সুনামগঞ্জ পৌরসভায় রাস্তা-ঘাটের সংস্কার ও মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। নতুন ড্রেনও নির্মিত হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন। কাজের স্বার্থে সাময়িকভাবে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যৌক্তিক। এতে জেলা শহরের খোলা সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে অনেক বেশি। ওইসব সড়ক দিয়ে চলাচল করাই এখন দুরূহ হয়ে উঠেছে। প্রচ- যানজট তৈরি হতে দেখা যায় এসব সড়কে। অত্যধিক যানবাহন চলাচল ও যানজটের কারণে পথচারীদের ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষ করে নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের ঝুঁকির মাত্রা বেশি। যেসব সড়কে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে সেসব সড়ক ধুলিকাকীর্ণ হয়ে জনদুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। ধুলা এমনিতেই শহরের একটি বড় নাগরিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এই ধুলা ও ময়লা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। উন্নয়ন কাজের ফলে এর প্রকোপ এখন অনেক বেড়ে গেছে। এদিকে বৃষ্টিপাতের মৌসুম সমাগত প্রায়। ইতোমধ্যে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনায় উন্নয়ন কাজের সবচাইতে উৎকৃষ্ট সময় হলো সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। কারণ ওই সময়ে বৃষ্টিপাত থাকে না। কিন্তু পৌরসভার মূল কাজ শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে। তাই আশঙ্কা রয়েছে এই কাজ বৃষ্টির মৌসুম শুরুর আগেই শেষ হয় কিনা তা নিয়ে। বৃষ্টি শুরু হলে কাজের গুনগত মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে, অন্যদিকে মানুষের দুর্ভোগও বেড়ে যাবে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে। কিন্তু সরকারি কাজের যে পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া রয়েছে তা অনুসরণ করতে যেয়ে ইচ্ছা থাকলেও সময়মত কাজ শুরু করার অবকাশ কম। ফলে কেন আরও আগে কাজ শুরু করা গেল না সে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করার সুযোগ নেই। তবে যে কথাটি অবশ্যই বলা উচিত তা হলোÑ কাজের গতি বাড়িয়ে দ্রুত কাজ শেষ করা। এতে মানুষের কষ্ট ভোগের মেয়াদ কমবে। এটি কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।
এখন যে গতিতে কাজ চলছে তা একেবারেই মন্থর বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। ছোট্ট একটি রাস্তার বিটুমিনের কাজ দুই সপ্তাহেও শেষ করা যাচ্ছে না। উন্নত ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্য হলোÑ মান বজায় রেখে স্বল্পতম সময়ে তা শেষ করা। বিশেষ করে জনগণের চলাচলকারী সড়কের ক্ষেত্রে এই গতি বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। এক্ষেত্রে কাজের ঠিকাদারদের বেশি করে শ্রমিক নিয়োগ অথবা প্রচলিত যন্ত্রাদি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজের গতি বাড়াতে হবে। যত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ হবে তত তাড়াতাড়ি স্বস্তি পাবে পৌরবাসী। আমরা আশা করব সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।