আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর পৌরশহরে একটি স্টুডিওর ভেতরে মালিককে নৃশংসভাবে হত্যার পর তালাবদ্ধ করে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি শহরসহ পুরো জগন্নাথপুর উপজেলাবাসিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। লোক মুখে একটাই কথা, কেন মারা হলো, কারা মারল। এসব প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে।
শুক্রবার দুপুরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগের দিনে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় দিকে সুনামগঞ্জ পুলিশের সিআইডি দল ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে। তবে কোন ধরনের আলামত পাওয়া গেছে কিনা এবিষয়ে সুনিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই বছর পূর্বে নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ থানার বটতলা গ্রামের সুনিল সরকারের ছেলে আনন্দ সরকার (২৩) জগন্নাথপুর পৌরশহরে কাজের সন্ধানে আসেন। বছরখানেক শহরের একটি স্টুডিও দোকানে কর্মচারি হিসেবে কাজ করেন তিনি। প্রায় ৮/৯ মাস পূর্বে আনন্দ সরকার জগন্নাথপুর উপজেলার
পরিষদের পাশে শহরের কামাল কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় ভাড়া দোকান নিয়ে ‘আনন্দ ডিজিটাল স্টুডিও’ নামে দোকান পরিচালনা শুরু করেছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, গত তিন দিন ধরে আনন্দ সরকারের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মা ও বড় ভাই জগন্নাথপুরে এসে স্টুডিওতে গিয়ে দেখেন তালাবদ্ধ। পরে স্থানীয়রা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় আনন্দের নিথর দেহ পড়ে আছে। দিনভর পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। রাত ৯ টার দিকে সুনামগঞ্জ থেকে পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিটের একটি দল ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে। পুলিশ জানায়, গলা কেটে নৃশংসভাবে আনন্দকে হত্যা করে দোকান ঘরের বাহিরে তালা লাগিয়ে হত্যাকারীরা পালিয়েছে।
জগন্নাথপুরের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম রিপন বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। কিন্তু কেন মারা হলো। কী কারণে এতো হিং¯্র হয়ে খুনিরা তরুণ ব্যবসায়ীকে হত্যা করল। মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমাদের দাবি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুন।
ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি দল কোন ধরনের আলামত পেয়েছে কিনা এবিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে গতকাল বিকেল তিনটার দিকে সহকারি পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) মাহমুদুল হাসানসহ জগন্নাথপুর থানার একদল পুলিশ আবারও ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।
সহকারি পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান চৌধুরী জানান, গলা কেটে ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর গলায় ফাঁসের মতো কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে রেখে বাহিরে তালাবদ্ধ করে দুর্বৃত্তরা পালিয়েছে। তিনি জানান, দোকান ঘরের বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন রয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের ধরতে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান।