- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

প্রচারণায় কমেছে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর পৌর নির্বাচনে প্রথম বারের মতো এবার প্রবাসী অংশগ্রহণ কমছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতি ও দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের কারণে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের সরব উপস্থিতি কমেছে।
পৌরবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় স্থানীয় সরকারের নির্বাচন মানেই প্রবাসীদের অংশগ্রহণ। একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় এখনো ৯ জন জনপ্রতিনিধির আটজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী।
পৌরবাসী জানান, ১৯৯৯ সালে জগন্নাথপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠাকাল থেকে পৌর নির্বাচনে প্রবাসীদের আধিক্য দেখা দেয়। মেয়র পদে প্রবাসী প্রার্থীর পাশাপাশি সবকটি নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক প্রবাসী দেশে এসে প্রচারণা চালাতেন। এবার বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রবাসীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এছাড়াও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রবাসী প্রার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে।
১৯৯৯ সালে জগন্নাথপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মুকিতকে পৌর প্রশাসক নিয়োগ করে পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০০ সালে প্রথম পৌর নির্বাচনে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশীদ হিরন মিয়া পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এক মাসের ব্যবধানে তিনি মৃত্যুবরণ করলে উপ নির্বাচনে তার ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মনাফ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে উপজেলা বিএনপি সভাপতি আক্তার হোসেন মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে আবারো যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মনাফ মেয়র নির্বাচিত হন। গত বছরের ১১ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করলে ১০ অক্টোবর মেয়র পদে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন যুক্তরাজ্য প্রবাসী অংশ নেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া মেয়র নির্বাচিত হন। দেড় মাসের ব্যবধানে মেয়াদ পূর্তিতে ১৬ জানুয়ারি আবারো পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার ৫ জন মেয়রপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারমধ্যে দুইজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক ফোরাম যুগ্ম আহবায়ক রুমানুল হক রুমেন জানান, জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রবাসী বলে বলিয়ান থাকতেন। এবার তাদের সেই আধিক্য নেই। প্রবাসী প্রার্থীদের সমর্থনে তাদের আত্মীয় স্বজন শুভানুধ্যায়ীরা দেশে এসে প্রচারণায় নামতেন। নির্বাচনী প্রচারণায় কালো টাকার খেলাও জমে উঠতো। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার প্রবাসীরা আসতে পারছেন না। নেই টাকার খেলা।
জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রবাসীরা পরিবার সামাজিক ও মানবিক কাজে ভূমিকা রাখেন। তাই নির্বাচনে তাদের প্রভাব থাকে। নির্বাচন কে একটা উৎসব হিসেবে দেখে প্রবাসীরা দলবেঁধে দেশে আসতেন। এবার করোনার কারণে প্রবাসীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নেই।
আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া জানান,করোনা না হলে তার ভাই, বন্ধু আত্বীয় স্বজন কমপক্ষে ১০-১৫ জন প্রবাস থেকে দেশে এসে প্রচারণায় নামতেন। যুক্তরাজ্যে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে কেউ আসতে পারেননি।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী আমজদ আলী শফিক বলেন, আমার অনেক নিকট আত্মীয় ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও প্রবাস থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় আসতে পারছেন না।
হবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন বলেন, জগন্নাথপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করার ইচ্ছে নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসেছিলাম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচন থেকে বিরত রয়েছি।

  • [১]