দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় সরকারের বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, তহবিল আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয়ের স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রমের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার দুপুর ১২টায় শান্তিগঞ্জ বাজারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন পূর্ব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মছদ্দর আলী।
তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি, তহবিল আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারে প্রতিকার চেয়ে গত ১ বছর ধরে কয়েক দফা দরখাস্ত করে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। গত ১৫ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ বরাবর অভিযোগ দায়ের করার পর সহকারি কমিশনার মিল্টন চন্দ্র পাল সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও তদন্তের
প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও আইসিটি শাখার সহকারী কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করেও প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করার পর তিনি তদন্তের দায়িত্ব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক রঞ্জন এর উপর দিলে আজও কোন সুরাহা হয়নি। কোন প্রতিকার না পেয়ে গত বছরের ৭ জুলাই পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের কাছে অভিযোগ করলে তিনি বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রেরণ করেন। জেলা শিক্ষা অফিসার গত ৯ আগস্ট সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পান। তবে কোন রিপোর্ট দেননি, ব্যবস্থাও গ্রহণ করেননি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত ৩১ অক্টোবর সভা আহবান করে প্রধান শিক্ষকের যোগদানের পর ১০ জুলাই ২০১২ ইং থেকে ৩০ অক্টোবর ২০১৮ ইং তারিখ পর্যন্ত ৭ বছরের বিদ্যালয়ের আয় ব্যয়ের হিসাব পরীক্ষা নিরীক্ষা দেখিয়ে অনুমোদন করেন প্রধান শিক্ষক। কমিটির লোকজন বার বার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির স্টক রেজিস্টার প্রদান করেননি। বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যাবতীয় ফিসের প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকে জমা না করে সাবেক সভাপতি ও একাডেমিক সুপারভাইজারের সাথে যোগসাজসে ভাগ ভাটোয়ারা করেছেন।
এছাড়া বিদ্যালয়ের অনুকূলে সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের টাকা, বিদ্যালয়ের ৮০ হাত লম্বা ঘরের ঢেউটিন ও কাঠের তৈরী ঘর ভেঙ্গে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং বিদ্যালয়ের ৭-৮ টি রেন্ট্রি গাছ কেটে বিক্রি করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মোট ২২ হাজার ৭ শত ৫০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কাচা মিয়া, শুকুর মিয়া, মাসুক মিয়া, শিবলী রানী দে।
প্রধান শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় সরকার জানান, আমার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য। আমি কোন দুর্নীতি করিনি বা কোন টাকা আত্মসাৎ করিনি।