- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

প্রকৃত শীতার্তদের শীতবস্ত্র সহায়তা দিতে এগিয়ে আসুন

গত তিন দিন ধরে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। শীতের এই তীব্রতা কম-বেশি ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শীতকাল সংকুচিত হলেও অন্তত দুই/তিন মাস এটি প্রলম্বিত থাকেই।  তীব্র শীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নানাভাবে বিঘিœত হতে শুরু করেছে। কষ্ট বেড়েছে গরিব মানুষের। আমাদের ধর্মপাশা প্রতিনিধির পরিবেশিত সংবাদসূত্রে জানা গেছে, তীব্র শীতে হাওরাঞ্চলের কৃষক-জেলেরা কষ্ট পাচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা হিসেবে যে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে ওখানে, তার পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অনেক কম বলে ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মাপাশার এই অবস্থা মূলত পুরো জেলার সাধারণ চিত্র। এবার অন্যান্য বছরের চাইতে বেসরকারি সংগঠনগুলোর শীতবস্ত্র বিতরণের পরিমাণ একেবারেই নগন্য। বলা যেতে পারে বেসরকারি সংগঠনগুলোর শীতবস্ত্র বিতরণের প্রক্রিয়া এবার শুরুই হয়নি। অথচ শীত আসলে গরিব মানুষজন এই সহায়তার আশায় বসে থাকেন। আমরা আশা করছি, শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের শীতবস্ত্র বিতরণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে।
শীতবস্ত্র বিতরণের বিষয়টিকে অনেকে নিছক প্রচারসর্বস্ব বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁরা জেলা সদর কিংবা উপজেলা সদরে কিছু লোক জড়ো করে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এঁরা গ্রামাঞ্চলে যান না। গ্রামাঞ্চলে না যাওয়ার কারণে জেলা/উপজেলা সদরের কাছাকাছি অবস্থান করা কিছু লোক একাধিকবার এই সহায়তা পেয়ে থাকেন। এর ফলে গ্রামের প্রকৃত শীতার্তরা সহায়তার শীতবস্ত্র পান না বললেই চলে। তাই শীতবস্ত্র বিতরণকারী ব্যক্তি ও সংগঠনকে তাঁদের এই মহৎ কর্মকা-কে গ্রামাঞ্চলে নিয়ে যেতে হবে। একটু কষ্ট হলেও এতে করে তাঁদের দানশীলতা প্রকৃত অর্থেই মহৎ কর্মকা-ে পর্যবসিত হবে। আর প্রকৃত লোকজনকে সহায়তা দেয়ার যে নির্মল আনন্দ ও তৃপ্তি সেটিও তারা এই প্রক্রিয়ায় পেতে পারেন।  
শীতবস্ত্র বিতরণের কর্মসূচিকে অনেকে নিছক প্রচার-প্রচারণার উপলক্ষ বানিয়ে ফেলেন। প্রকৃত সমাজসেবকরা কখনও এরূপ প্রচার-প্রচারণার মুখাপেক্ষী থাকেন না। মানবসেবার মাধ্যমে মানুষ অন্তরে বিশেষ ধরনের শান্তি অনুভব করেন। যারা সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তি তাঁদের নিকট সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিরা কিছুটা আশা করেনই। আমরা যে দেশটিতে বসবাস করি সেই দেশটি ধনী-গরিব মিলেই আমরা স্বাধীন করেছি। দেশটি স্বাধীন হয়েছে বলেই আজ অনেকে নানা অর্থনৈতিক কর্মকা- করে বিত্তবান হয়েছেন। সুতরাং দেশের সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি তাঁদের একটি নৈতিক দায়বোধ থেকেই যায়। আমরা চাই ওই নৈতিক দায়বোধের জায়গা থেকে তাঁরা শীতার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন যাবতীয় প্রচারবিলাসিতাকে উপেক্ষা করে। প্রচার এমনিতেই আসবে। কারণ সমাজহিতৈষী কোন কিছুই শেষ পর্যন্ত কারও অজানা থাকে না।
দেশের শীতার্তরা যাতে শীতে কষ্ট না পান সেজন্য দ্রুত সামর্থবানদের এগিয়ে আসার জন্য আমরা আহ্বান জানাই।  

  • [১]