বিন্দু তালুকদার
অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বোরো মওসুমে সুনামগঞ্জের বৃহৎ হাওরগুলোর পানি আশানুরূপ কমছে না। যার ফলে পিছিয়ে যাচ্ছে বোরো চাষাবাদ। কৃষকরা শংকায় ভোগছেন সময়মত হাওরে ধান রোপন করতে পারবে কিনা এ নিয়ে।
অসময়ে বৃষ্টিপাত ও হাওর থেকে ধীর গতিতে পানি কমায় চলতি মওসুমের শুরু থেকেই বোরো চাষাবাদে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। অন্য বছর এই সময় (পৌষ মাস) ধান রোপনের কাজ জেলা জুরে শুরু হলেও চলতি বছর দেরি হচ্ছে।
গতকাল বুধবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলার বৃহৎ হাওরগুলোতে অন্য বছরের তুলনায় অনেক পানি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। হাওরের এই পরিস্থিতে কৃষকদের পাশাপাশি অন্যান্য পেশাজীবী লোকজনও সঠিক সময়ে বোরো চাষাবাদ নিয়ে শংকায় রয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতক-দোয়ারার দেখার হাওর, সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওর, বিশ্বম্ভরপুরের আঙ্গারুলি সোনার হাওর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাংহাই ও খাই হাওর, দিরাই উপজেলার বৃহৎ হাওর হিসেবে পরিচিত কালীকুটা, চাপতি, টাংনি, বরাম (দিরাই অংশ), শাল্লা উপজেলার ছায়া, বরাম (শাল্লা অংশ) ও
চাপতার হাওর, জামালগঞ্জের পাগনা, মিনি পাগনা, বৃহত্তর পাগনার পূর্ব অংশ, হালি, ছনুয়া, মহালিয়ার হাওর, তাহিরপুরের শনি, মাটিয়ান, সমসার হাওর, বর্ধিত গুরমার হাওর, জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া ও মইয়ার হাওর, ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার তাল, ধারাম, সোনামড়ল, ধানকোনিয়া, ধয়ধোনা, টগা, মধ্যনগরের ঘোরাডুবা, গুরমা, কাইলানীসহ আরো কিছু হাওরের পানি এখনও আশানুরূপ কমছে না। এসব হাওরে এখন অনেক পানি রয়ে গেছে। কোন কোন হাওরে এত পানি রয়েছে; যেখানে ছোট ছোট নৌকা অনায়াসে চলাচল করছে।
ধর্মপাশার জয়শ্রী ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারি কর্মকর্তা প্রদীপ রঞ্জন দেব সোমবার দুপুরে নিজের ফেইসবুকে হাওরের পরিস্থিতি নিয়ে লিখেছেন,‘ প্রকৃতির অন্যরূপ দেখা যাচ্ছে। ধারাম হাওরের দৃশ্য দেখে অবাক হলাম। এখানে তিন বছর কাটালাম এমন অবস্থা আগে দেখিনি। এমন সময় সিংহভাগ বোরো জমি ভেসে যেত। অনেক জমি রোপন করা চোখে পড়তো। এখন দেখা যায় পানি সঠিক মাত্রায় না কমায় যে জমি আগে রোপন হওয়ার কথা তা এখনও পানির নীচে। অনেকে ধান গাছের চারা জোগাড় করে আছেন কিন্তু রোপন করার মত জমি আজও ভেসে উঠেনি। এমন অবস্থা অতীতে দেখেন নাই বলে সবাই একবাক্যে বলছেন।’
জয়শ্রী গ্রামের বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকি বলেন,‘ নদীর ও হাওরের দু’টোর পানি কমছে না। যার কারণে ধান রোপনে দেরি হচ্ছে। ধারাম ও সোনামড়ল হাওরের কিছু কিছু জায়গায় এখন নৌকা চলে। ’
শাল্লার ছায়ার হাওরপাড়ের আনন্দপুর গ্রামের কৃষক কালাই মিয়া জানান, এখনও হাওরে অনেক পানি রয়েছে। পানি খুব ধীর গতিতে কমছে । জমিতে ধান রোপন করার সময় চলে যাচ্ছে। অসময়ে বৃষ্টি হওয়ায় চারাও ভাল করে তোলা যাচ্ছে না।
জামালগঞ্জের লম্বাবাঁক গ্রামের স্বাবলম্বী কৃষক দিলোয়ার হোসেন জানান, গত বছর এই সময়ে হালির হাওরে পুরোদমে ধান রোপন শুরু হয়েছিল। কিন্তু এই বছর পানিই কমছে না। হাওরের মাঝের জমি ভাসতে আরও ১৫-২০ দিন সময় লাগতে পারে।’
মধ্যনগরের চামরদানী ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না বলেন, ‘ হাওরের পানি সময়মত না কমায় কৃষকরা খুবই চিন্তিত। জমিতে ধান রোপনের সময় অন্তত ১৫-২০ দিন পিছিয়ে যাবে।’
সুনামগঞ্জ পাউবোর পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুঁইয়া বলেন,‘পলি পড়ে নদী-নালার তলদেশ অনেক ভরাট হয়েছে। যার কারণে হাওরের পানি হ্রাস পেতে কিছুটা সময় লাগছে। গত কয়েকদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায়ও পানি কম কমেছিল, এখন হাওরের পানি কমছে।’