- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পেঁয়াজ কম খাওয়ার নসিহতের চাইতেও জরুরি হল এর বাজারমূল্য স্থিতিশীল করা

পেঁয়াজের অস্থির বাজার নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠার জোগাড় হয়েছে। পেঁয়াজের কেজি যখন এক শ’ টাকা ছুঁয়ে ফেলেছিল তখন সারা দেশে ত্রাহি ত্রাহি রব শুরু হয়ে যায়। এখন পেঁয়াজের কেজি দুই শ’ টাকা অতিক্রম করার পর অল্প শোকে কাতরতা কাটিয়ে অধিক শোকে পাথর বনে গেছেন মানুষ। এ নিয়ে কে কী বলবেন ভেবে পাচ্ছেন না। সরকারি দায়িত্বশীলরা পুরোনো রেকর্ড বাজিয়ে চলেছেন। তাঁরা এখনও সিন্ডিকেট খোঁজার তালে রয়েছেন। সিন্ডিকেট সম্ভবত অদৃশ্য থাকার মন্ত্রগুপ্তি ভাল করে জানে। তাই তাদেরকে কেউ দেখতে পারছে না। কিন্তু অদৃশ্য হলেও এদের ঝাঁজ পেঁয়াজের মূল্যের সাথে মানুষের চোখ ও মেজাজ একসাথে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে। বাজারে কোনো জিনিসের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে সরকারের নানাভাবে সেখানে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ আছে। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো জিনিসের দাম বাড়লে সরকারি পর্যায়ে গুরুত্ব পায় কম। ফলে এর দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকে। বাজার অস্থিতিশীল করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটে নেয়া একটি অতি পুরাতন বাণিজ্য কৌশল। এই কৌশল খাটিয়ে বহু ব্যবসায়ী রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে যান। এই ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে নিজেদের অপকৌশল বাস্তবায়ন করেন কিন্তু শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে। কেন? এর বহুবিধ উত্তর রয়েছে। তবে বোধ করি সবচাইতে জোৎ-সই কারণটা হলো, প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধনি তোষণের নীতিতে পরিচালিত। এখানে অর্থনীতি রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। করে বলেই অহেতুক পেঁয়াজের মূল্য কারণ ছাড়াই দুই শ’ টাকা ছাড়াতে পারে। পেঁয়াজের চড়া বাজারের এই অবস্থা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান। এই সময়ের মধ্যে আমরা সরকারের এমন কোনো পদক্ষেপ দেখি নাই যাতে করে এই চড়া বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়ানো হয়েছে। আর সময়ক্ষেপণ করে ব্যবসায়ীদের লুণ্ঠনের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
বলা হচ্ছে, দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজ এখন মজুদ নেই। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এই দুইটি কারণ পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী। হতে পারে এমন। কিন্তু এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার ইতোমধ্যে কী করেছে? নতুন কোনো দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করেছে? পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে? সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের জন্য খোলাবাজার পদ্ধতিতে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে? মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী আমদানিকারক একজনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে? উপরের প্রশ্নের সবগুলোতেই তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের অভাব প্রকট। ফলে লাগামছাড়া হয়েছে পেঁয়াজের বাজার। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক বাকবিতন্ডা হচ্ছে। এতে যতটা না ভোক্তাদের জন্য আক্ষেপ দেখা যাচ্ছে তার চাইতে বড় হয়ে উঠতে দেখি রাজনৈতিক বাহাস। এই ধরনের বাহাসে বাজার ব্যবস্থা পরিবর্তন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সরকারের বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রণালয়কে একটু গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে হবে। যতদিন পর্যন্ত দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে না আসছে ততদিন সহজ শর্তে বিদেশ থেকে আমদানি করে বাজারের জোগান ঠিক রাখতে হবে। এ জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা সরকারের হাতে আছে তার সবগুলোই প্রযুক্ত করতে হবে। পেঁয়াজ মানুষের জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য না হলেও খাদ্যাভ্যাসের সাথে এই মসলা জাতীয় সবজিটি মজ্জাগত হয়ে গেছে। মানুষ পেঁয়াজের জন্য হা-পিত্যেশ করবেই। কারণ এই মশলা ছাড়া বাঙালি রন্ধনপ্রণালী এখন একেবারেই অচিন্তনীয়। তাই পেঁয়াজ কম খাওয়ার নসিহত করার চাইতেও জরুরি হল এর বাজারমূল্য স্থিতিশীল করার তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

  • [১]