- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পেছনের দরজা দিয়ে ইইউতে ফেরার কোনো চেষ্টা করব না -থেরেসা মে

লন্ডন প্রতিনিধি
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন হোম সেক্রেটারী থেরেসা মে। টানা সাত বছর যাবত হোম সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা থেরেসা মে বলেছেন,‘যুক্তরাজ্যের ইইউ-তে থাকা না থাকার প্রশ্নে আর কোনো গণভোট হবে না। ‘পেছনের দরজা দিয়ে’ ইইউতে ফেরার কোনো চেষ্টাও তিনি করবেন না।’
তিনি বলেন,‘ডেভিড ক্যামেরন একজন যোগ্য প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এজন্য তিনি দেশ পরিচালনায় ক্যামেরনকে অনুসরণ করবেন।’
৫৯ বছর বয়সী থেরেসা মে কনজারভেটিভদের মধ্যে আধুনিকতাপন্থি। তারপরও স্বল্পভাষী এই নারীর অনমনীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে ব্রিটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচারের ছায়া খুঁজে পান সহকর্মীদের অনেকে। এমন এক পরিস্থিতিতে  থেরেস  সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিলেন  যখন বৃটেন একটি কঠিন সময় পার করছে।
থেরেসা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন এমন একজন
রাজনীতিবিদ হিসেবে, যিনি নির্ভরযোগ্য এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও দৃঢ় থাকতে পারেন। নিজেকে জাহির না করেও সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই মনোবল থেরেসামে-কে এই সময়ের যুক্তরাজ্যের হাল ধরার জন্য ‘সঠিক ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।  ১৯৫৬ সালে সাসেক্সে জন্ম নেওয়া মে ১৯৯৭ সালে বার্কশায়ারের মেইডেনহেড থেকে প্রথমবার র্পালামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। গত ১০০ বছরে যে ক’জন এ পদে ছিলেন, মে’র সময়কাল তাদের মধ্যে ‘দ্বিতীয় সর্বোচ্চ’ বলে বিবিসির তথ্য। সাসেক্সে জন্ম হলেও মে বেড়ে ওঠেন অক্সফোর্ডশায়ারে। প্রথমে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে এবং পরে একটি ইনডিপেনডেন্ট কনভেন্ট স্কুলে তার প্রথম দিকের লেখাপড়া। অবশ্য গ্রামের বাড়ির গ্রামার স্কুলেই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন মে। পরে ওই স্কুলের নাম হয় হুইটলি পার্ক কম্প্রিহেনসিভ স্কুল। মার্গারেট থ্যাচারের মতই মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা মে কিশোর বয়সে তার বাবার গড়া পেন্টোমাইমের দলে কাজ করেছেন। পকেট খরচ জোগাড় করছেন প্রতি শনিবার বেকারিতে কাজ করে। থেরেসা মের বাবা হুবার্ট ব্রেজিয়ার ছিলেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের ‘ভাইকার’ (ডেপুটি)। গাড়ি দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়ার পর সেই ধকল সইতে না পেরে রোগ ভুগে যখন তার মৃত্যু হয়। মেয়ের বয়স তখন ২৫ বছর। সেন্ট হিউ কলেজে পড়াশোনা শেষে মে ভর্তি হন অক্সফোর্ডের ভূতত্ত্ব বিভাগে। সেখানেই পরিচয় হয় অক্সফোর্ড ইউনিয়নের তখনকার প্রেসিডেন্ট ফিলিপ মে’র সঙ্গে। বলা হয়, তাদের দুজনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বেনজির ভুট্টো। যিনি পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮০ সালে ফিলিপের সঙ্গে বিয়ের পর থেরেসা ব্রেজিয়ার হয়ে যান থেরেসা মে। ওয়েস্টমিনস্টারের প্রথম দিনগুলোতে মে পরিচিত হয়ে ওঠেন তার জুতার সংগ্রহের জন্য। নানা রঙ আর আকৃতির হিল তাকে যেমন রাজনৈতিক মহলে পরিচিত করে তুলেছিল; তেমনি ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের দৃষ্টিতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্রিটিশ রাজনীতির অন্দরমহলের একজন ফ্যাশন আইকন। রান্নার শখ আছে থেরেসামে’র। তার সংগ্রহে আছে একশর বেশি রান্নার বই। পাহাড়ে চড়তে পছন্দ করেন; ভালোবাসেন মোজার্ট ও এগারের সঙ্গীত। অ্যাবার ‘ড্যান্সিং কুইন’ আর ‘ওয়াক লাইক এ ম্যান’ তার প্রিয় অ্যালবাম।
