শহীদনূর আহমেদ
শহরের প্রধান ডাকঘরে পোস্টাল অর্ডার না পেয়ে বিক্ষোভ করেছে আবেদনকারীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বুধবার সকাল থেকে আবেদনকারীদের ভিড় জমে উঠে প্রধান ডাকঘরের ভিতর ও প্রাঙ্গণে। তারা পোস্টাল অর্ডার না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হন । গত তিন ধরেই পোস্ট অফিসে পোস্টাল অর্ডার না থাকায় বিপাকে পড়েছেন জজ কোর্টের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পেতে ইচ্ছুক শত শত আবেদনকারী। এদিকে পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ দ্রুত পোস্টাল অর্ডার সংগ্রহের জন্য জরুরি কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করেননি। আজ (বৃহস্পতিবার) আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ। আবেদনপত্রের সাথে ১০০ টাকার পোস্টাল অর্ডার দাখিল করা বাধ্যতামূলক করায় আবেদনকারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অথচ পোস্ট অফিস থেকে বলা হচ্ছে আজ দুপুরের আগে পোস্টাল অর্ডার আসার কোন সম্ভাবনা নেই। শুধু পোস্টাল অর্ডারের কারণে আবেদন না করতে পারায় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আবেদন দাখিলের সময়সীমা বাড়াবেন কিনা এ নিয়েও চাকুরিপ্রার্থীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এদিকে স্থানীয় কিছু দালালের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে কিছু পোস্টাল অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক আবেদনকারী। তারা পোস্টাল অর্ডার সংকটের জন্য পোস্ট অফিসের দুর্নিিত ও গাফিলতিকে দায়ী করছেন।
আবেদনকারীরা জানান, ২১ জুলাই জেলা জজ আদালতে নিয়োগ আবেদনের মেয়াদ শেষ। বুধবার দিন ব্যাপী অপেক্ষা করেও পোস্টাল অর্ডার পাননি তারা। পোস্টমাস্টার জানান, ২১শে জুলাই পোস্টাল অর্ডার প্রধান ডাকঘরে আসবে। এই পর্যন্ত আবেদনকারীদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
বুধবার সরেজমিন জেলা সদরের প্রধান ডাকঘরে গিয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শত শত আবেদনকারী পোস্টাল অর্ডারের জন্য ভিড় জমাতে দেখা যায়।
তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি গ্রাম থেকে আসা নাইম ইসলাম বলেন, ‘আমি অনেক দূর থেকে পোস্টাল অর্ডার নেয়ার জন্যে এসেছি। কিন্তু পোস্টাল অর্ডার পাইনি। এখনও আমি জেলা জজ আদালতে নিয়োগ আবেদন করতে পারিনি।’ বিশ্বম্ভরপুর থেকে আসা শাহান আলম বলেন, ‘দুইদিন ধরে আমি আসা-যাওয়া করছি। কিন্তু পোস্টাল অর্ডার পাইনি।’
মান্নারগাঁও থেকে আসা চন্দনা সরকার বলেন, ‘আমরা মেয়ে মানুষ সকাল থেকে অপেক্ষা করছি। পোস্ট অফিসের লোকজন আমাদের সাথে ধোঁকাবাজি করছে। তারা বিভিন্ন দোকানদারের কাছে আগেই পোস্টাল অর্ডার বিক্রি দিয়েছে।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা গ্রাম থেকে আসা রাব্বি আহমদ বলেন, পোস্ট অফিসের লোকজন তিনদিন যাবৎ আমাদেরকে পোস্টাল অর্ডার দেই দিচ্ছি করছে। কিন্তু পোস্টাল অর্ডার দেয়নি।’
প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার বিমল চন্দ পুরকায়স্থ বলেন, ‘অনেক আগেই প্রধান হিসাব রক্ষকের কাছে চাহিদা পাঠিয়েছি। শনিবার থেকে বারবার যোগাযোগ করেছি। আমরা ২১ জুলাই দুপুরের দিকে পোস্টাল অর্ডার পেতে পারি।’
উল্লেখ্য, জেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জজ আদালতে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ করা হবে। আবেদন জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২১ জুলাই ধার্য্য করা হয়েছে।