বলেন, শীত মৌসুমে প্রতি বছরই নদী ও হাওর শুকিয়ে গেলে গর্ত করে মাটি তোলা হয় বিভিন্ন কাজে। এতে বিভিন্ন জায়গায় খাড়া (বড় গর্ত) সৃষ্টি হয়। এসব গর্তে পড়লে অনেক সময় সাঁতার জানা থাকলেও কিছুই করার থাকে না।
তিনি বলেন, এরকম অনাকাঙ্খিত মৃত্যু আমরা চাই না। তবে বজ্রপাতে মারা গেলে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করে থাকেন। পানিতে ডুবে মৃত্যু হলে এরকম হতদরিদ্র পরিবারকে যদি কিছুটা সাহায্য করা যায় তাহলে এরা উপকৃত হবে।
হাসারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা স্বপ্না রানী দাশ বললেন, হাসারচর গ্রামের সামনে নদী এবং পেছনে হাওর রয়েছে। এছাড়াও প্রায় বাড়িতেই রয়েছে পুুকুর ও খাল রয়েছে। পানিতে ডুবার ক্ষেত্রে শিশুদের কিছুটা ঝুঁকি তো থাকেই। তবে একসাথে ত্রখানে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা এবারই প্রথম। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে গ্রামের ৬ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা বিদ্যালয় বন্ধের দিনগুলোতে ঘটে। ফাইজা ও ফাহিমাও শুক্রবারে মারা গেছে।
গ্রামের অধিকাংশ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি পরিবারে সর্বনিম্ন ৩ জন থেকে সর্বোচ্চ ১৩ জন পর্যন্ত সন্তান রয়েছে। বেশিরভাগ পরিবার মৎস্যজীবী ও শ্রমিক হওয়ায় এরা পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন নয়। এতে শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। শিশুরা শীর্ণাকায় ও দুর্বল হওয়ায় অনেক সময় বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বয়স হলেও আমরা তাদের ভর্তি করতে পারি না। তবে আমরা বছরে ৩ বার মা সমাবেশ ও ৪ বার উঠান বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা করি।
পাথারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, পরিবারের অসচেতনতায় এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটে। পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে আগে অভিভাবকদের সন্তানদের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। আমরা ওয়ার্ড সভায় বিভিন্ন বিষয়ে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছি।
জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র বর্মণ বলেন, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে আগামীতে সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় শিশুদের সাঁতার শেখার একটি প্রকল্প শুরু হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। এই প্রকল্পটি গত জুলাই মাসে পাশ হয়েছে। করোনার জন্য প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। শিশু একাডেমির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হবে।
সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন বলেন, অসচেতনায় বেশিরভাগ মৃত্যু হয়। পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা। ভৌগলিক কারণে সুনামগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার বেশি। পানিতে পড়লে অক্সিজেন সরবরাহ কমে শরীর শীথিল হয়ে যায়। দেশে ৫ বছরের নিচে ৬৭% শিশুর মারা যায় পানিতে ডুবে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে বাড়ির ২০ গজের মধ্যে বেশি মৃত্যু ঘটে। তিনি বলেন, সতর্কতার জন্য শিশুদের ক্ষেত্রে পায়ে ঝুনঝুনি জাতীয় কিছু বেধে দেওয়া যেতে পারে। এতে শিশুদের চলাফেরার সময় আওয়াজ পাওয়া যাবে, এতে বোঝা যাবে সে কোথায় আছে। এটা আমার কাছে খুব এফেকটিভ মনে হয়।

  • [১]