- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পিআইসিতে এবারের বরাদ্দ ২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা প্রশাসন ও সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত হাওর রক্ষা বাঁধসমূহের নির্মাণপদ্ধতি, সমস্যা ও সমাধানের উপায় বিষয়ক মতবিনিময় সভা মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর হাসন রাজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ১১ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ৮৭ ইউপি চেয়ারম্যান, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের বিশিষ্টজনেরা এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে জেলা পর্যায়ে এতো বড় আকারের মতবিনিময় সভা এটাই প্রথম। সকাল ১০ টায় শুরু হওয়া এই মতবিনিময় সভা   
বেলা ২ টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়- সুনামগঞ্জের বোরো ফসল রক্ষায় জেলার বৃহৎ ৩৬টি হাওরসহ ছোট বড় সকল হাওরের বাঁধ নির্মাণে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পে এবার ২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নতুন নীতিমালায় ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নির্ভরতা কমানো হয়েছে।’ তিনি হাওরের জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘আপনারা গত বছর কোন দিকে বাঁধ ভেঙেছিল, কোথায় উচুঁ করতে হবে এসব স্থান চিহ্নিত করে রাখবেন, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা কারিগরি কমিটি কাজ করবে।’ তিনি বলেন,‘যেভাবে নীতিমালা করা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসাবে আমরা কাঠগড়ায় রয়েছি, কোথাও ঠিকদার পাওয়া না গেলে পিআইসির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আমাদের।’
পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান বলেন,‘যেকোন মূল্যে আমরা বাঁধ রক্ষা করে ফসল ঘরে ওঠা নিশ্চিত করতে চাই। বাঁধের যেখানে ২৫ লাখ টাকার দুইটি প্রকল্প লাগবে সেখানে দুইটি, যেখানে তিনটি লাগবে সেখানে তিনটি প্রকল্পই করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজজামানের সঞ্চালনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর হাসন রাজা মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।  
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিকি, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জাহেদুল হক, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল মোমেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক আবু সুফিয়ান, ডা. সৈয়দ মনোয়ার আলী, নুরুর রব চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাসিম, পৌর কলেজের অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ, ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার, আবুল বরকত, ফারুক আহদ, প্রবীর বিজয় তালুকদার, আব্দুল কাইয়ুম মাস্টার, রঞ্জিত চৌধুরী রাজন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজা আক্তার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন, মুহিবুর রহমান, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশ্মির রেজা প্রমুখ।
গত বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ২৩৯ টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)  ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং ঠিকাদারদের কাজে বরাদ্দ ছিল ৪৬ কোটি টাকা।
হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় জেলার ৪৬ টি বড় হাওরের ফসল ডুবে প্রায় সোয়া তিন লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বাঁধ না হওয়ায় বোরো ফসলহানির ঘটনায় গত ২ জুলাই দুদকের সহকারি পরিচালক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে ১৫ জন পাউবো কর্মকর্তা, ৪৬ জন ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এরপর গত ৩ আগস্ট পাউবোর ১৫ কর্মকর্তা, ৪৬ জন ঠিকাদার ও ৩৯টি পিআইসির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ৭৮ জনসহ ১৪০ জনকে আসামি করে জেলা আইনজীবী সমিতি মামলা দায়ের করে।
দুদকের মামলায় সুনামগঞ্জ পাউবো’র বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী ও ২ ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা এখন জেল হাজতে।

  • [১]