- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পুরাতন সার্কিট হাউস হবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধসহ ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী পুরাতন সার্কিট হাউস ভবনকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসাবে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ও এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলমসহ বিশিষ্টজনেরা পুরাতন সার্কিট হাউস এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম জানিয়েছেন, সার্কিট হাউসের অবয়ব ঠিক রেখে ওই এলাকাকে ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসাবে ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক করা হবে। এজন্য একজন আর্কিটেক্ট মঙ্গলবার সুনামগঞ্জে এসে পৌঁছেছেন। এছাড়া সার্কিট হাউস এলাকাকে বাউন্ডারি দেওয়ালের মধ্যে আনা হবে। তিনি জানান, এলজিইডি’র এই সংক্রান্ত একটি চলমান ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজেল (ডিপিপি) রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায়ই এই কাজটি করা হবে।
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জের সন্তান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক গত ৩ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের কাছে এমন দাবি জানিয়ে অনুরোধপত্র পাঠিয়েছিলেন।
কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক তাঁর অনুরোধপত্রে উল্লেখ করেছিলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে প্রথম পাকিস্তানি সৈন্যরা এসে ওখানেই ঘাঁটি স্থাপন করে এবং সুনামগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই ভবনের চারপাশ থেকে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই ভবনের চারপাশ থেকে মুক্তিবাহিনী অর্থাৎ ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভবনে অবস্থানরত পাকিস্তানী সৈন্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন। প্রথম প্রহরের এই যুদ্ধে ভবন থেকে ছোড়া গুলিতে আবুল হোসেন শাহাদাত বরণ করেন। এই সার্কিট হাউস ভবন দেশবরেণ্য নেতৃবৃন্দ ব্যবহার করেছেন। এই ছোট সার্কিট হাউস ভবনটি আমাদের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের নিদর্শন এবং দুর্লভ একটি স্থাপনা।
অনুরোধ পত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, এই ভবনের বারান্দায় বসে সামনের জুবিলী স্কুল মাঠ, সুরমা নদী, দূরের নীল পাহাড় অর্থাৎ সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রূপ বৈচিত্র উপভোগ করা যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলার ছোট অথচ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, ঐতিহাসিক ও নান্দনিক স্থাপনা অবিকল সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি।
এই অনুরাধপত্র একই সঙ্গে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সুনামগঞ্জের জেলা প্রশসককে পাঠিয়েছিলেন ড. মোহাম্মদ সাদিক।
সোমবার বিকালেই পুরাতন এই সার্কিট হাউসের সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরী’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালেহ্ আহমদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আইনুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • [১]