স্টাফ রিপোর্টার
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছ কর্তন করেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দোয়ারা উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে বাগানের মালিক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে দোয়ারা থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয়রা জানান, বসন্তপুর গ্রামের পাশের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধানী জমি চাষ করে এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন গ্রামের একাধিক বাসিন্দা। কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্র ওই স্থানে মসজিদ ও মন্দিরের জায়গা রয়েছে বলে জোর প্রচার চালায়। কয়েকবার ভূমি পরিমাপ করে দেখা যায় অল্প পরিমাণে জায়গা রয়েছে কোনো ব্যক্তির দখলে। তাই এই জায়গা ছেড়ে দেওয়ারও আলোচনা হয় গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। কিন্তু অতি উৎসাহিত হয়ে একটি চক্র কতিপয় ব্যক্তিদের নিয়ে জোরপূর্বক গাছ কর্তন করে ফেলে মিজানুরের বাগানের।
অভিযোগকারী মিজানুর রহমান বলেন, যারা আমার বাগানের অসংখ্য গাছ কেটেছে তাদের সাথে আমার পূর্ব শত্রুতা ছিল। গ্রামে প্রভাব খাটিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। আমি রেকর্ডসূত্রে মালিক এই জায়গার। আমার রেকর্ডীয় জমিতে গাছের বাগান করেছি। একাধিকবার ভূমি পরিমাপ করেও আমার দখলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো জায়গা পাওয়া যায়নি। তারপরও বিষয়টি পঞ্চায়েতের বিচারাধীন আছে।
গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আতর আলী বলেন, যদি মসজিদ বা মন্দিরের জায়গা থাকে তবে পঞ্চায়েত মিলে এটা নিষ্পত্তি করবে। কিন্তু সাবেক মেম্বার তালেব ও তার ছেলে আশিদ আলী, গ্রামের মনতর আলী গংরা নিজের প্রভাব খাটিয়ে পঞ্চায়েত তোয়াক্কা না করে এই গাছ কাটার ঘটনা ঘটিয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেখানে মিজানুরের গাছ ছিল সেখানে আমারও কৃষি জমি ছিল। আমরা গ্রামবাসী সবাই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের অনেকের দখলীয় জায়গার কিছু অংশে মসজিদের এবং মন্দিরের জায়গা ছিল। এই জায়গা যে কেউ দখলে থাকলে অবশ্যই ছাড়তে হবে।
মান্নারগাঁও ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাছির উদ্দিন বলেন, মিজানুরের দখলে ধমীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা ছিল। এই জায়গার সীমানা নিধারণ করে রেখেছিলেন গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ। কিন্তু মিজানুর রহমান তা দখলে থাকা জায়গার গাছ কাটতে চাননি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের মানুষ জায়গা উদ্ধারে গাছ কর্তন করে। এই ঘটনায় মিজানুর রহমান থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ এসে গাছ কাটা বন্ধ করে থানায় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়ার কথা বলে চলে যান।
দোয়ারা বাজার থানার এসআই সুমন বলেন, একাধিকবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।