আকরাম উদ্দিন
পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণে সুরমা নদীর পানি টইটুম্বুর হয়ে নদীর তীরের নবীনগর-হালুয়ারঘাট এলাকার জন চলাচল সড়ক ভেঙ্গে গেছে। এতে ওই সড়কে যাতায়াতকারী ২ লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার নবীনগর এলাকার রাস্তার উপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি উপচে পড়ছিল। এই সময় প্রায় দুই মাস আগে সড়কের পাশে নির্মিত নিচু আকারের গার্ডওয়ালসহ সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙ্গে যায়। কিন্তু শুক্রবার সকালে সুরমা নদীর পানির চাপে কার্লভার্টসহ সড়কের অনেক অংশ ভেঙ্গে যায়।
সড়কের পাশ দিয়ে টেনে নেয়া গ্যাস লাইনের পাইপ বেরিয়ে পড়েছে। এই গ্যাস লাইনের পাইপ বিশাল এলাকা জুড়ে দৃশ্যমান রয়েছে। এতে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
সড়ক ভাঙ্গনের পর ১০-১২টি ছোট নৌকায় মানুষ শহরে আসা-যাওয়া করেন। শুক্রবার ধারারগাঁয়ের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ নিজ উদ্যোগে এলাকার মানুষদের নিয়ে বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে দেন। শনিবার উপজেলা প্রশাসন ২শ’ বালুর বস্তা ভাঙ্গন রোধের জন্য দেওয়া শুরু করলেও পানির প্রবল স্রোতে এসব বালুর বস্তা ভাসিয়ে নিচ্ছে।
ধারারগাঁয়ের পয়েন্ট থেকে সড়কের ভাঙ্গন এলাকা পর্যন্ত বর্তমানে তিনটি কার্লভার্ট রয়েছে। পয়েন্টের পাশের একটি কার্লভার্টের উপর মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কালভার্টের ভেতর দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রায় ৪ বছর আগে কালভার্টের পাশের ব্রীজ ভেঙ্গে একটি অর্ধবৃত্তাকার দুর্বল সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবছর এই সড়কের সংস্কার কাজ করতে দেখা যায়। গত দুইমাস আগেও এই সড়কটির পাশে নিচু করে নিম্নমানের গার্ডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এই অংশটিও ঝুঁকির মুখে আছে বলে এলাকাবাসী মন্তব্য করেছেন।
সদ্য ভেঙ্গে যাওয়া সড়কেও কালভার্ট ছিল। গত বছর বর্ষায় কালভার্টের পাশে সড়ক ভেঙ্গে ঝুঁকিতে ছিল। সারা বছরেও ভেঙ্গে যাওয়া গর্ত ভরাট করার ব্যবস্থা করা হয়নি। সড়কের পাশে জোড়াতালি দেয়া আড়াই থেকে তিন ফুট উচ্চতার এই গার্ডওয়ালে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। নামে মাত্র সিমেন্ট দিয়ে ইট লাগানো হয়েছে। মুল ভাঙ্গনে মাটি ভরাট করা হয়নি। এই সড়কের কাজ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও পয়েন্ট এবং নবীনগরের রিনা ‘স’ মিল পর্যন্ত সড়ক ও গার্ডওয়াল ভেঙ্গে গেছে। দীর্ঘ ১০ বছর যাবত এই সড়কের কোনো সংস্কার কাজ হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
ধারারগাঁওয়ের শাহাব উদ্দিন ও আব্দুল লতিফ বলেন, ‘প্রতিদিন লাখ মানুষ এই সড়ক দিয়ে শহরে আসেন। কিন্তু এই সড়কের কাজ নিয়ে বাণিজ্য করেন ঠিকাদার ও অফিসের কর্মকর্তারা। কয়দিন পর পর দুই নম্বরি করে সিমেন্ট ছাড়া দুই একটা ইট লাগান, সামান্য মাটি ফেলেন, পরে আর খবর নেই। এবারের ভাঙ্গনের সময় মানুষ চলাচলের জন্য আমি বাঁশ দিয়ে এলাকার মানুষকে নিয়ে সাঁকো তৈরি করে দিয়েছি।’
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন,‘পানি আসার আগেই ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বলেছিলাম সড়কটি টিকিয়ে রাখার জন্য, তারা চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। কালভার্টের নিচের দিকে পানি চুঁইয়ে মাটি সরে গেছে, কালভার্টও কিছু সরেছে। এই সড়কটি রক্ষা করতে হলে গার্ডওয়াল দিয়ে কালভার্ট বন্ধ করে দিতে হবে’।