বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নৌকার মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন প্রয়াত ইউসুফ আল আজাদের পুত্র ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল আল আজাদ। তাঁর সাথে মনোনয়ন দৌড়ে পরাস্ত হয়েছেন অপর প্রতিদ্বন্দ্বি জেলা আ’লীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম শামীম। এই নিয়ে ইকবাল সমর্থকদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস কাজ করছে। অপরদিকে শামীম বলয়ে নীরব অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। ধানের শীষ প্রতীকে মনোনীত শক্তিশালী প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দীর সাথে ভোটযুদ্ধে পেরে উঠতে নৌকাবঞ্চিত শামীমের পাশাপাশি তৃণমূল আ’লীগের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি মনে করছেন নৌকার ভোটাররা।
জানা যায়, নির্বাচনী তারিখ ঘোষণার পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূল আ’লীগের ভোটে মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৩ জনের নাম পাঠানো হয় জেলা আ’লীগের কাছে। সেখানে ৫৭ ভোট পেয়ে শীর্ষে ছিলেন মনোনয়ন বঞ্চিত সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম শামীম। ২৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন উপজেলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মো. আকবর হোসেন ও ২৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি দ্বীজেন্দ্র লাল দাস, ৮ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে ছিলেন ইকবাল আল আজাদ। পরবর্তীতে দ্বীজেন্দ্র লাল দাস রেজাউল করিম শামীমকে সমর্থন দিয়ে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
শেষ পর্যন্ত সকলকে চমকে দিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আ’লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. ইকবাল আল আজাদকে চূড়ান্ত করা হয়। এর মাধ্যমে তৃণমূলের ৮ ভোট পেয়ে তলানিতে থাকা ইউসুফপুত্র ইকবাল আল আজাদের ঘাটেই ভিরে ক্ষমতাসীন দলের প্রতীক নৌকা। ইউসুফ আল আজাদ ৩ বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদসহ মোট ৭ বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। প্রায় ৪০ বছরের বেশি সময় জনপ্রতিনিধি থেকে মানুষের সেবা করেছিলেন ইউসুফ আল আজাদ। প্রয়াত জনপ্রিয় এই জনপ্রতিনিধির ছেলে নৌকা প্রতীক পাওয়ায় সরগরম জামালগঞ্জ উপজেলা সদর। তবে আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী রেজাউল করিম শামীম নৌকা না পাওয়ায় বিশাল একটি অংশে হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় নৌকার ভোটাররা মনে করছেন, দুই বলয় যদি একত্রিত হয়ে নির্বাচনে না নামে তাহলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আরেক শক্তিশালী প্রার্থী বিএনপি মনোনীত নূরুল হক আফিন্দীকে ভোটে পরাজিত করা অনেকটা দুরূহ হয়ে পড়বে।
ভীমখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা সদস্য আক্তারুজ্জামান শাহ বলেন, ‘কেন্দ্র যাকে নৌকা দিয়েছে তার পক্ষেই থাকতে হবে। তবে হাইকমা- তৃণমূলকে মূল্যায়ন করেন নি। কেন করেন নি সেটার ব্যাখ্যা দেওয়া অসম্ভব। অতএব আমরা নৌকার পক্ষেই আছি।’
উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি দ্বীজেন্দ্র লাল দাস জানিয়েছেন, ‘নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি। আমরা অবশ্যই নৌকার বাইরে নয়, নৌকার পক্ষেই কাজ করব।’
নির্বাচনে অংশগ্রণের ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নূরুল হক আফিন্দী বলেন, ‘দলের নমিনেশন আমি পেয়েছি। সবকিছু স্বাভাবিক এবং অনুকূল পরিবেশ থাকলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’
উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রের বাইরে নয়। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে যাবো।’
নৌকাবঞ্চিত রেজাউল করিম শামীম জানিয়েছেন, নেত্রী যাকে নৌকা দিয়েছেন, তিনি তাকে স্বাগত জানিয়ে নৌকার পক্ষে আছেন। তিনি নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং নৌকা মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইকবাল আল আজাদ বলেন, ‘জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ উপ নির্বাচনে আমাকে নৌকার প্রার্থী করায় বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আমার প্রয়াত পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদের আদর্শ অনুসরণ করে পথ চলতে চাই। এ জন্য আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রার্থনা করছি। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রতীক নৌকার বিজয় নিশ্চিতে সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।’
গত বছরের ১৯ জুন অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউল করিম শামীমকে পরাজিত করে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত ইউসুফ আল আজাদ। বিজয়ের ৮ মাসের মাথায় ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগ চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করে। সেই শূন্য পদে আগামী ২০ অক্টোবর উপ-নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।