- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

প্রচারণার অভাব, রোগী নেই বৈকালিক চেম্বারে

সাইদুর রহমান আসাদ
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের বৈকালিক চেম্বারের টিকিট কাউন্টারে নেই রোগীদের ভিড়। চিকিৎসকদের কক্ষের সামনেও নেই রোগীদের লাইন। চেম্বারে বসে অলস সময় পার করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। বুধবার বিকালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এমনই চিত্র দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচারের অভাবে মানুষ জানতে পারছেন না বিশেষ এই চিকিৎসা সেবার কথা।
গত ৩০ মার্চ থেকে সারাদেশের মতো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চালু হয়েছে চিকিৎসকদের বৈকালিক সেবা। এখানে দুইশ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ চারশ’ টাকা ভিজিট দিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পারছেন রোগীরা। রয়েছে আধুনিক প্যাথলজি বিভাগ। যেখানে নামমাত্র মূল্য দিয়ে ৩৪টিরও বেশি পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা রয়েছে রোগীদের। তবুও সেবা নিতে নেই রোগী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহে ৬ দিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বৈকালিক সেবা দেন। শনিবার শিশু বিশেষজ্ঞ, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল অফিসার রোগী দেখেন। এছাড়াও রবিবার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার, সোমবার গাইনী বিশেষজ্ঞ, নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল অফিসার, মঙ্গলবার শিশু বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল অফিসার, বুধবার কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ, গাইনী বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল অফিসার এবং বৃহস্পতিবার দন্ত বিশেষজ্ঞ, সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল অফিসার চেম্বার করেন।
রিসিপশনের রোগীদের রেকর্ডের তথ্যমতে, ৩০ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হওয়া এই সেবা ৫ এপ্রিল পর্যন্ত (বুধবার) ৬ দিনে মাত্র ৩৪ জন রোগী চিকিৎসকদের বৈকালিক সেবা নিয়েছেন। এরমধ্যে প্রথম দিনে কোনো রোগী সেবা নিতে আসেন নি। দ্বিতীয় দিন ১৫ জন, তৃতীয় দিন ৬ জন, চতুর্থ দিন ৮ জন, পঞ্চম দিন ১ জন ও ষষ্ঠ দিন ৪ জন রাগী চিকিৎসকদের বৈকালিক সেবা নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচারণার অভাবে সাধারণ মানুষ বৈকালিক সেবার কথা জানতে পারছেন না। এতে আগের মতোই বেসরকারি ক্লিনিকের দিকে ছুটছেন রোগীরা। সরকারি হাসপাতালে ৩৪ টিও বেশি নামমাত্র মূল্য দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভুক্তভোগীরা। তাই বেসরকারি ক্লিনিকের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরিচয় দিয়ে পাড়ায় পাড়ায় মাইকিং করে প্রচার প্রচারণা করার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
ওয়াজখালীর বাসিন্দা অনন্ত দাস। ব্যাক পেইন নিয়ে তিনি শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনিস্ট সেন্টারে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। ডাক্তারের চেম্বারের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের আলাপ হয়। সরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বৈকালিক সেবার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি হাসপাতালে প্রাইভেট রোগী দেখেন ডাক্তাররা। সেজন্য সকাল ১০টায় হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তখন কেউ কিছু বলে নি। তাই ডায়াগনিস্ট সেন্টারে ডাক্তার দেখাতে এসেছি।
তিনি জানান, বিকাল ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত রোগী দেখা তথ্যটি জানতেন না তিনি।
তাহিরপুর উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের লাকমা গ্রামের বাসিন্দা মো. সিদ্দিক মিয়া বলেন, সুনামগঞ্জ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় বড় ডাক্তার বসেন আমি জানতাম না। এখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা খুব কম টাকা লাগে। ডাক্তারের ফিসও কম। আমি আজকে জানতে পেরেছি।
পৌরশহরের হাসনগরের বাসিন্দা আব্দুল আহাদ বলেন, আমরা প্রায়ই হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসি। বিকাল ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রোগী দেখেন আগে জানতাম না। আপনাদের মাধ্যমে প্রথম জানতে পারলাম। এখন থেকে বিকালে হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখাবো।
হাজিপাড়ার বাসিন্দা মো. সেলিম আহমেদ বলেন, আমার বুকে সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বসে দেখেছি। এসে দেখি আমি ছাড়া আর কোনো রোগী নেই। এতে আমার কোনো লাইনে দাঁড়াতে হয় নি। কম সময়ে ডাক্তার দেখাতে পেরেছি।
তিনি বলেন, প্রাইভেট চেম্বারে বসা ডাক্তারদের প্রচারণা যেরকম মাইক দিয়ে পাড়ায় পাড়ায় করা হয়, সরকারি সেবার ব্যাপারে সেভাবে প্রচার পায় নি। এজন্য রোগী নেই।
নতুন পাড়ার বাসিন্দা শংকরী রানী দাস বলেন, আমি আজকে তিনশ’ টাকা ভিজিট দিয়ে গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখালাম। খুবই ভালো লেগেছে। প্রাইভেট চেম্বারে রোগীদের লাইন লেগে থাকে। আর এখানে আমি ছাড়া আর কোনো রোগী নেই।
তিনি বলেন, হাসপাতালে এধরণের সেবা যেহেতু প্রথম তাই মানুষের মাঝে প্রচার করতে হবে বেশি করে। এজন্য মাইকিং লিফলেট বিতরণ করতে হবে পাড়া ও বাজারে। এতে রোগীরা হাসপাতালমুখী হবে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ ডা. সুমন রায় চৌধুরী বলেন, আমরা প্রথম থেকেই চিন্তা করছিলাম সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ানো জন্য। এরমাঝেই সরকার বৈকালিক স্বাস্থ্য সেবা চালু করেছে। স্বল্পমূল্যে বিকালে এই সেবার মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের মানুষের খুবই উপকার হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রচারেই প্রসার ঘটবে। রোগীরা এখনও ভালো করে জানে না হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন। আমরা হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার, ব্যানারের মাধ্যমে জনগণকে বৈকালিক চিকিৎসা সেবা জানানো হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আনিছুর রহমান বলেন, আমরা ব্যানার বিলবোর্ড লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি। তবে রমজান মাসের জন্য রোগী কম। রমজান মাস গেলে সেটা বাড়বে।

  • [১]