- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

প্রতারিত হচ্ছেন কৃষক

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
‘ধান ফালাইলাম জালা তো অইলো না। জালার চারও তো আর নাই কিছু যে ফালাইমু। ধান তো ফালাইছি হিসাব কইরা, এখনতো মনে অইতাছে জালায় টান পরবো।’ (স্থানীয় ভাষায় জালা মানে ধানের চারা, বীজতলা) শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক মাহমুদুল হাসান শুক্রবার সকালে হাওরে তার ধানের চারা জমি দেখে বাড়ি ফিরতে ফিরতে এ কথাগুলো বললেন একাধিক লোকজনের কাছে। শুধুমাত্র মাহমুদুল হাসান নয় একই রকম আক্ষেপের সুর শনির হাওরের কৃষক উজান তাহিরপুর গ্রামের নুরুল হুদার। তিনিও জানান, ব্রি-ধান ২৮ ও ব্রি-ধান ২৯ বীজ ধান এ বছর গজিয়েছে কম। ফলে হিসেব করে বীজতলাতে ধান বপন করলেও বোর রোপন মৌসুমে হয়তো তাদের আরও ধানের চারা কিনতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রি-ধান ২৮, বি-ধান-২৯ সহ বিভিন্ন জাতের বীজ ধান উপজেলার ৭ ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট বাজরে বিক্রি করছেন বিএডিসির নিযুক্ত ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা। কৃষকরাও স্থানীয় বাজার থেকে বীজ ধান ক্রয় করছেন বিএডিসির নিযুক্ত বীজ ডিলার ও বীজ বিক্রেতাদের কাছ থেকে।
কৃষকদের অভিযোগ, বিগত বছর তারা প্রতি ১০ কেজি বস্তা ব্রি-ধান ২৮ ও ২৯ ধান কিনেছেন ৩শ ৫০ টাকা দিয়ে। চলতি বছর তারা স্থানীয় বাজার তাহিরপুর, বালিজুরী, বাদাঘাট, শ্রীপুর বাজার থেকে ব্রি-ধান ২৮ ধান ক্রয় করছেন ৪শ ৭০ টাকা এবং      
 ২৯ ধান ক্রয় করছেন ৫শ ৫০ টাকা দিয়ে। তার পরেও তারা ভাল মানের  বীজ পাচ্ছেন না। ফলে বিগত বছর ফসল হারানো কৃষকরা স্বপ্ন বুননের পথে নতুন করে আবার হোছট খাচ্ছেন নি¤œ মানের বীজ ধান কিনে।
শনির হাওরপার মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ চলতি বছর ২০ কেয়ার জমিতে বোর ধান রোপন করব। সে হিসেবে বীজ ধান বপন করেছি (৪ মন) ১৬০ কেজি। ধানের মান ভাল না থাকায় ধান কম গজিয়েছে । চারা ধানে সম্পূর্ণ জমি রোপন করতে পারব কিনা এ নিয়ে সন্দেহ আছে।’  
তাহিরপুর সদর বাজারের বীজ  ডিলার সমীরণ রায় বলেন, ‘আমাদের কাছে কোন কৃষক অভিযোগ নিয়ে আসেনি। আমরা প্রথম দিকে একটু বেশী করে বীজ ধান এনেছিলাম পরবর্তীতে আর আনিনি।’
তাহিরপুর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র পাল বলেন, ‘প্রতিটি ধানের বস্তার প্যাকেটে নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুসারে ধান প্রক্রিয়জাত করলে সম্পূর্ন ধান গজানোর কথা।’
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুস ছালাম বলেন, ‘দু’একজন কৃষক আমাকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন।’
সুনামগঞ্জ জেলা বিএডিসি বীজ কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন বলেন, ‘ক্রাইসিস মুহূর্তে ভিন্ন পন্থায় কিছু বীজ ঢুকে স্থানীয় বাজারে। বিএডিসি যে সমস্ত বীজ সরবরাহ করে ডিলারদের মাধ্যমে তা ঠিক আছে। এর পরেও আমি মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’

  • [১]