সু.খবর ডেস্ক
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘পিস’ নামে চালু দেশের অনুমোদনহীন স্কুলগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মিডিয়া ও পুলিশ এজেন্সির মাধ্যমে এ স্কুলের অনেকগুলো শাখার তথ্য পেয়েছি। এখানে যারা পড়াচ্ছেন তারাও স্বাধীনতার পক্ষে নয়। পিস স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের দায়দায়িত্ব ওই সব স্কুল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইয়ং চেঞ্জ মেকার্স কোয়ালিশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, পিস স্কুলগুলোর লেখাপড়া, মানসিকতা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে পিস স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিষয় আরও খতিয়ে দেখা হবে।
দেশে বিদ্যমান অনুমোদনহীন সব পিস স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিন দিন আগে চিঠি দিয়ে সব শিক্ষাবোর্ডগুলোকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভারতের বিতর্কিত ইসলামী বক্তা জাকির নায়েকের পিস টিভির সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধের পর সরকারের পক্ষ থেকে এবার অনুমোদনহীন পিস স্কুলগুলোও বন্ধের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক অফিস আদেশে অনুমোদনহীন পিস স্কুলসমূহ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া ঢাকার লালমাটিয়ায় পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকেও নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিতর্কিত কার্যক্রমে লিপ্ত থাকায় লালমাটিয়ার পিস স্কুলটির পাঠদানের অনুমতি বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
‘পিস’ নামে বাংলাদেশে কতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল, রাজধানীর লালমাটিয়ায় পিস স্কুল নামে একটি ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ের সাময়িক নিবন্ধনই শুধু দিয়েছেন তারা। বাকিগুলো অননুমোদিত।
ভারতের বিতর্কিত ইসলামী বক্তা জাকির নায়েকের পিস টিভি বাংলাদেশে বন্ধের পর ‘পিস স্কুল’গুলোর কর্মকা-ের খোঁজ-খবর নিতে শুরু করে সরকার। জাকির নায়েকের মতাদর্শ অনুসরণ করেই ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘পিস’ শব্দ জুড়ে দিয়ে বিভিন্ন নামে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গুলশান হামলাকারী অন্তত দুজন জাকির নায়েকের বক্তব্যে প্ররোচিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠার পর পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধে গত ১১ জুলাই সরকারের সিদ্ধান্ত আসে।