বিশেষ প্রতিনিধি
ডিজেল-পেট্রোলের দাম বাড়ায় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন বাসস্টেশনে শনিবার সকাল থেকেই যাত্রী-শ্রমিক বচসা হয়েছে। শহরের নতুন বাসস্টেশন থেকে অন্যদিনের চেয়ে কম বাস ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
ডিজেল পেট্রোলের দাম বাড়ার সকাল থেকেই সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটে বিরতীহীন বাসের ভাড়া ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, এসি বাস (নিলাদ্রী) ৩০ টাকা বাড়িয়ে ১৯০ টাকা আদায় করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ—ঢাকার বাসগুলো আগের চেয়ে জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা আদায় করছে।
সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটগামী যাত্রীরা বললেন, হঠাৎ করে ভাড়া কেবল বাড়ানো নয়, দীর্ঘক্ষণ দঁঁাড়িয়েও বাস পাওয়া যাচ্ছে না। ইচ্ছে করেই বাস কম ছাড়া হচ্ছে জানিয়ে একাধিক যাত্রী বলেছেন, পরিবহন শ্রমিকরা বেশি ভাড়া আদায়ের জন্য ক্রাইসিস তৈরির চেষ্টা করছেন, এজন্য স্টেশনে বাস থাকলেও যাত্রী পরিবহন থেকে বিরত থাকছেন তারা। অন্যদিকে বাস চালকরা বলেছেন, তেলের দামে আর ভাড়ায় পুষানো যাচ্ছে না, এজন্য বাস ছাড়ছেন না তারা।
শনিবার দুপুর ১২ টায় সুনামগঞ্জ বাসস্টেশনে গিয়ে দেখা যায় বাসের কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড়ে ঠাসা। সুনামগঞ্জ শহরতলির মাইজবাড়ীর বাসিন্দা মিছবাহ্ আহমদ বললেন, ‘তেলের দাম বাড়ছে লিটারে ৩০ টাকা, তারা (বিরতিহীন ও এসি বাস) যাত্রী প্রতি ভাড়া বাড়িয়েছে ২০ এবং ৩০ টাকা। এটা মেনে নেওয়া যায় না। সবকিছুর হিসাব থাকতে হবে।
পরিবহন শ্রমিক নেতা আব্দুল মতিন বললেন, সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটের ভাড়া জনপ্রতি ২০—৩০ টাকা বাড়িয়েও বাস চালানো যাচ্ছে না। অনেক শ্রমিক মালিককে হিসাব দিতে পারবে না ভয়ে বাস নিয়ে বসে আছে, ট্রিপ নিতে চাচ্ছে না।
এদিকে, পেট্রোলের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন মোটর সাইকেলের যাত্রীরা। হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ছয় উপজেলায় প্রধান বাহন মোটর সাইকেল। শনিবার থেকে মোটর সাইকেল চালকরাও ভাড়া বাড়িয়েছে। জেলার বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা বেড়ে ১৫০ হয়েছে, তাহিরপুরে ৩০ টাকা বেড়ে ১৫০, লাউড়েরগড়েও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, বড়ছড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং জামালগঞ্জের সাচনায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা মোটর সাইকেল ভাড়া শনিবার আদায় হয়েছে। হঠাৎ করে মোটর সাইকেল ভাড়া ভাড়ায় যাত্রী—চালকদের মধ্যে সকাল থেকেই কথা কাটাকাটি হয়েছে।
ওখানেও যাত্রীরা বলেছেন, হিসাব করে টাকা নিয়ে বেরিয়েছেন, পথে বিপদে পড়েছেন তারা, ভাড়া বাড়ানোর আগে ঘোষণা থাকলে ভালো হত।
মোটর সাইকেল চালকরা বলেছেন, তারা যে টাকা ভাড়া বাড়িয়েছেন, তাতেও তাদের পুষাচ্ছে না।
মোটর সাইকেলের যাত্রী সাচনা বাজারের বাসিন্দা অমিত পাল বললেন, আমাদের মত নিম্ন আয়ের মানুষগণ পথ চলায় হিসেব করে প্রস্তুতি নিয়ে বের হন, আমি ভাড়ার টাকা হিসেব করেই পথে বেরিয়েছে, হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ায় স্টেশনে এসে বিপদে পড়েছি, ভাড়া বড়ানোর আগে ঘোষণা দিলে ভালো হত।
মোটর সাইকেল চালক মঞ্জুর আহমদ বললেন, তেলের দাম হিসাব করে নতুন ভাড়া দাবি করেছি আমরা। এরপরও যাত্রীরা দিতে চাচ্ছেন না, আমরা তাহলে কি করবো, যাত্রীরা বুঝতে হবে ভাড়া আমরা বাড়াইনি।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, ‘সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব স্যারের সঙ্গে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা আজ (শনিবার) বিকালে বসার কথা। ওখানে ভাড়া নিয়ে আলোচনা হবে, নতুন তেলের মূল্য বিবেচনায় ভাড়া নিধারণ হবে। পরে আমরা জেলায় বসবো, ঢাকার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য সকলের সঙ্গে কথা বলবো।