- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

পৌষের রাতে হঠাৎ বৃষ্টি

স্টাফ রিপোর্টার
বুধবার দিনের সকালটি শুরু হয় কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া দিয়ে। সকাল ৯ টা ১০ টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেনি। সকলেই মনে করেছিলেন শীত বুঝি জাঁকিয়ে বসতে চলেছে। কিন্তু দিনের কুয়াশা ততটা গাঢ় হয়ে উঠেনি। কোন শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়নি সুনামগঞ্জ অঞ্চলে। তাই শীতের তীব্রতাও ছিল না ওতটা। কিন্তু রাতের হঠাৎ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা ভুলেও মনে হয়নি কারও। সকলের অজান্তেই আষাঢ়ের মতো অবিরল বর্ষিত হলো পৌষের রাতে বৃষ্টির অবিরল ধারা। রাত ৮ টা থেকে সশব্দ বজ্রপাত দিয়ে বৃষ্টির শুরু। বেশ ভারী বর্ষণ। এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত (রাত পৌনে নয়টা) একইরকম চলছিল বর্ষণ। বর্ষণের মাঝেই হালকা শিলাপাতও হয়ে গেলো। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কোন আগাম বার্তা ছিল না। তাই কেউ প্রস্তুত ছিলেন না এমন অবাঞ্ছিত বৃষ্টির। তবুও বৃষ্টি দেখে অনেকেই খুশি। শহরের সড়ক থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও ধুলির আস্তরণ ধুয়ে যাবে। সড়কের ধুলিতে অতীষ্ট হয়ে উঠেছিলেন শহরবাসী। সেই যন্ত্রণা থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়ার এই বৃষ্টি তাই অনেককেই করেছে প্রসন্ন। বুধবার রাতের বর্ষণের ফলে শীত বাড়বে বলে অনেকেই মনে করছেন। তাই শীতপ্রিয় কেউ কেউ লেপ মুড়ি দিয়ে আরাম ঘুমের সুখস্বপ্নে বিভোর হয়েছেন নিশ্চয়ই। তবে শীতকালীন সবজি চাষীদের জন্য এই আকষ্মিক বৃষ্টিপাত সর্বনাশের কারণ হয়ে উঠতে পারে। নভেম্বরের বৃষ্টিতে এক দফা ক্ষতি হয়েছিল শীতকালীন সবজির। বুধবারের বৃষ্টি আবার সেই ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। নভেম্বরের বৃষ্টির কারণে পুরোপুরি মৌসুম শুরু হলেও বাজারে এখনও শীতের সবজির আমদানি চোখে পড়ার মত নয়। দামও অন্যান্য বছরের এই সময়ের তুলনায় বেশি। বুধবার রাতের বৃষ্টি শীতের সবজির জন্য কিছুটা হলেও হুমকি হবে নিঃসন্দেহে।
তবু শুষ্ক প্রকৃতিতে বৃষ্টির ফোটা অন্যরকম ভাল লাগার মতো। সেই অন্যরকম ভালবাসা নিয়েই পৌষের এই বর্ষণ সকলকে একটুখানি হলেও আর্দ্র করে দিয়েছে। ঠিক কত মিলমিটার বৃষ্টি হয়ে গেল গত রাতে তার হিসাব জানা যায়নি। তবে ঘণ্টাখানেক অবিরল ঝরলে ঠিক কতটা বৃষ্টিপাত হয় তা মেঘমল্লারের এই দেশের সকলেই জানে। এইসব হিসাব নিকাশের বাইরে পৌষের বৃষ্টির অনুভূতি একেবারেই ভিন্ন আমেজের। সেই আমেজের ব্যাখ্যা দেয়ার মত শব্দের মজুদ এই প্রতিবেদকের কিবোর্ডে নেই। তবে কারও কারও আফসোস থাকবেই। একটুখানি আগে জানান দিলে রাতের পাতে কেউ কেউ খিচুরি রাখতেন নিঃসন্দেহে। সাথে ইলিশ না হলেও ডিম ভুনা থাকলেও আপত্তি থাকত না কারও। তবে আর কী করা। জীবনের সকল কিছু পরিপূর্ণ হয় না। পৌষের এই বৃষ্টিমুখর রাতটিও না হয় হলো এমনই।
শেষে একটু বলি, বিদ্যুত কিন্তু রসিকতা করতে ছাড়েনি। বৃষ্টির আঁচ পেয়েই তিনি মুখ লুকালেন। যেন বা বৃষ্টি বাদল বিদ্যুতের ভাসুর বউ। মুখ দেখা মানা। তাই বৃষ্টির শেষ যেমন দেখা হল না প্রতিবেদকের তেমনি সৌভাগ্য হল না বৈদ্যুতিন আলোর রূপচ্ছটায় বসে বৃষ্টি বন্দনা করার বা বৃষ্টি-সন্দেশ রচনার।
রাতে সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবু সাইদ জানিয়েছেন, এই মেঘ আরব সাগর থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে সিলেটের আংশিক এবং ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের আংশিক এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বৃষ্টি থাকবে না। তবে শনিবার থেকে শীতের তীব্রতা বাড়বে।

  • [১]