সদ্য ঘোষিত ৩৫ তম বিসিএস’র চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশে সুনামগঞ্জের ১৬ তরুণ তরুণী বিভিন্ন ক্যাডারে মনোনীত হয়েছেন বলে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়। ফেসবুক পেজ ‘পরিবর্তনের জন্য চাই শিক্ষা’ এর দেয়া তথ্য অনুসারে সুনামগঞ্জের এই ১৬ তরুণ-তরুণী হলেন- প্রশাসন ক্যাডারে জামালগঞ্জের উত্তম কুমার দাস, শাল্লার পল্লব দাস সদর উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমান; প্রশাসন ক্যাডারে জামালগঞ্জের উত্তম কুমার দাস, শাল্লার পল্লব দাস সদর উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমান; পুলিশ ক্যাডারে জামালগঞ্জের জয়ীতা দাস, সদর উপজেলার সালমান পার্সি ও আবুল খায়ের; ইকোনমিক ক্যাডারে বিশ্বম্ভরপুরের নিবিড় রঞ্জন তালুকদার ও ধর্মপাশার আতাউর রহমান; স্বাস্থ্য ক্যাডারে জামালগঞ্জের কৃপেশ রঞ্জন; শিক্ষা ক্যাডারে ধর্মপাশার সোহেল রানা, জামালগঞ্জের আলী হাসান, সাদাত সায়েম, ধর্মপাশার রেজাউল করিম জনি, ছাতকের রহিম উদ্দিন তালুকদার, শাল্লার নিক্সন দাস ও ফউজিয়া (উপজেলার তথ্য পাওয়া যায়নি)। হয়তো এই তালিকার বাইরেও আর কারও নিয়োগ হতে পারে। বিসিএস -এ নিয়োগ পাওয়া সুনামগঞ্জের এই কৃতীদের আমরা অভিনন্দন জানাই। কর্মজীবনে প্রবেশের এই শুভক্ষণে সকলের একটি সফল ও সমৃদ্ধ কর্মজীবন কামনা করি আমরা।
যদিও কর্পোরেট জগত ও বিদেশের হাতছানি এখন তরুণদের ভীষণ আন্দোলিত করে তদুপরি বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ পেতে আগ্রহী আমাদের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের সংখ্যাই বেশি। উচ্চতর শিক্ষা সমাপ্তির পর যারা এই লোভনীয় চাকুরি পান তাঁরা নিজেদের সফল হিসাবে ভাবেন। কিন্তু আমরা যারা দেশের সাধারণ নাগরিক তারা কোন ক্যাডার বিশেষকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে অন্য চাকুরির পদগুলোকে খাটো করতে রাজি নই। আমরা মনে করি সরকারি-বেসরকারি যে জায়গাই হোক নিয়োগপ্রাপ্ত সকলের রয়েছে দেশসেবার উজ্জ্বল সুযোগ। ক্যাডার নয় কর্মক্ষেত্রে সেবার মানসিকতা ও কর্মদক্ষতার মধ্য দিয়ে যারা নিজেদের মেলে ধরতে পারবেন চূড়ান্ত অর্থে তাঁদেরকেই আমরা সফল ব্যক্তি হিসাবে মনে রাখব। আজ যে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হলো , তাঁরা এবং আরও যদি কেউ নিয়োগ পেয়ে থাকেন, তাদের সকলে যখন কর্মক্ষেত্রে সেবাপরায়ণ মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন সেদিনই আমরা আনন্দিত হব। সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে চাকুরিজীবীগণের মানসিকতা এখনও ঔপনিবেশিক ধাঁচের রয়ে গেছে। সরকার যদিও ‘সেবার জন্য প্রশাসন’ নামক নীতিবাক্যকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করেছেন কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এর উপস্থিতি কমই চোখে পড়ে। ৩৫ তম বিসিএসের মাধ্যমে যারা বনেদি সরকারি চাকুরির সুবর্ণ সুযোগ পেলেন তাঁদের মাধ্যমে যদি পরিবেশ-পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে তাহলে সকলের লক্ষ্য পূর্ণ হতে পারে।
শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অনগ্রসর জেলা সুনামগঞ্জ। জাতীয়ভিত্তিক মেধায় আমরা ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যে এক সাথে ১৬ তরুণের (বা তারও চাইতে বেশি) বিসিএসে চূড়ান্তভাবে টিকে যাওয়া যদিও সংখ্যাগত বিচারে আহামরি কিছু নয়, তারপরও এটি আশাব্যঞ্জক। আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এতে অনুপ্রাণিত হবে, নিজেদের তৈরি করে প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে নানা ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জের মেধাবী তরুণরা নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, সেই দিন আর বেুিশ দূরে নয় যখন সংখ্যায় কিংবা এলাকার পরিসর দিয়েই নয় শিক্ষা তথা উচ্চ শিক্ষা দিয়েও আমরা সারা দেশে মূল্যায়িত হব। আমাদের মেধাবী তরুণরাই সেই জায়গায় নিয়ে যাবে। এই তরুণদের প্রতি আমাদের একটিই আহ্বান, আপনারা ব্যক্তি ও পরিবারের সাথে দেশের দুঃখী জনগণকেও সেবা দিন। আত্মকেন্দ্রীকতার পরিবর্তে সামষ্টিক স্বার্থ সংরক্ষণে নিজেদের নিয়োজিত করুন। তাতেই সকলের শুভেচ্ছায় সিক্ত হবেন আপনারা। মানুষের ভালবাসা অর্জনই হোক জীবনের মূলমন্ত্র, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের শুভ মুহূর্তে এই আমাদের শুভাশীষ।