বন্ধুরা জানাচ্ছেন, লম্বা গড়নের ফ্যাশন সচেতন থেরেসা মে প্রথম জীবনে যুক্তরাজ্যের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু প্যাট ফ্রাঙ্কলেন্ড ২০১১ সালে বিবিসি রেডিও ফোরকে বলেন,‘এমন কোনো সময়ের কথা আমার মনে পড়ে না যখন আমি তার মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা দেখিনি। আমার মনে পড়ে, সে যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিল এবং মার্গারেট থ্যাচার যখন তা হয়ে গেল, তখন খানিকটা বিব্রতই যেন হয়েছিল।’
পরবর্তী জীবনে অনাড়ম্বর ও স্বল্পভাষী হিসেবে পরিচিত মে তারুণ্যের দিনগুলোতে বেশ হাসিখুশি ও মিশুক ছিলেন বলেও জানান প্যাট। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর মে কাজ শুরু করেন ব্যাঙ্ক অব ইংল্যান্ডে। পরে তিনি পেমেন্ট ক্লিয়ারিং সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ইউরোপীয় অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধানও হয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুর”তে দক্ষিণ লন্ডনের মের্টনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মে। সেখানে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় এক দশক। ১৯৯২ সালে উত্তর পশ্চিম ডারহামের লেবার অধ্যুষিত এলাকায় কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মে। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন হিলারি আর্মস্ট্রং, যিনি টনি ব্লেয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের চিফ হুইপ হয়েছিলেন। ওই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তর”ণ টিম ফেরন। যিনি এখন লিবারেল ডেমোক্রেট দলের শীর্ষ নেতা। দুই বছর পর পূর্ব লন্ডনের বার্কিংয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মে। সে সময় কনজারভেটিভ পার্টি ছিল তুলনামূলক কম জনপ্রিয়। মে ওই নির্বাচনে ১,৭০০ভোট পান। ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে এসে ভাগ্য বদলায় থেরেসা মের। ওই নির্বাচনে লেবার পার্টি ও টনি ব্লেয়ার বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এলেও বার্কশায়ারের মেইডেনহেড থেকে জিতে পার্লামেন্টে যান কনজারভেটিভ মে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ওই আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ১৭ বছর ধরে কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ রাজনীতিক হিসেবে যে ক’জন নারীকে বিবেচনা করা হয় মে তাদের একজন। রক্ষণশীল দলটিকে ‘আধুনিক’ করতে সাহসী ও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েও তিন প্রশংসিত হয়েছেন। ২০০২ সালে দলের এক কনফারেন্সে দলের নীতি নির্ধারকদের সমালোচনা করে মে বলেন,‘আপনাদের জানা থাকা উচিত, অনেকেই আমাদের দলকে নিয়ে খারাপ সমালোচনা করেন।’
