- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পানির দামে বিক্রি হচ্ছে গরু

শহীদ নূর আহমেদ
‘হাওয়ার বন্দ হাওরে ১ হাল জমি করছিলাম।  সব জমি পাইন্নে নিছেগি। ঋণের টেখার লাগি মাজনরা ঘুরাঘুরি করের। ধান পাইন্নে নেওয়ায় উনা উপাষে দিন খাটের।  তিনটা গরু আছে আমার । নিজে খাইমু কিলা আর গরুরে খাওয়াইতাম কিতা । না ফারতে সব গরু বাজারে লইয়া আইছি। বাজারের দেখি গরুর অভাব নাই। এরলাগি পানির দামে গরু বেছরাম।’
এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় এমনটাই জানালেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার  পাথারিয়া গরুর বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা  দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের ৬০ বছরে বয়সি বৃদ্ধ ছায়েদ আলী।
সম্প্রতি অকাল বন্যায় বাঁধ ভেঙ্গে জেলার প্রায় সবকটি হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় পরিবারের খাবারের সাথে  গো খাদ্যেও ভয়াবহ সংকটে পড়েছেন কৃষকরা । ফসল তুলতে না     
পাড়ায় গো খাদ্যের অন্যতম উৎস ধান গাছের খড় হারিয়েছেন কৃষকরা। সমতল ভূমিও নেই যেখানে গরুর খাদ্যের সাময়িক ব্যবস্থা করতে পারেন। পাওনাদারদের তাগাদা ও পরিবারের খাদ্যের যোগান দিতে বাধ্য হয়েই গৃহপালিত পশু বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে কৃষকদের।
মঙ্গলবার পাথারিয়া বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে  গরু বিক্রি করতে আসছেন পাথারিয়া বাজারে।   অন্যান্য দিনের চেয়ে বাজারে গরুর সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মত। বেলা যত গড়াতে থাকে বাজারে গরুর সংখ্যা ততই বাড়তে থাকে। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ গরু থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল নগন্য। ক্রেতা না থাকায়  ন্যায্যমূল্য পাননি এই  কৃষকরা। সারা দিন অপেক্ষা করে পানির দামে গরু বিক্রি করতে দেখা যায় অনেক বিক্রেতা কৃষককে। যে গরু ১৫ দিন আগেও  ৫০ হাজার টাকা মূল্য ছিল ,তা বিক্রি করতে হয়েছে ৩০ হাজার টাকায়।
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রাম থেকে পাথারিয়া বাজারে ৬ টি গরু নিয়ে আসেন কবির মিয়া নামের মধ্যবয়সি এক কৃষক। নলুয়ার হাওরে ১৮কেয়ার জমি চাষ করেছিলেন এই কৃষক। সকল জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গরুর খাদ্যের যোগান না হওয়ায় সব কটি গরু বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে এসেছেন। গরু বিক্রির টাকা দিয়ে নিজের খাবার ও কিছু পাওনা শোধ করবেন বলে জানান তিনি।
কবির মিয়া বলেন, বাঁধ ভাইঙ্গা সকল জমি পাইন্নে নিছেগি।  গরুরে খাওয়ানির কোন খের নাই। এদিকে নিজের সংসারের খরচপাতির বড় দরবার। কিছু ঋণও আছে। তাই গরু বিক্রি করতে বাজারে আইছি। বাজারে গরু বেশি উঠছে। দুই লাখ টাকার গরু মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বেছলাম।
আলী আকবর নামে এক কৃষককে দেখা  যায় দিনভর একটি বড় ষাঁড় নিয়ে বাজারে ক্রেতার জন্যে অপেক্ষা করতে।  কয়েকদিন আগেও আকবর আলীর ষাঁড়ের দাম ৬০ হাজার প্রস্তাব করেছিলেন অনেক গ্রাম্য ক্রেতা। কিন্তু ফসল তলিয়ে যাওয়ায় টাকার প্রয়োজনে ষাঁড়টির এখন ৩৮ হাজারের বেশি দাম উঠছে না।
নিরুপায় হয়ে সস্তায় গরু বিক্রি করতে দেখা যায় অনেক কৃষককে। তবে গরুর মূল্য কম হলেও অন্যান্য দিনের চেয়ে গরু বেচা কেনা বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাথারিয়া বাজারের ইজারাদার হাজী আব্দুল মমিন ও মোশাহিদ আলী।

  • [১]