বিশেষ প্রতিনিধি
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে সুনামগঞ্জ শহরের পৌর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে এক কমিটির প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আরেক কমিটি।
এক কমিটির সভাপতি অ্যাড. জাফরান কুসুম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজু। অন্য কমিটির সভাপতি বিকাশ কান্তি দে বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান সাজিদ। পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষ নিজেদেরকেই বৈধ বলে দাবি করছেন।
বিকাশ দে ও সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বাধিন কমিটি পৌরসভা অডিটরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। এই পক্ষের কর্মসূচি শহরে মাইকিং করে জানানো হয়েছে বুধবার। অন্যদিকে জাফরান কুসুম ও মলয় চক্রবর্তীর নেতৃত্বধীন কমিটি আজ জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সাথে দলীয় কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের
সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এক সপ্তাহ আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি পৌর আওয়ামী লীগের বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। বিকাশ কান্তি দে বাবুলকে সভাপতি ও সাজিদুর রহমান সাজিদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। গণমাধ্যমে কমিটি গঠনের সংবাদ প্রকাশিত হয় ২১ ফেব্রুয়ারি।
কিন্তু পূর্বের কমিটির সভাপতি অ্যাড. জাফরান কুসুম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজুর দাবি তাদের কমিটি বাতিল হয়নি। এখনও বহাল আছে, তাদের কমিটির বাইরে আর কোন কমিটি নেই।
নতুন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান সাজিদ বলেন,‘ জাফরান কুসুম ও মলয় চক্রবর্তীর কমিটি বাতিল করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট আমাদের কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। কমিটি গঠনের পর থেকে পৌর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল হিসাবে আমরাই সকল কর্মসূচি পালন করছি। আজকে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসাবে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়ুব বখত জগলুল উপস্থিত থাকবেন। আমাদের কমিটির বাইরে আর কোন পৌর আওয়ামী লীগ নেই।’
এদিকে অন্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজু বলেন,‘আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রেসক্লাবে দলের প্রতিষ্ঠাবাষির্কী পালনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। আমরা জেলা আওয়ামী লীগের সাথে সকল কর্মসূচি পালন করব। পৃথকভাবে পৌর আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচি নেই। আমরা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। আমাদের কমিটি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের কমিটি। এর বাইরে পৌর আওয়ামী লীগ বলতে কোন কিছু নেই। জেলা আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় কর্মসূচির দাওয়াত শাখা সংগঠনের দায়িত্বশীল হিসাবে আমরাই পাচ্ছি। ’
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট বলেন,‘ কুসুম ও রাজুর কমিটির মেয়াদ ১২-১৩ বছর ছিল। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে আমি ও সভাপতি মতিউর রহমান নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছি।’