১৯৯৯ সালে ছায়া মন্ত্রীসভার সদস্য হয়ে যান থেরেসা মে। ২০০২ সালে হন দলের প্রথম নারী চেয়ারম্যান। দলে অবস্থান মাইকেল হাওয়ার্ডের পরে থাকলেও প্রভাবশালী ‘নটিং হিল’ লবির ঘনিষ্ঠ ছিলেন না মে। ২০০৫ সালে তৃতীয়বারের মতো জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর এই লবি সংশ্লিষ্টরাই কনজারভেটিভ দলের হাল ধরেন। ডেভিড ক্যামেরন ও জর্জ অসবর্নের মত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা ওই লবির ঘনিষ্ঠ বলে বিবিসির তথ্য। ছায়া মন্ত্রীসভায় তুলনামূলক কম গুর”ত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হত বলে সে সময় ‘প্রভাবশালী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন না মে। ২০০৯ সালে সে অবস্থা পাল্টে যায়, ছায়া মন্ত্রীসভার ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন সেক্রেটারির দায়িত্ব পান মে। ২০১০ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর লিবারেল ডেমোক্রেটদের নিয়ে জোট সরকার গড়ে কনজারভেটিভরা। ওই বছরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অনেকের রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটালেও মের কাজ করেছেন ভিন্ন কায়দায়। বড় বড় বিষয়ের পাশাপাশি ছোট অথচ গুর”ত্বপূর্ণ সব বিষয়েই তীক্ষè নজর ছিল তার। দলের অনেক নেতার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ থাকলেও সেসবকে পাত্তা দেননি মে।
ডাউনিং স্ট্রিটের অনেকের সমালোচনা ছিল, মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিজের ব্যক্তিগত ‘জমিদারিতে’ পরিণত করেছেন। সেসব কথায় কান না দিয়ে ‘আপসহীন’ থেরেসা মে নিরাপত্তাসহ জনগুর”ত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। “তিনি প্রায়ই জর্জ অসবর্নের সঙ্গে অভিবাসী ইস্যুতে বিতর্কে জড়িয়েছেন। মাইকেল গোভের সঙ্গেও তার বাদানুবাদ একবার বিপদজনক দিকে চলে গিয়েছিল। তবে ক্যামেরনের সঙ্গে তার মতের মিল ছিল বেশি। কোয়ালিশন সরকারে মে’র তখনকার সহযোগী লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলের নেতা ডেভিড ল।
তিনি বলেন,‘২০১০ সালে ট্রেজারি অফিসে মে’র সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। সেসময় তাকে নার্ভাস মনে হচ্ছিল। হোম সেক্রেটারীর দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে বেশ বিস্মিতও মনে হচ্ছিল। সত্যি কথা বলতে, আমিও ভাবিনি দুই বছরের বেশি তিনি ওই দায়িত্বে থাকতে পারবেন।” অনেক বিষয়ে উদার নীতি নিলেও ‘সন্ত্রাসবাদ রোধে ইন্টারনেটে নজরদারী’ বাড়ানোর বিষয়ে তখনকার উপপ্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা নিক ক্লেগের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন মে।সেসময় ‘কঠিন’ এক বৈঠকের পর মে’র ‘বরফ শীতল’ অভিব্যক্তির কথাও ল’কে জানান ক্লেগ।2
‘সে আচরণে বেশ রহস্যময়ী এবং অনমনীয়। কঠিন ব্যবহার করলে তা মেনে নিয়েই সে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে,” বলেন ক্লেগ। অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও সাফল্য পান মে। ২০১৩ সালে উগ্রপন্থি জঙ্গিনেতা আবু কাতাদাকে আটক মে’র সাফল্যের তালিকায় যুক্ত করে নতুন পালক। এছাড়া কম্পিউটার হ্যাকার গ্যারি ম্যাককিননকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তন্তর ঠেঁকিয়ে দেওয়াটাও তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। পুলিশের দুর্নীতি কমাতে মে’র শক্ত অবস্থান তার প্রতি সমর্থন বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে না পারায় সমালোচনাও হয়েছে তার।
দি-গার্ডিয়ান এর ভাষ্যমতে,‘ব্রেক্সিটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পাশাপাশি থেরেসামেকে লিমিটেড কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে বেতন নিয়ে আলোচনার সময় শ্রমিক প্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতিসহ শ্রমিকবান্ধব পরিচালন নীতি নিশ্চিতে কাজ করতে হবে।
