- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পাড়ায় পাড়ায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে পোনা মাছ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়া এলাকায় ৩ চাঙা গুতুম মাছের পোনা বিক্রি করতে নিয়ে এসেছেন এক তরুণ। প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ২০০ টাকা দরে। বড় হলে এসব মাছ ৪০০-৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হতো বলছেন ওই তরুণই। মাছ বিক্রেতা তরুণ জানান, হাওরে এখন শুধু পোনা মাছই ধরা পড়ছে। এজন্য পোনা বিক্রি করছেন বিভিন্ন পাড়া মহল্লা ঘুরে ঘুরে।
এভাবে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুনপাড়া, বাঁধনপাড়া শান্তিবাগ, হাছননগর, বড়পাড়া, তেঘরিয়াসহ প্রায় সবকয়টি এলাকায় সকাল হলেই দুয়ারে মিলছে পোনা মাছ। রবিবার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, যেসব মাছ বিক্রেতারা আগে বড় ও পরিপক্ক মাছ বিক্রি করতো- নতুন পানি আসার পর তারাই এখন শুধু পোনা মাছ বিক্রি করছে। মাছ বিক্রেতারা ঝুড়ি, চাঙায় (মাছ বিক্রির পাত্র) করে যে যেভাবে পারছে পোনা মাছ ভর্তি করে নিয়ে আসছে। বিশেষ করে গুতুম, টাকি (চেঙ), শোল, পুঁটি মাছের পোনায় সয়লাব পুরো শহর। সবচেয়ে বেশি দেখা মিলছে গুতুম মাছের পোনা। ঠেলা জাল, কোনা জাল সহ বিভিন্ন জাল দিয়ে হাওরে চলছে পোনা নিধন। অন্যান্য মাছ থেকে পোনা মাছের মূল্য ভালো পাওয়ায় পোনা বিক্রিতে ঝুঁকছেন বিক্রেতারা। আর খেতে সুস্বাদু হওয়ায় কিনছেন ক্রেতারা। পাড়া মহল্লাতে স্থানীয় প্রশাসনের খুব একটা নজরদারি না থাকায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে পোনা মাছ। বিক্রেতারা বলছেন, জেলেদের কাছ থেকে পোনা মাছ ছাড়া আর কোনো মাছই পাচ্ছেন না তারা। তাই বাধ্য হয়েই পোনা বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মৎস্য আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়েছে মৎস্য অফিস।
জানা যায়, হাওরে এখন বর্ষার পানি ঢুকছে। সেই সঙ্গে খালবিল ও হাওরে দেখা দিয়েছে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু জেলে অবাধে সেই পোনা ধরে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দেশীয় পোনা মাছ ধরা ও বিক্রি দুটোই দ-নীয় অপরাধ হলেও তা মানছে না কেউই। এসব পোনা মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধ না হলে দ্রুত বিলুপ্তির পথে যাবে দেশীয় মাছগুলো।
স্থানীয়রা বলছেন, নতুন পানি পেয়ে মা মাছ ডিম দিচ্ছে, তা থেকে পোনা জন্মাচ্ছে। কিন্তু অসাধু জেলেরা প্রতিনিয়ত বেড়জাল, সুতি জাল, টানা জাল দিয়ে এসব পোনা ধরছেন। মাছের প্রজননের সময় যদি এভাবে পোনা নিধন করা হয়, তাহলে দেশি মাছের ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হবে। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তেঘরিয়া এলাকার জাহানারা বেগম বললেন, বিক্রেতারা মাছ নিয়ে আসে, আমরা ক্রয় করি। এখন পোনা মাছের মৌসুম। আমরা এই সময়ে পোনার আশায় থাকি। পোনা খেতে সুস্বাদু ও রান্নায় ঝামেলা কম। পোনা ধরা বা বিক্রি অপরাধ তা জানিনা।
জেলা মৎস্য অফিসার সুনীল মন্ডল বললেন, জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আজকে সোমবার) থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে যারা পোনা মাছ ধরছে বা বিক্রি করবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

  • [১]