পুলক রাজ
পৌর এলাকার বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। একইসঙ্গে তীব্র পানির অভাবও পরিলক্ষিত হচ্ছে। একে তো বিশুদ্ধ পানির সংকট তার ওপর পানির অভাব এ দুইয়ে মিলে পৌরবাসী কী পরিমাণ যন্ত্রণার মধ্যে দিনযাপন করছেন, তা সহজেই অনুমেয়।
দীর্ঘ চার বছর ধরে পৌরসভা থেকে বলা হচ্ছে বিশুদ্ধ পানির জন্য নতুন ট্যাংকি চালু হতে যাচ্ছে। পানির কোনো সমস্যা থাকবে না। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন ট্যাংকি চালু হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে কোনো সমাধান পাচ্ছেন না পৌর নাগরিকরা।
পৌর শহরের উকিলপাড়া, ষোলঘর, নতুনপাড়া, শহিদ আবুল হোসেন রোড, মধ্যবাজার, হাজীপাড়া, হাছননগর, জামতলা, আরপিননগর, তেঘরিয়ায় পানির মারাত্মক সংকট রয়েছে। অনেক এলাকায় পানি আসলেও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে ব্যবহার করা যায় না। সাপ্লাইর পানি নামে মাত্র সরবরাহ করা হয়।
জানা যায়, প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক সাপ্লাইর পানি নিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গত কয়েক বছর ধরে। ২০১৫ সাল থেকে পৌরসভার নতুন ট্যাংকির কাজ শুরু হয়েছিলো। এখনও শেষ হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন আরো ৮ মাস লাগবে নতুন ট্যাংকি চালু হতে।
নতুনপাড়ার বাসিন্দা নিরঞ্জন দে বলেন, গত ৪ দিন যাবৎ আমাদের নতুনপাড়ায় সাপ্লাইর পাইপ দিয়ে আসছে না বিশুদ্ধ পানি। অথচ মাসে মাসে টাকা দিতে হয় এজন্য।
পানির জন্য মাসে মাসে বিল দিয়ে মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। পানি নিয়ে দুর্ভোগ কমাতে হলে কর্তৃপক্ষকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে বলে
মনে করেন পৌর নাগরিকরা।
রফিক আহমদ বলেন, গত দুই বছর ধইরা শুইন্না আইরাম পানির নতুন ট্যাংকি চালু হবে।
তেঘরিয়ার বাসিন্দা আবিদা খাতুন বলেন, বড় ধরনের পানি সংকটের মুখোমুখি আমরা। পৌরসভার কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়ে এলেও সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না।
উকিলপাড়ার বাসিন্দা রাশিদা সুলতানা বলেন, পানি ছাড়া কি চলা যায়? অনেক সময় এক ফোঁটা পানিও আসে না। আবার অনেক সময় ময়লা পানি আসে সাপ্লাইর পাইপ দিয়ে।
পৌরসভা পানি সরবরাহ শাখার তত্ত্বাবধায়ক বজলুল হক বলেন, আগামী আট মাসের মধ্যে পৌরসভার নতুন সাপ্লাইর ট্যাংকি চালু হতে পারে। নতুন ট্যাংকি চালু হলে জনগণ বিশুদ্ধ পানি পাবে। তখন আর কোন সমস্যা হবেনা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, পানির সাপ্লাইর নতুন ট্যাংকির কাজ শেষ হতে আরো দুই থেকে তিন মাস লাগবে। হাছননগরে ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্টের কাজ শেষ হয়েছে। স্টেডিয়ামের ও হাছননগরের দুটি ট্যাংকির পানি ধারণ ক্ষমতা যথাক্রমে ছয় লক্ষ আশি হাজার লিটার ও তিন লক্ষ ৫০ হাজার লিটার। এদিকে কাজির পয়েন্টে পল্টুনের কাজ চলছে।