কনজারভেটিভ দলের সাবেক চ্যান্সেলার কেন ক্লার্কের ভাষায়,‘মে হবেন ‘মার্গারেট থ্যাচারের মতই একজন। মে তার কাজে বেশ দক্ষ, কিন্তু সে কঠিন এক নারী। অনেক কিছুর মিল না থাকলেও তাকে অনেকটা মার্গারেট থ্যাচারের মতই মনে হয়।’
অন্য রাজনীতিবিদদের মতো ক্লাবে যেতে কিংবা হাউজ অব কমন্সের চা ঘরে গিয়ে টুকটাক আড্ডা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না মে। নিজের ব্যক্তি জীবনকে তিনি অনেকটা আড়ালেই রেখেছেন। ২০১৩ সালে মে জানান, তার টাইপ-১ ডায়াবেটিস আছে। সেজন্য তাকে দিনে দুবার ইনসুলিন নিতে হয়। সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে দলের সঙ্গে থেরেসামে’র দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে। সমকামী বিয়েতে তার আপত্তি নেই। ২০১২ সালে তিনি গর্ভপাতের বিষয়েও ‘শর্তযুক্ত’ সমর্থনের কথা বলেন।
তার মতে, ২০ থেকে ২৪ সপ্তাহের কম বয়সী ভ্রুণের ক্ষেত্রে গর্ভপাতে তিনি সমস্যা দেখেন না। বেশিরভাগ কনজারভেটিভ সাংসদ শিয়াল শিকারে নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করলেও মেইডেনহেডের এই এমপি এর বিপক্ষে। এক সময় যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে বের করে আনার প্রস্তাব দিলেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আর সেই পথে না হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন মে।
তিনি বলছেন, এর জন্য যে পরিমাণ সাংসদের সমর্থন দরকার, তা এ মুহূর্তে পাওয়া যাবে না। ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাড়িতে এ পর্যন্ত যারা থাকতে এসেছেন, তাদের মধ্যে বয়সের বিচারে ৫৯ বছর বয়সী মে’র অবস্থান দ্বিতীয়। ১৯৭৬ সালে নির্বাচিত জেমস কালাহানই কেবল তার চেয়ে বেশি বয়সে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আর টেড হিথের পর মে হচ্ছেন দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী, যার কোনো সন্তান নেই।
গেল জুনে ব্রেক্সিট গণভোটে ‘বিচ্ছেদপন্থী’রা বিজয়ী হওয়ার পর ডেভিড ক্যামেরন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার ঘোষণা দিলে মে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হন। সোমবার কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকে জ্বালানিমন্ত্রী আন্ড্রে লিডসম ‘হঠাৎ করেই’ সরে দাঁড়ানোয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয় থেরেসামে’র। দলের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সদস্যের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল এ দুই নারীর। নির্বাচনের ফল প্রকাশের কথা ছিল ৯ সেপ্টেম্বরে। কিন্তু তার আগেই সোমবার লিডসম সরে দাঁড়ান। এর পরপরই ক্যামেরন পদত্যাগের আন্ষ্ঠুানিকতা শুর”র ঘোষণা দেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, খুব দ্র”ত দলের শীর্ষ নেতার পদে আবির্ভূত হলেও মে সঙ্কটকালীন সময়ে তার অভিজ্ঞতা ও বিবেচনাবোধ কাজে লাগিয়েই অগ্রসর হবেন।
আর মে মনে বলেছেন, ‘ব্রেক্সিটের’ ঝামেলা চুকানোর পাশাপাশি দলের ‘রিমেইন’ ও ‘লিভ’পন্থীদের এক করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। “এই মুহূর্তে দলকে একতাবদ্ধ করা ও সবার ভালোর জন্য দেশ পরিচালনা করাই দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় নমুনা হবে। ভবিষ্যতের জন্য আমাদের দরকার শক্তিশালী ও নতুন ইতিবাচক দৃষ্টি। এমন একটা দেশ গড়তে হবে, যার কেবল সুবিধাভোগী কয়েকজনের হবে না, হয়ে উঠবে আমাদের সবার”, বলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

  • [১]