- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পানির সাথে ভেসে আসছে ময়লা আবর্জনা, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের কারণে দু’দিন ধরে ভয়াবহ বন্যার কবলে সুনামগঞ্জ পৌর শহর। সময়ের বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে বন্যার পানি। বন্যার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকায় বেড়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও। শহরের বেশির ভাগ অংশ ডুবে গেছে পানিতে। একদিকে বন্যার পানি অন্যদিকে পচা দুর্গন্ধ। হাঁটা চলাচলে উপযোগিতা হারিয়েছে বিভিন্ন এলাকার কাঁচা সড়কগুলো। পাকা রাস্তাগুলোতে জমা আছে ময়লার স্তুপ। যে কারণে নতুন এক ভোগান্তির শিকারে শহররবাসী। এমন অবস্থা সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়া, বড়পাড়া, বিহারী পয়েন্ট, হাজীপাড়া, নতুনপাড়া সহ প্রায় সব জায়গায়। বন্যার পানির সাথে অনেকের ঘরে ঢুকে গেছে ময়লা আবর্জনা। এতে ভোগান্তির মাত্রা বেড়েছে দ্বিগুণ।
শহরবাসির ভোগান্তি দূর করতে গতকাল থেকেই কাজ শুরু করছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। তবে চাহিদার তুলনায় কাজ কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গত বুধবার দিনভর পুরো শহরে চালানো হয়েছে পানিতে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রম। একদিকে পৌরসভার কর্মীরা পরিষ্কার করার সাথে সাথে অন্যদিকে আবার জমা হয়ে যায়। পানিতে ভেসে আসা খালি বোতল, পলিথিনের ব্যাগ, বস্তা, গাছের ডাল সড়কের পাশেই জড়ো হয়ে থাকতে দেখা গেছে। ময়লা আবর্জনা জড়ো হয়ে সড়কের থাকা পানিগুলো কালো রং ধারণ করেছে। এসব পচা পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পানির সাথে ভেসে আসছে গোবর, মলমূত্র। এ পানি শরীরে লাগলেই শুধু চুলকায়। ইতোমধ্য বেশ কয়েকজনের শরীরে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।
শহরের বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমকে দেখা যায় ভেসে আসা ময়লার স্তুপ নিজ উদ্যোগে সরাচ্ছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের ময়লার স্তুপ পানির সাথে ভেসে এসে আটকে গেছে। এখন এগুলোকে ছোট ছোট করে কেটে দিচ্ছি যেন স্রোতের তোড়ে ভেসে যায়।
৭ নং ওয়ার্ডের লম্বাহাটি এলাকার আফজল হোসেন বললেন, ঘুম থেকে উঠেই দেখি ঘরে পানি। ঘরের পানির সাথে সাথে ময়লাও ঘরে ঢুকে গেছে। তাই ঘরের সামনে বাঁশ ফেলে রেখেছি যেন পানির সাথে ময়লা না ঢুকে।
একই ওয়ার্ডের লিপসন হোসেন বলেন, এতো পচা পানিতে হাঁটার অভ্যাস নাই। কিন্তু ঘরে ঢুকতে গেলে, বাইরে বের হতে হলে এই ময়লা পানি ঠেলিয়ে যেতে হয়। ময়লা পানির কারণে পুরো পায়ে ফুরি ফুরি হয়ে গেছে এবং প্রচুর চুলকাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো আব্দুল্লাহ আল বিরূনী খান জানিয়েছেন, বন্যার এই সময়ে পানির সাথে ময়লা আবর্জনা থাকায় বিভিন্ন রোগা বালাই দেখা দিবে। সেই সাথে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয় সহ পানিবাহিত রোগ হবে। সেটা মোকাবিলায় আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছি। সেই সাথে সেখানে ফোন নাম্বার ও দেয়া আছে। ফোন করেই চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বললেন, চারিদিক পানিতে ভরে গেছে। এখন এগুলো নিয়ে কিছু করার নাই। আমরা ত্রাণ দিয়ে মানুষের পাশে আছি এখন। পানি কমলেও ময়লাও চলে যাবে।

  • [১]