আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
‘সুনামগঞ্জ জেলার শনির হাওরে পানির সাথে যুদ্ধ করে এখনো আল্লাহর রহমতে টিকে রয়েছেন আপনারা। যে যে অবস্থানে আছেন তাড়াতাড়ি উরা, কুদাল লইয়্যা শনির হাওরের বান্দে যান।’ এভাবেই তাহিরপুর বাজার ট্রলার ঘাট থেকে মাইকিং করে বোঝাই করা নৌকায় হাওরের বান্দে যাচ্ছে শ্রমিক জনতা। সোমবার সকালে মাইকিং করার সময় বৌলাই নদীর পাড়ে বসে ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক লিবাস মাতব্বর এভাবেই বলছিলেন,‘উবে তলইয়া যায় আওর পানির সাথে আর কয়দিন যুদ্ধ করা যায়। আওরের আপর নীচা আপরটা উচা কইরা দেখি আর কয়ডা দিন আওরটা টিকাইয়া রাখন যায়।’ শনি হাওরের বগিয়ানী স্লুইস গেটের পূর্ব পাশে বেড়ী বাঁধ উঁচুকরণের কাজে ব্যস্ত ভাটি তাহিরপুর গ্রামের একদল কৃষক, তাদের মধ্যে নজির মিয়া(৫৫) এক নিঃশ^াসে উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলেন।
বাঁেধর আশপাশে মাটি না থাকায় অনেকটা দূর থেকে হাঁটু জল ভেঙ্গে বস্তায় করে মাটি এনে ফেলছে বেড়িবাঁধে। সোমবার শনির হাওরে কমপক্ষে ৫ কিলোমিটার বেড়ি বাঁেধর নীচুস্থান জুড়ে ও ৮ টি ক্লোজার বাঁধে কাজ করেছেন তিন উপজেলার ৫ ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের ৩ সহ¯্রাধিক কৃষক জনতা। ইতিমধ্যে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢল ও নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে জেলার সব কটি বোর ফসলি হাওর। কৃষকের রাত দিন পরিশ্রম ও স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁেধ কাজ করার জন্য এখনও টিকে আছে জেলার একমাত্র শনির হাওর।
তিন উপজেলার কৃষকরা হাওরে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ করেন। গত ১৫ দিন ধরে বৃহৎ হাওরটির বোর ফসল টিকিয়ে রাখতে হাজারো মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা বেহলী ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল বাকির বলেন, এখন আর কৃষকদের মনে নাই কোনটা পিআইসির কাজ আর কোনটা ঠিকাদারের
কাজ। হাওরের ফসল রক্ষা করতে হবে তাই দিনরাত বাঁেধ কাজ করছি।
বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আব্দুজ জহুর বলেন, আনোয়ারপুর বাজার সংলগ্ন রক্তি নদীতে বালি, পাথর নৌকাতে লোড আনলোড হয়। শনির হাওরের বেড়ি বাঁধ উচু করে ফসল রক্ষার স্বার্থে আমরা আজ (সোমবার) নদী বন্ধ করে দিয়েছি। হাওরের প্রয়োজনে আরও ক’দিন বন্ধ রাখা হবে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শুধুমাত্র কৃষকের স্বেচ্ছাশ্রমের কাজের ফলেই শনির হাওরটি টিকে আছে। শনি হাওর রক্ষায় কৃষকদের পাশে থেকে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, শনির হাওর পাড়ের সকল নেতাকর্মীকে আমি রবিবার রাতে অনুরোধ করেছি তারা যেন সোমবার সারাদিন সকলেই শনির হাওরের বাঁধে গিয়ে কাজ করেন।